onlineonline-business

ভিসা কার্ড মাস্টার কার্ড কি এবং পার্থক্য কি

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা কেমন আছেন আপনারা সবাই ? আশা করি অনেক ভাল আছেন। আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি, পবিত্র রমজান মাসের শুভেচ্ছা। আজকে আমি আপনাদের মাঝে যে বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে আসলাম, সেটা হচ্ছে ভিসা কার্ড এবং মাস্টার কার্ড সম্পর্কিত। আপনাদের মাঝে এমন অনেক প্রশ্ন থাকে ভিসা কার্ড মাস্টার কার্ড জিনিসটা কি?

এবং এই জিনিসটা কোথায় কোথায় ব্যবহার করা হয় এদের মধ্যে পার্থক্যটা কি? আমরা কোন কাজে কোনটা ব্যবহার করতে পারি। আজকে আপনাদের মাঝে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলার চেষ্টা করব যত প্রকার সমস্যা বা মনের ভিতরে যত প্রশ্ন আছে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

ভিসা কার্ড মাস্টার কার্ড এর পার্থক্য নিয়ে আলোচনা:

ভিসা কার্ড এবং মাস্টারকার্ড জিনিস দুইটা বাকি মূলত এদের কোম্পানির নাম অনুযায়ী এদের নামকরণ করা হয়েছে। ভিসা কম্পানি দ্বারা পরিচালিত এবং ভিসা নেটওয়ার্কের সাথে সম্পর্কিত যে লেনদেন সংঘটিত হয় তা ভিসা কার্ডের মাধ্যমে হয়। এবং মাস্টার কার্ড যে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয় সেটিও ওদের নিজস্ব কোম্পানি। সুতরাং আপনারা বলতে পারেন সেই সাপেক্ষে এদের নামকরণটা দুই রকম। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক ব্যাংক মাস্টার কার্ড এবং ভিসা কার্ড প্রদান করতে সক্ষম। তারা তাদের ব্যাংকের সাথে মাস্টার কার্ড এবং ভিসা কার্ড এর কোম্পানির সাথে চুক্তির মাধ্যমে প্রদান করে থাকে।

অর্থাৎ ভালভাবেই বুঝতে পারার জন্য আপনাদের একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝাই। আপনি ধরুন ঢাকা ব্যাংক থেকে একটি ভিসা কার্ড নিলেন তাহলে আপনি ব্যাংকে এই ভিসা কার্ডের জন্য অবশ্যই পেমেন্ট করেন। এটা কিন্তু আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পেমেন্ট নয় আপনি শুধুমাত্র আপনার ভিসা কার্ডের জন্য পেমেন্ট করছেন।

এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে এই টাকার কিছু অংশ ঢাকা ব্যাংক পাবে এবং বাকি অংশটুকু পাবে ভিসা কম্পানি। আশা করি আপনি বুঝতে পারছেন ভিসা কম্পানি এর কার্ড গুলো কিভাবে বাংলাদেশে মানুষের হাতে হাতে পৌঁছাচ্ছে। মূলত এই কার্ড গুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি দেশের বাহিরে যে কোন ওয়েব সাইট থেকে খুব সহজে বিভিন্ন প্রকার পণ্য কিনতে পারবেন।

ভিসা কার্ড এবং মাস্টারকার্ড এই দুটো কাজেই এই সুবিধাটা রয়েছে এবং এই দুটো কাজই হলো বর্তমান সময়ে ধরতে পারেন দুটো প্রতিদ্বন্দ্বী। অর্থাৎ একজন আরেকজনের প্রতিযোগী। পার্থক্য বেশি কোন কিছু নেই শুধুমাত্র এটুকুই পার্থক্য দুটো নেটওয়ার্ক এর কাজ করি কিন্তু ভিন্ন দুটি নেটওয়ার্ক।

বর্তমানে ভিসা কার্ড এবং মাস্টারকার্ড এই দুটো কার্ডের ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং দিনে দিনে এর চাহিদা অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এবং বাংলাদেশের অনেক ব্যাংক রয়েছে তারা একসাথে ভিসা কার্ড এবং মাস্টার কার্ড দুটোই দিয়ে থাকে। কিন্তু অনেক ব্যাংক রয়েছে শুধুমাত্র ভিসা কার্ড প্রদান করে থাকে কোন প্রকার মাস্টারকার্ড তারা প্রদান করে না।

