পৃথিবীর কিছু আজব রহস্যময় জায়গা

পৃথিবীতে এমন অনেক জায়গা আছে যেগুলি আজও রহস্য ভরা আর এইসব রহস্যগুলিকে বৈজ্ঞানিকেরা আজও উদ্ধার করতে পারেনি । যদিও কিছু জায়গার রহস্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ।

১। দা পেট্রিফাইং ওয়েল (The Petrifying Well)

The Petrifying Well

নর্থ ইয়র্কশিরে (North Yorkshire) ইংল্যান্ড এর নীদ নদীর কিনারায় দৈত্যের মুখের মত দেখতে একটি পাথর থেকে জল পড়ে । এখানকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এই জলের নিচে যে জিনিস রাখা হয় সেটা পাথরে রুপান্তরিত হয় । এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হতে প্রায় দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে । এই ঝরনার নিচে আপনি যদি কোনো জিনিস রেখে যান আর কয়েক মাস পরে ফিরে আসেন তাহলে আপনি ওই জিনিস পাথরের রূপে দেখতে পাবেন । অনেক সময় আগে পর্যন্ত মানুষ মনে করতেন যে আসলে এই জায়গাটি একটি শাঁপিত জায়গা কিন্তু কিছু সময় আগে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে এখানকার জলে সামান্যর থেকে বেশি পরিমানে উচ্চ খনিজ পদার্থ মিশে আছে যার কারনে এই জল যে জিনিসের উপর পড়ে তার উপর কয়েক মাসের মধ্যেই কঠিন খনিজ পদার্থের একটা পাতলা আবরণ তৈরি হয় । যেটা স্পর্শ করলে মনে হয় যে আসলে এটি একটি পাথর ।

২।  দা ইথারনাল ফ্লেম ফলস (The Eternal Flame Falls)

The Eternal Flame Falls

পশ্চিম নিউইয়র্কের চিজনাট রিজ পার্ক (Chestnut Ridge Park)-এ একটি ঝর্ণা বয়ে চলেছে । যেখানে জ্বলতে থাকা একটি আগুনের শিখা দেখা যায় । যে আগুনের রহস্যকে আজও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি । এই আগুনের শিখা ঝর্ণার মাঝে কিভাবে জ্বলছে তা নিয়ে বিভিন্ন গবেষনার পর বৈজ্ঞানিকরা দাবী করেন যে এই ঝরনার পাথরের নিচে থেকে মিথেন গ্যাস বের হচ্ছে যেটা বছরের পর বছর ধরে জ্বলতে পারে । মনে করা হয় বিশ শতকের শুরুতে কেউ হয়তো এই মিথেন গ্যাসে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে আর সেই দিন থেকে আজও এই আগুনের শিখা জ্বলে চলেছে যেটা আজও নেভার নাম নেই না ।

৩। ম্যাগনেটিক হিল (Magnetic Hill)

Magnetic Hil

ভারতের লাদাখে একটি এমন জায়গা আছে যেখানে গাড়ি স্টার্ট না করেই চলতে শুরু করে । মানে গাড়ি যদি নিউটল থাকে তাহলেও চুম্বকীয় টানের ফলে গাড়ি আগে চলতে থাকে । মনে করা হয় সমুদ্রতল থেকে ১১০০০ ফুট উঁচুতে এই পাহাড় বিভিন্ন মেটালসকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে আসে যার কারণে গাড়ি স্টার্ট না করেই পাহাড়ের উপরের দিকে উঠতে থাকে । এই ম্যাগনেটিক হিলে গাড়ি স্টার্ট না করে কেন উপরের দিকে উঠতে থাকে । এর পিছনে কি রহস্য লুকিয়ে আছে তা আজও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ।

৪। পেমুকালে (Pamukkale)

Pamukkale

তুর্কির পেমুকালে অবস্থিত এই জায়গাটি প্রাকৃতির দ্বারা তৈরী একটি আজব রহস্য । এখানে সতেরো রকমের গরম জলের ভান্ডার আছে যা কয়েক হাজার বছর ধরে বয়ে চলেছে । যাকে গরম জলের প্রস্রবন বা Hot water springs বলা হয়ে থাকে । প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি এই সুইমিং পুল কে দেখে মনে হয় যে এই সুইমিং পুল আসলে কোন উন্নত সভ্যতার দ্বারা তৈরি কিন্তু বাস্তবে এখানকার জলে উপস্থিত খনিজপদার্থ যখন বাইরের আবহাওয়ার সংস্পর্শে আসে তখন ক্যালসিয়াম কার্বনেট গঠিত হয় । যেটা কয়েক হাজার বছর ধরে এই সব ঝর্ণার কিনারায় জমা হতে থাকে আর শেষে এই ঝরনা একটি সুইমিং পুলের আকার নিয়ে নেয় । এই জলের তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ১০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায় ।

৫। রেলাম্পাগো দেল কাটাটুম্ব (Relámpago del catatumbo)

Relámpago del catatumbo

ভেনিজুয়েলার দক্ষিণ-পশ্চিম কিনারায় কাটাটুম্ব (Catatumbo) নদীর কাছে মারাকাইবো হ্রদ আর এখানেই প্রতিদিন অথবা বলতে পারেন ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ বা বজ্রপাত ঘটে চলেছে । বজ্রপাতের এই তুফান সারা বছরে একবারও থামার নাম নেই না । এই মারাকাইবো হ্রদের কিনারায় কাটাটুম্ব নদীর মুখে পৃথিবীর সবথেকে বেশি বিদ্যুৎ বা বজ্রপাত ঘটে চলেছে । এটি একটি ঝড়ের মেঘ থেকে ১ কিলোমিটারেরও বেশি উচ্চতায় উৎপন্ন হয়, আর প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বছরে প্রায় ২৮০ বার বজ্রপাত ঘটার রেকর্ট আছে ।

তাছাড়া এখানে প্রতি রাতে ১৪০ থেকে ১৬০ বার থেকে বেশিবার বজ্রপাত হয় । কাটাটুম্ব-এর এই বিদ্যুৎ চমকানোর কারণ বিজ্ঞানীরা আজও উদ্ধার করতে পারেনি । কেন এই একই জায়গায় এতবার বিদ্যুৎচমকায় ? যদিও বিজ্ঞানীরা এর পেছনের একটি কারণ হিসাবে এখানকার জমি আর পাহাড়কে দায়ী করেছেন কিন্তু বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত ভাবে আজও এ সম্পর্কে কিছু বলতে পারেনি ।

এগুলি ছিল পৃথিবীর কিছু আজব রহস্যময় জায়গা ।

Leave a Comment