অনলাইন আয়

কীভাবে ঘরে বসে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে ইনকাম করা সম্ভব

ঘরে বসেই ইনকাম করা সম্ভব এমন পথ খুজে থাকেন অনেকেই। তবে বিষয়টা ততটা সহজ না হলেও একদম অসম্ভব নয়। অনেকেই শুধু মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে ইনকামের স্বপ্ন দেখলেও কীভাবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে সেই সম্পর্কে কিচ্ছুই জানা নেই। এর অনেকটাই কারণ হলো বাংলাদেশে অন্যান্য দেশের মতন ইন্টারেনেট ও টেক রিলেটেড অনলাইন কমিউনিটি তেমন নেই। আবার হাতে গুণে যে কয়েক্টী কমিউনিটি রয়েছে সেখানে সঠিক অভিজ্ঞতার কমতি রয়েছে অনেক। তাই আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর অনেকেই ইন্টারনেট এর বৃস্তিত ব্যবহার সম্পর্কে কিচ্ছুই জানে না। ইন্টারনেট শুধু ওয়েব সার্চ করার জন্য বানানো হয় নি। এটি একটি উদ্দেশ্য যার বাস্তবায়ন করা হয়েছে মানুষদের কল্যাণের জন্য। তাই আপনি যদি ইন্টারনেট কেবল ইউটিউবের ভিডিও, ফেসবুকিং ইত্যাদিমুলক কাজ করার জন্য ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনাকে জানতে হবে যে ইন্টারনেট ও মোবাইল দিয়ে কীভাবে আপনি ঘরে বসে ইনকাম করতে পারবেন।

মোবাইল ও ইন্টারনেট এক্সেস থাকলে আপনার হাতে পুরো বিশ্বের অনেকাংশ জ্ঞান এসে পড়ে। এই জ্ঞান কেই আপনি চাইলে ইনকামে রুপান্তর করতে পারবেন। কিন্তু কীভাবে? তাই জানাতে আমাদের এই আর্টিকেল্টি তৈরি করা হয়েছে। এই আর্টিকেলে সকল দরারি ইনফোরমেশন যুক্ত করা হয়েছে যা আপনার জানা উচিত। তাই অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে একটি সুষ্পষ্ট জ্ঞান জানার ইচ্ছে হলে অবশ্য এই আর্টিকেল্টি সম্পুর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

ইন্টারনেট আমাদের বর্তমান সময়কে অনেক সুবিধার সাথে যুক্ত করে দিয়েছে। অনেক সম্ভাব্য সুযোগ-সুবিধাসহ কর্মক্ষেত্রে নিয়ে এসেছে নতুন সকল প্রক্রিয়া। তাই তো এখন বিশ্বের নামি-দামি কোম্পানিগুলো নিজেদের কাজকে শালীন রাখতে ইন্টারনেট এক্সেস করে থাকে। সুতরাং আপনি যদি মনে করে থাকেন যে ইন্টারনেট কেবলমাত্র ব্রাউজিং, ইউটিউবের ভিডিও দেখা এবং ফেসবুকের নিউজফিড পর্যন্তই সীমাবদ্ধ তাহলে এটা আপনার ভুল ধারণা।

ইন্টারনেট এর মতো মোবাইলের ক্ষেত্রেও একি যুক্তি দেওয়া সম্ভব। কেননা একটি স্মার্টফোন কখনোই ফেজবুকিং ও ইউটিউব ভিডিও দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বর্তমান সময়ের একটি ৪ জিবি কিংবা ৬জিবি র‍্যামের স্মার্টফোন যে কোনো সাধারণ কম্পিউটারগুলো থেকে অধিক স্পীডসম্পন্ন ও উন্নতমানের হয়ে থাকে। সুতরাং এখনকার মোবাইল দ্বারা আপনি অনেক সুবিধার সাথেই নিজেকে যুক্ত করতে পারবেন। আর অনেকগুলো সুবিধার মধ্যে একটি হলো ইনকাম করার সুবিধা। জ্বী! বর্তমান সময়ে আপনি ঘরে বসেই ইনকামের সুবিধা পাচ্ছেন কেবলমাত্র একটি সচল ইন্টারনেট সংযোগ ও স্মার্টফোন ব্যবহারের মাধ্যমে। এটা অনেকের কাছে আশ্চর্য হলেও বর্তমানে এমন্টাই বাস্তবতা।

কীভাবে ঘরে বসে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে ইনকাম করা সম্ভব?