সুতরাং আপনি যদি চান কোন প্রকার মাস্টার কার্ড বা ভিসা কার্ড নিতে তাহলে অবশ্যই সেই ব্যাংকের সাথে আগে যোগাযোগ করে ভালোভাবে বুঝে নেবেন তারা মাস্টার কার্ড দেয় নাকি ভিসা কার্ড দেয়। এখন আপনার যেটা ভালো লাগে আপনি সেটাই গ্রহণ করতে পারেন। বর্তমান সময়ে ভিসা কার্ডের ব্যবহারকারীর সংখ্যা আনুমানিক ধরতে গেলে 30 মিলিয়নের কাছাকাছি। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এর সংখ্যা অনেক বেশি।

এছাড়াও এদের তথ্যাবলী ভিন্নতা রয়েছে। সুতরাং অবশ্যই বুঝতে পারছেন আপনারা যদি ভিসা কার্ড বা মাস্টারকার্ড নেন অবশ্যই তাদের মধ্যে তথ্যাবলীর কোন পার্থক্য থাকবে। এই পার্থক্য গুলো অনেক কিছু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হল বিন নাম্বার।

দেখুন বিন নাম্বারটি হল এমন একটি নাম্বার যেটির মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন এটা মাস্টারকার্ড নাকি ভিসা কার্ড। ধরুন মাস্টার কার্ড এর সামনে কিছু সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে এবং পরবর্তী সংখ্যা গুলো প্রত্যেকটা কার্ডের সাথে ভিন্ন থাকে।

এছাড়াও ভিসা কার্ড একই রকম কিছু নাম্বার ভিসা কার্ডের শুরুতে একই থাকবে এবং পরবর্তীতে সে নাম্বার গুলো ভিন্নতা থাকবে। এবং ওই একই নাম্বার গুলোকে আপনি একটি কমন নাম্বার বলতে পারেন। যে কমন নাম্বার টি সব ক্ষেত্রেই একই থাকে অর্থাৎ সব কার্ডের ক্ষেত্রে একই।

বর্তমান সময়ে ভিসা কার্ড এবং মাস্টারকার্ড এতোই প্রচলিত হয়েছে যে হ্যাকাররা সব সময় চেষ্টায় থাকে ভিসা কার্ড মাস্টার কার্ড এর তথ্যাবলি হ্যাক করার জন্য। যেহেতু এগুলো সব অনলাইন ট্রানজেকশন এর মাধ্যমে লেনদেন হয়ে থাকে সুতরাং আপনার তথ্যাবলী যদি পেয়ে যায় সেটি দিয়ে আপনার টাকা অনায়াসে নিয়ে নিতে পারবে হ্যাকারদের কাছে। সুতরাং যারা ভিসা কার্ড এবং মাস্টার কার্ড ব্যবহার করছেন তারা অবশ্যই এই বিষয়টা খেয়াল রাখবেন যাতে করে আপনার তথ্যাবলী কোনভাবেই হ্যাকারদের হাতে না পড়ে।

ভিসা কার্ড মাস্টার কার্ড দিয়ে কি কি করা যায়:

আপনারা অনেকেই জানতে চান ভাইয়া ভিসা কার্ড বা মাস্টার কার্ড দিয়ে আমরা কোন কোন জায়গা থেকে কি কি কিনতে পারি বা কোন কোন কাজে ব্যবহার করতে পারি এ বিষয়ে বলার জন্য। অবশ্যই আমি সেই বিষয়ে আপনাদের বলছি। আপনারা প্রথমত যে মুখ্য বিষয় টি দেখতে পাবেন ভিসা কার্ড মাস্টার কার্ড ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সেটি হচ্ছে অনলাইনে কেনাকাটা। এবং বর্তমান সময়ে অনেকেই ভিসা কার্ড মাস্টার কার্ড এর জন্য নিয়ে থাকে যে তারা নিজের খুশিমতো যাতে অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারে।

এবং এই কারণে বর্তমানে বাংলাদেশেও অনেক ই-কমার্স বিজনেস শুরু হয়েছে যাতে করে আপনারা অনেক পণ্য বাংলাদেশে খুব ভালোভাবে পেয়ে যেতে পারেন আপনাদের ভিসা কার্ড মাস্টার কার্ড প্রয়োজন হবে না। সমস্যা নাই সে ক্ষেত্রে আপনারা যদি চান বাংলাদেশেও ব্যবহার করতে পারবেন ভিসা কার্ড মাস্টার কার্ড পেতে কোন সমস্যা হবে না।

