অনলাইন আয়

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বাংলাদেশে, ঘরে বসে আয় করুন ৮০,০০০ টাকা

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কাকে বলে

কোনো কোম্পানির প্রোডাক্ট কে নির্দিষ্ট লিঙ্ক এর মাধ্যমে ডিজিটাল উপায়ে প্রোমোট করা এবং সম্ভাব্য গ্রাহকের নিকট উপস্থাপন করিয়ে দেওয়ার পদ্ধতিকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কাকে বলে। এটা ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মুলত এই কাজে কোনো কোম্পানির প্রোডাক্টস গুলোকে মার্কেটিং করা হয় বলে একে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কাকে বলে । এটি একটি গ্লোবালি সফল মার্কেটিং পদ্ধতি। বর্তমান সময়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শিখে অনেকেই ভালো ইনকাম করছেন। আবার অনেকেই জানেন না অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কীভাবে পেসিভ ইনকাম করা যায়। তাছাড়া বাংলাদেশে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কতটা সফল তা সম্পর্কেও অনেকেই অজানা। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা আমরা অনেকেই এখনো অব্দি জানিনা। তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবোঃ

  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কী?
  • বাংলাদেশে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কতটা সফল?
  • কীভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করা যায়?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং – মার্কেটিং এর এমন একটি পদ্ধতি যার সম্পর্কে আমরা অনেকেই এখনো জানিনা না। অনলাইনে এমন অনেক সেক্টর আছে যা সম্পর্কে আমরা অনেকেই অনেক কিছু জানিনা। যার ফলে আমাদের যুবসমাজ প্রযুক্তি এবং অনলাইন এর দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে। কেননা আমরা এমন এক সমাজে বসবাস করি যেখানে প্রযুক্তিগত শিক্ষা এখনো উন্নত দেশগুলো হতে অনেক বছর পিছিয়ে।

নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে কোন কোম্পানির পণ্য বিক্রি করে দেওয়া অথবা কোনো কোম্পানির পণ্য কে তার সম্ভাব্য গ্রাহকের নিকট উপস্থাপন করার বিনিময়ে নির্দিষ্ট অর্থ আয় করা হলো প্রকৃত অর্থে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার বিভিন্ন উপায় ও কৌশল ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির হয়ে সেই কোম্পানির পণ্য সেল করে দিয়ে থাকে বলে তাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার বলে। তবে একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার এর ইনকাম এর ধরন টা হয় ভীন্ন। মার্কেটিং এর অন্যান্য কাজের মতো এখানেও মার্কেটার প্রতিটি পণ্যের সেলের উপর শতাংশ হিসেবে উপার্জন করে থাকে। তাই একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটা যত দামি পণ্য সেল করবে তার ইনকাম-ও তত মোটা হবে। 

আমাদের দেশে অনেকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে বেশি একটা জানেন না বলেই অনেক মাধ্যম থাকতেও বাংলাদেশী ফ্রীল্যান্সার ও অনলাইনে কাজ করতে ইচ্ছুকেরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ নিয়ে বেশি একটা জানতে ইচ্ছা পোষন করে না। তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং যে আমাদের দেশে একদম-ই অসফল তেমন কিন্তু নয়।

অনেক সফল ফ্রীল্যান্সার ও ডিজিটাল মার্কেটারদের সফল উদ্যোগে বর্তমানে তারা অনেকের মাঝেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের আলোড়ন জাগিয়েছে। তাই এখন অনেকেই এই কাজের সম্পর্কে ইচ্ছাকৃত ভাবেই জানতে ইচ্ছুক।

তাছাড়া বাংলাদেশে এখন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য অনেক ট্রাস্টেড ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো মাধ্যমে ভালোভাবেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং-এর সফল যাত্রা শুরু করা সম্ভব। এছাড়াও শুনা যাচ্ছে যে গুগল ও অ্যামাজন এর মতো বিশাল কোম্পানি গুলো বাংলাদেশে নিজের মার্কেট স্থাপন করার চিন্তা ভাবনা করছেন এবং গত বছর এই দুই কোম্পানি গুগল এবং অ্যামাজন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে তাদের বিজনেস সনাক্তকরণ নম্বর পেয়েছে যা বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার জন্য বাধ্যতামূলক।

সব ঠিক থাকলে এবং অ্যামাজন যদি বাংলাদেশে নিজের শাখা স্থাপন করে তাহলে তা বাংলাদেশী অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের জন্য একটি সুবর্ন সুযোগ হয়ে দাঁড়াবে। অনেকেই হয়তো জানেনা যে অ্যামাজন বিশ্বের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের কাছে ইনকামের জন্য একটি আদর্শ কোম্পানি।

কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা যায়?

অনেকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে জানলেও কীভাবে একজন সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে হয় তা জানেন না। যেহেতু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো মার্কেটিং এর ডিজিটাল পদ্ধতি তাই এখানে সব কাজই আপনার অনলাইনে করতে হয়। কিন্তু ডিজিটাল মার্কেটিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মধ্যে রয়েছে অনেক তফাৎ। কেননা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং-এ নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির পণ্য সেল করাই হবে আপনার মূল উদ্দেশ্য এবং ইনকাম করার একমাত্র পন্থা। এর জন্য আপনাকে একজন ভালো ইনফ্লুয়েনসার হতে হবে। অর্থাৎ, গ্রাহকেরা আপনার মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করবেন এতটুকুতেই আপনি সীমাবদ্ধ থাকবেন। এখন গ্রাহকেরা আপনার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির পণ্য কেনো ক্রয় করবেন এটা সম্পুর্ন আপনার গ্রাহকদের ইনফ্লুয়েন্স করার দক্ষতার উপর নির্ভরশীল।

একজন গ্রাহক বিভিন্ন কারনে আপনার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির পণ্য ক্রয় করতে ইচ্ছুক হতে পারে। অথবা আপনি বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে গ্রাহকদের নির্দিষ্ট পণ্য ক্রয় করতে উৎসাহিত করাতে পারেন। কোনো কোম্পানির পণ্য বিভিন্ন কারন তৈরি করে ও সফল পদ্ধতি অবলম্বন করে সম্ভাব্য গ্রাহকদের নিকট পণ্য উপস্থাপন করে সেল করানোই হলো একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার এর কাজ।

তাই একজন সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে হলে আপনাকে অবশ্য নিজের মার্কেটিং স্কিলগুলো আরও উন্নত মানের করে গড়ে তুলতে হবে। অনেকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং-এ শুরুতে কোনো সফল বিক্রয় গঠাতে পারে না বলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা ছেড়ে দেয়। তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ত্যাগ না করে বরং অনলাইনে অথবা বিভিন্ন সেমিনার ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শিখন কেন্দ্র হতে যদি জ্ঞান অর্জন করে তাহলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং-এ সফল হওয়া সম্ভব।

অ্যাফিলিয়েট করে অনলাইনে কিভাবে আয় করা হয়?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম – একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার-এর ইনকাম অথবা বেতন নির্দিষ্ট করা নয়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং-এ আপনার ইনকাম সম্পুর্ন নির্ভর করে আপনার প্রতি মাসে যে পরিমাণ পণ্য বিক্রয় করে দিতে পেরেছেন এবং তার মধ্যে বেশি-দামি ও কম-দামি পণ্যের পরিমাণ এর উপর। অর্থাৎ প্রতিটি পণ্যের থেকে কমিশন অর্জন করে আপনার টোটাল আয়-ই হবে আপনার ইনকাম।

তাছাড়া প্রতিটি কোম্পানি একই শতাংশে কমিশন দেয় না। তাই আপনি কোন কোম্পানির পণ্য মার্কেটিং করছেন এবং সে কোম্পানি আপনাকে প্রতিটি অর্থের উপর কি পরিমাণ কমিশন দিচ্ছে এইসব কিছুর উপর আপনার ইনকাম নির্ভর করে।

তবে প্রতি মাসে যদি আপনি ২০,০০০ অথবা আরও বেশি ইনকাম করতে চান তাহলে তা সম্পুর্ন আপনার দক্ষতার উপর নির্ভরশীল। যদিও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে ৬০,০০০ টাকার বেশিও আয় করা সম্ভব। বাংলাদেশের অবস্থা অনুযায়ী আপনি যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে ২০,০০০ টাকা উপার্জন করতে সফল হন তাহলে আপনি আপনার পরিবারকে আর্থিক ভাবে সাপোর্ট করতে পারবেন। এবং যদি আপনি ৬০,০০০ অথবা এর বেশি আয় করতে পারেন তাহলে আপনি বাংলাদেশে ভালো একটি অবস্থায় জীবনযাপন করতে পারবেন।

পরিশেষে 

অ্যাাফিলিয়েট মার্কেটিং বর্তমান সময়ের একটি জনপ্রিয় ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতি যার মাধ্যমে ইঙ্কাম করা যায় অনেক টাকা। এটি কীশোরদের জন্য একটি জনপ্রিয় পার্ট-টাইম এর পাশাপাশি একটি ক্যারিয়ার অপশনও বটে। বর্তমান এই আদুনিক যুগে আপনি নিজেকে একজন অ্যাাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে গড়ে তোলে মাসিক ৮০,০০০৳ এর চেয়েও বেশি ইনকাম করার সুযোগ পাবেন ঘরে বসে।

অনেকেই অ্যাাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সম্পর্কে তেমন কিছু না জেনেই এই ফিল্ডে কাজের জন্য পা বাড়ায়। তবে সাফল্য প্রাপ্তীর জন্য অবশ্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রক্রিয়া কি অথবা কিভাবে কাজ করে, একজন অ্যাাফিলিয়েট মার্কেটার এর কাজ ও স্কিল ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে হবে। প্রয়োজনে এফিলিয়েট মার্কেটিং কোর্স করে নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে পারেন। 

সুতরাং আপনার যদি একজন অ্যাাফিলিয়েট মার্কেটার হয়ে ঘরে বসে ইনকাম করার ইচ্ছে থাকে তাহলে অবশ্য অনলাইন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কোর্স শুরু করে দিন অথবা আপনার যদি অ্যাাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ সম্পর্কে জানা থাকে তাহলে আপনি অ্যাামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম রেজিস্ট্রেশন করে আজ থেকেই অ্যাামাজন প্রোডাক্ট মার্কেটিং করে ইঙ্কাম শুরু করে দিতে পারবেন। আর যদি আপনার একটি ওয়েবসাইত কীংবা ব্লগ থেকে থাকে তাহলে আপনার জন্য অ্যাাফিলিয়েট মার্কেটিং আরও লাভজনক হইয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button