একটি গতিশীল ইন্টারনেট কানেকশন থাকলে আপনার ইনকাম করার সুবিধাটা আরও সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠবে। আর আপনার ব্যবহারের স্মার্টফোনটি যতো উন্নত মানের হবে আপনার কাজের গতিও ততটা বাড়বে। তাই আয় করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার কাছে একটি গতিশীল ইন্টারনেট কানেকশন ও একটি উন্নতমানের স্মার্টফোন রয়েছে।

ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েশন

বর্তমানে কাইনমাস্টার এর মতন অ্যাপ্লিকেশন থাকায় মোবাইল দিয়ে ভিডিও ক্রিয়েটিং ও ইডিটিং অনেকাংশে সহজ হয়ে উঠেছে। এখন আপনি ঘরে বসে আপনার মোবাইল ব্যবহার করেই একটি 1080p HD মানের ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে ফেলতে পারেন অনায়াসে। আর এই সুবিধাকেই কাজে লাগিয়ে ইনকাম করতে পারবেন প্রচুর অর্থ। 

বর্তমানে অনেকেই ইউটিউবিং করে,  অর্থাৎ এমন অনেকে আছেন যারা ইউটিউবে নিজেদের ভিডিও কন্টেন্ট পাব্লিশ করে অর্থ উপার্জন করে। তবে ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করতে অনেক সময় লাগে, আবার অনেকের কাছে ভালো কন্টেন্ট তৈরি করার মতন স্কিল থাকে না। তাই তারা অন্যদের দিয়ে ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করিয়ে নেয়।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আপনি ভিডিও কন্টেন্ট সেল করার সার্ভিস দিয়ে ইনকাম করতে পারবেন। ফেসবুক, ফাইভার, ফ্রিল্যান্সার এর মতন প্ল্যাটফর্ম থেকে আপনি অনেক কাস্টমার পেয়ে যাবেন যারা আপনাকে তাদের চ্যানেলের জন্য ভালো মানের ভিডিও তৈরি করে দেওয়ার জন্য পেয়মেন্ট করবে।

আবার আপনি নিজেও ইউটিউবে একটি চ্যানেল তৈরি করে সেখানে আপনার নিজস্ব ভিডিও আপ্লোড করে উপার্জন করা শুরু করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে নিয়মিত ভালো মানের ভিডিও আপলোড করতে হবে এবং ভিডিও গুলো এমন বিষয়ের উপর তৈরি করতে হবে যেই বিষয়গুলো নেটিজেনরা সচরাচর ইউটিউবে সার্চ করে থাকে।

ইউটিউবে চ্যানেল থেকে আয় করার জন্য অবশ্য আপনাকে ১,০০০ সাবস্ক্রাইবার ও ৪,০০০ ঘন্টা ওয়াচটাইম পুর্ণ করতে হবে। তারপর আপ্নাওএ এ্যাডসেন্স মনেটাইজেশন এর জন্য অ্যাপ্লাই করতে হবে। অ্যাপ্লাই গ্রহণ করা হলে আপনি চ্যানেলে আ্যাডস রান করে ইনকাম শুরু করতে পারবেন।

থাম্বনেইল ডিজাইন

এখনকার মোবাইল দিয়ে খুব সহজেই মানসম্মত ডিজাইন তৈরি করা সম্ভব। আকর্ষণীয় ইউটিউব থাম্বনেইল এর প্রয়োজন হয় অনেকেরই। আপনি যদি ভালো মানের ডিজাইন করতে পারেন তাহলে এই সুযোগের ব্যবহার ইনকাম করার জন্য করতে পারবেন আপনিও।