ফ্রিল্যান্সিং:

তারপর যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সেটি হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন বা ফ্রিল্যান্সিং কাজের সাথে জড়িত তাদের অবশ্যই একটি মাস্টার কার্ড ভিসা কার্ড থাকা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। কারন আপনারা যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন তারা দেশের বাহিরের বায়ার আছে তাদের সাথে কাজ করেন। এবং তারা যখন প্রেমেন্ট করে অবশ্যই তারা বাংলাদেশের কোন লেনদেন এ পেমেন্ট করবে না। অবশ্যই আপনাদের সেটা ইন্টার্নেশনাল পেমেন্টে যেতে হবে। সে ক্ষেত্রে আপনারা মাস্টার কার্ড এবং ভিসা কার্ড অবশ্যই লাগবে।

এছাড়া আমি একটি জনপ্রিয় মাধ্যম বলে দিয়েছি সেটি হচ্ছে পেইনিওর। বর্তমান সময়ে পেইনিওর। খুবই জনপ্রিয় একটি অনলাইন ট্রানজেকশন মাধ্যমে তাদের জন্য। এবং আপনারা চাইলে খুব সহজেই একটি মাস্টার কার্ড নিয়ে নিতে পারেন এখান থেকে। অবশ্য এজন্য আপনাকে কিছু টাকা প্রদান করতে হবে।

অনলাইন সার্ভিস ক্রয়:

এছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ডোমেইন হোস্টিং কেনা বা বাইরে থেকে কোন সার্ভিস কিনা। অনলাইন সার্ভিসগুলো কেনার জন্য অবশ্যই আপনাকে ভিসা কার্ড মাস্টার কার্ড এর ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া আপনি সার্ভিস গুলো কিনতে পারবেন না যেহেতু সার্ভিসগুলো দেশের বাহিরের সুতরাং সে ক্ষেত্রে অনলাইন ট্রানজেকশনের জন্য অবশ্য এগুলো ব্যবহার করতে হবে।

আমাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সার্ভিস নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে অনেকে ডোমেইন হোস্টিং কিনতে হয়। আবার অনেকে রয়েছেন অনেক ওয়েব সাইটে অনেক কিছু কিনেন সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাদের এগুলো ব্যবহার করতে হবে।

স্মার্ট লাইফ পাওয়ার ক্ষেত্রে:

দেখুন জিনিসটা বর্তমান সময়ে যতটা না প্রয়োজনীয় তার চেয়ে অনেকটা বেশি দরকারি হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি কারণে। দেখা যাচ্ছে আমাদের প্রায় সকলেরই ভিসা কার্ড মাস্টার কার্ড রয়েছে এবং সকলেই খুব সহজেই কেনাকাটা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ গুলো খুব সহজেই করতে পারছে। এক্ষেত্রে আমাদের লাইফ স্টাইল এর উপর খুব বড় একটি প্রভাব পড়েছে।

আমাদের লাইফস্টাইল আরো অনেক বেশি সহজ করার জন্য ভিসা কার্ড মাস্টার কার্ড এর তুলনা হয়না। কারণ আপনি ভেবে দেখতে পারেন পকেটে অনেক টাকা নিয়ে ঘোরার প্রয়োজন পড়ে না। আপনি চাইলে খুব সহজেই আপনার ব্যাংক একাউন্টে টাকা গুলো রেখে মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে বা ভিসা কার্ডের মাধ্যমে খুব সহজে ব্যবহার করতে পারছেন টাকাগুলো।

আমরা যদি একে চিন্তা করি তাহলে আমাদের জীবন যাপনকে আরো সহজতর করে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে ভিসা কার্ড এবং মাস্টারকার্ডের পার্থক্যটি আপনারা বেশি একটা উপলব্ধি করতে পারবেন না।

সুতরাং আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এত বেশি একটা পার্থক্য ভিসা কার্ড মাস্টার কার্ড এর মধ্যে নেই শুধুমাত্র তাদের নেটওয়ার্কের একটু পার্থক্য রয়েছে। যে কাজগুলো ভিসা কার্ড মাস্টার কার্ড করে থাকে সেগুলো প্রায় সব একই। সুতরাং আপনারা আপনাদের পছন্দের মত যে কোন কাঠ ব্যবহার করতে পারবেন। ধন্যবাদ সবাইকে ভালো থাকবেন আসসালামু আলাইকুম।

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/myblogbd/public_html/wp-includes/functions.php on line 5279