দক্ষিণ মেরু অভিযান-বরফে ঘেরা রহস্যময় দক্ষিণ মেরু

প্রকৃতির দ্বারা দেওয়া সবথেকে বড় উপহার দিন ও রাত । যার অনুকূলেই পৃথিবীর সকল জীব পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারে । কারণ প্রকৃতি যদি পৃথিবীতে দিন আর রাতের মধ্যে একটি না দিত তাহলে হয়তো পৃথিবীর পরিস্থিতি আজ এমন হত না যেমনটা আজকের আমরা দেখতে পাচ্ছি । এই প্রশ্নের উত্তর আমরা পৃথিবীতে অবস্থিত একটি জায়গা থেকেই ধারনা করে নিতে পারি । যার কাছে এই প্রশ্নের উত্তরের সাথে সাথেই এমন পরিস্থিতিও আছে যেটা জানলে আফ্রিকার শরীর পুড়িয়ে দেওয়ার মত ভীষণ গরম আর ইউরোপের রক্ত হিম করে দেয়ার মত ঠান্ডাও আমাদের কাছে কম বলে মনে হতে পারে ।

পৃথিবীর সবথেকে আশ্চর্য এবং অবাক করা পৃথিবীর নিচের অংশ south pole  মানে দক্ষিণ মেরু  সম্পর্কে । যেটা পৃথিবীর একটি অংশ বটে কিন্তু এর আবহাওয়া তাপমাত্রা আর দিন-রাত্রের সময়সীমা একে পৃথিবীর অন্যান্য অংশ থেকে একদমই আলাদা করে রাখে । দক্ষিন মেরুতে অবস্থিত বিভিন্ন গবেষণা কেন্দ্র যেখানে গরমের সময় বহু বৈজ্ঞানিকের ভিড় জমে এবং এই এলাকার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে । অন্যদিকে শীত আস্তে না আস্তেই গবেষকদের সংখ্যা মাএ ৫০ থেকে ৬০ এর আশে-পাশেই রয়ে যায় । অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি দক্ষিন মেরু কাজ করার জন্য একদমই অনুকুল থাকে কিন্তু ফেব্রুয়ারি শেষ হতে না হতেই এখানকার তাপমাত্রা এতটাই নীচে নেমে যাই যে এখানে এক মুহূর্ত টিকে থাকা খুবই কষ্টসাধ্য কাজ হয়ে ওঠে । কেবলমাত্র নির্ধারিত কিছু লোকেরাই এখানে থাকতে পারে আর বাকি লোক ফিরে চলে যায় ।

বছরের প্রায় অর্ধেক সময় ঠান্ডা থাকা এই দক্ষিন মেরুর সঙ্গে পৃথিবীর সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । এই পরিস্থিতিতে কোন লোক দক্ষিন মেরু যেমন আসতে পারে না তেমনি এখান থেকে ফিরেও যেতে পারে না । এমনি অসহায় পরিস্থিতিতে ওইসব লোকেদের সময় কেমন ভাবে কাটে এটাতো কেবলমাত্র তারাই জানতে পারে যারা এইসব গবেষণা কেন্দ্র থেকে সাথে যুক্ত আছে । গরম পড়লে যাদের দক্ষিণ মেরুতে আসতে হয় তারা হয়তো সহজেই নিজের ঘরে বসে অপেক্ষা করে নেয় । কিন্তু যেসব লোকেদের এখানে থেকে বছরের অর্ধেক সময় কাটাতে হয় একবার ভেবে দেখুন তাদের জন্য এই কাজ কতটা কঠিন হয়ে ওঠে । আবহাওয়া বদলানোর ভয় আর ঘর থেকে দূরে এই জায়গায় এক একটা দিন হয়তো এক একটা বছর বলে মনে হয় ।

south pole expedition

আপনি যদি সূর্যোদয় দেখতে ভালোবাসেন তাহলে আপনি জেনে অবাক হবেন যে যদি আপনার ভাগ্য কোনদিন আপনাকে দক্ষিণ মেরুতে নিয়ে যায় তাহলে এই সুযোগ কেবলমাত্র বছরে একবারই পাওয়া যায় যখন আপনি সূর্যকে উদয় হতে দেখতে পারবেন । দক্ষিন মেরু নিজের আশ্চর্য ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পৃথিবীর একদম নিচের অংশে অবস্থিত । এমন অবস্থায় সূর্য থেকে আসা আলো যেটা পৃথিবীর সমস্ত জায়গাকে প্রতিদিন আলোকিত করে তোলে ওই আলো দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বছরে কেবলমাত্র একবারেই পৌঁছাতে পারে । দক্ষিণ মেরুতে সূর্যোদয়ের প্রক্রিয়া একটু অন্য রকমের । যেখানে সূর্যের উদয় থেকে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক বছর সময় লেগে যায় । আর এতটাই সময় ঠিক তার উদয় হতে লাগে ।

মানে দক্ষিন মেরুতে একটানা বছরের অর্ধেক সময় রাত এবং অর্ধেক সময় দিন থাকে । প্রায় তিন কিলোমিটার বরফের মোটা চাদরে ঢাকা দক্ষিণ মেরুর এলাকা আর এর উপর তৈরি বরফের ইমারাত প্রতিদিন প্রায় এক ইঞ্চি করে ধ্বষতে থাকে । দক্ষিণ মেরুর একটি আশ্চর্যজনক  তথ্য যেটি শুনলে আপনিও অবাক হতে পারেন । দক্ষিণ মেরুতে কাজ করা গবেষকদের মতানুসারে দক্ষিণ মেরুর নিজের ভৌগলিক পরিস্থিতির কারনে বছরে প্রায় ৯ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নিজের স্থান পরিবর্তন করে ।

যদিও এই প্রক্রিয়াতে ভৌগোলিক দক্ষিণ মেরু কোন পরিবর্তন হয় না । মধ্যাকর্ষন শক্তি কম হওয়ার জন্য এবং পৃথিবীর সবথেকে নিচের অংশ অবস্থান করার কারণে বরফের এই মোটা চাদর নিজের স্থান পরিবর্তন করতে থাকে যাকে আমরা দক্ষিণ মেরুর প্রসরণ বলে থাকি । কিন্তু আজ পর্যন্ত দক্ষিণ মেরু থেকে পাওয়া তথ্য আমাদেরকে উদাস ছাড়া আর কিছুই করেনি । এখানকার রক্ত হিম করা ঠান্ডা বরফের প্রসারণকারি মোটা চাদর আর বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতি যে কোন ব্যক্তির মনোবলকে কমিয়ে দিতে পারে কিন্তু এই দক্ষিণ মেরু এতটা কঠোর হওয়ার শর্তেও নিজের কিছু গুণাবলীল জন্য আমাদেরকে আকর্ষিত করে তোলে ।

সময় সারণী বা Timezone সম্পর্কে তো আমরা সবাই জানি কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন যে পৃথিবীর সমস্ত ২৪-এর Timezone দক্ষিণ মেরুতে এসে মিলে যায় । এই অবস্থায় নুতন বছরে দক্ষিণ মেরুতে উপস্থিত কোন মানুষ সারা দিন নতুন বছর পালন করতে পারবে সেটা আবার অন্য যেকোনো দেশের টাইম জোন অনুসারে । সেটা ভারত-বাংলাদেশ হোক বা অন্য যেকোনো দেশ ।

 

Leave a Comment