ফেসবুকে গ্রুপে পোস্ট করে, ফাইভারে গিগ তৈরি করে কীংবা ফ্রিল্যান্সার সাইটে বিড করে কাস্টমার পাওয়া সম্ভব। তবে কাজ পাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে যদি আপনি কিছু স্যাম্পল তৈরি করে রাখেন। অনেক কাস্টমাররা আপনার কাছে আপনার তৈরি করা স্যাম্পল ওয়ার্ক চাইবে। তখন যদি আপনি স্যাম্পল দেখাতে না পারেন তাহলে কাস্টমার আপনার সাথে ডিল করতে চাইবে না। 

আর্টিকেল তৈরি

আর্টিকেল লিখেও যে আয় করা সম্ভব এই বিষয়টা অনেকের কাছেই অজানা। বর্তমানে গুগলের নতন সার্চ ইঞ্জিনে নিজের লেখা আর্টিকেল পাবলিশ করে আয় করছে অনেকেই। তাদেরকে আমরা সহজ অর্থে ব্লগার বলে সম্বোধন করে থাকি। একজন ব্লগার আর্টিকেল পাবলিশ করে মাসিক ৫০,০০০৳ এর বেশিও আয় করতে পারেন। যদিও, একজন ব্লগারের সম্পুর্ণ ইনকাম ডিপেন্ড করে তার আর্টিকেল কত সংখ্যক নেটিজেনরা পড়ছে তার উপর।

ট্রেন্ডিং হচ্ছে এমন বিষয়, অথবা জ্ঞান মুলক বিষয় এমন অনেক বিষয়ের উপর আপনি আর্টিকেল লিখতে পারেন। ভালো মানের আর্টিকেল এর ভ্যালু অনেক। আর্টিকেল লেখার কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এই নিয়মগুলো মেনে আর্টিকেল লিখলে আপনি তা সেল করেও আয় করতে পারবেন। জ্বী! আপনি আপনার লিখা আর্টিকেল সেল করতে পারবেন। তবে অবশ্য আপনার লেখা আর্টিকেল হতে হবে এসইও-ফ্রেন্ডলি(SEO friendly) অন্যথায় আপনার লেখা আর্টিকেল কেওই ক্রয় করতে চাইবে না। কোনো মার্কেটপ্লেস যেমন ফাইভারে যদি আপনি আর্টিকেল রাইটিং সার্ভিস দিয়ে থাকেন তাহলে সেখান থেকে আপনি প্রতিটি ১০০০ শব্দের আর্টিকেল এর জন্য ১০০০৳ এর বেশিও করে নিতে পারবেন। তবে আপনি ফেসবুকে এই সার্ভিস দিলে সেখানে আপনি প্রতিটি আর্টিকেল এর জন্য ৩০০৳-৫০০৳ পর্যন্তই চার্জ করতে পারবেন। 

ভালো মানের আর্টিকেল লিখার টিপ্সঃ

  • একটি আর্টিকেলে সর্বনিম্ন ৫০০ ওয়ার্ড থাকবে এবং সর্বোচ্চ ১০০০ এর বেশিও হতে পারবে।
  • যত বেশি ওয়ার্ড হবে আর্টিকেল তত ভালো মানের হবে।
  • প্রতিটি আর্টিকেলে H1, H2, H3 হেডিং থাকতে হবে।
  • H1 হেডিং কেবলমাত্র একটিই হতে পারবে।
  • প্রতিটি আর্টিকেলে কপি করা এমন কোনো লাইন থাকা যাবে না।
  • একটি আর্টিকেল এর টাইটেল এর উদ্দেশ্য আর্টিকেলের মধ্যে থাকা ওয়ার্ডের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে হবে।
  • আর্টিকেল অবশ্য ইনফরমেটিভ হতে হবে।
  • ভালো মানের আর্টিকেল লিখার জন্য আপনি কীওয়ার্ড রিসার্চ টুলস ব্যবহার করতে পারেন।

শেষ কথাঃ

বর্তমানে ইন্টারনেট কানেকশন ও একটি স্মার্টফোন থাকলে আপনার জন্য ইনকামের নানান উপায় তৈরি করা সম্ভব হবে। তাই ঘরে বসে খালি সময়টুকু নষ্ট না করে তা বিনিয়োগ করে এখনি আয় করা শুরু করে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button