স্বাস্থ্য

১ মাসে মোটা হওয়ার কার্যকরী উপায়

এমন অনেকেই আছেন যারা সব কিছুই করে দেখেছেন তবুও নিজের স্বাস্থ্য বাড়াতে সক্ষম হন নি। অতিরিক্ত ফেটযুক্ত খাবার খাচ্ছেন, মোটা হওয়ার সব রকম প্রক্রিয়াই করে দেখছেন, কিন্তু মোটা হতে পারছেন না। থামুন! ভুল প্রক্রিয়ার জন্য হতে পারে আপনার শরীরে ভুড়ি জমা শুরু করবে, যা মোটেও ঠিক নয়। 

তাই ভুল প্রক্রিয়া অবলম্বন না করে এই প্রবন্ধে দেওয়া টিপ্স অবলম্বন করুন। এই প্রবন্ধে  আপনি জানতে পারবেন আপনার ওজন না বাড়ার কিছু কারণ। এরঈ সাথে রয়েছে খুব দ্রুত কয়েক কিলো ওজন বাড়ানোর কিছু টিপস।

আপনার মুখে চাপার দিকে ভাঙ্গা পরেছে, খিদে লাগে না, খেলেও বেশি খেতে পারেন না ইত্যাদি। চিকন মানুষদের এই কিছু সমস্যা থাকেই। তবে এই সমস্যা গুলোর জন্য আপনাকে আর বাধার মুখোমুখি হতে হিবে না। কেননা আজকের এই প্রবন্ধের মুল উদ্দেশ্যই হলো আপনার স্বাস্থ্যকে চিকন থেকে মোটা করে তোলা।

তাহলে আর সময় নষ্ট না করে শুরু করি।

আপ্নি মোটা হতে চান নাকি স্বাভাবিক স্বাস্থ্যবান হতে চান? কোনটা? কেননা এই জায়গায়ই বেশিরচাগ মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। তাই আপনাকে আগে জানতে হবে যে আপনি কিসের জন্যে মোটা হতে চান। যদি আপনি বডি ফিট অথবা জিম করে মাসালস বানাতে চান তাহলে আপনাকে বেশি মোটা হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে যদি আপনি অন্য কোনো কারণবসত মোটা হতে চান তাহলে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত মোটা হওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ। 

মাত্র ১ মাসেই কোনো ঔষধ ছাড়াই মোটা হওয়ার উপায় !

কোন ঔষধ সেবন ছাড়াই মাত্র এক মাসে মোটা হওয়ার উপায় খুজছেন? ঔষধ সেবন করে শরীরের স্বাস্থ্য কিন্তু বাড়ানো যায় না, হ্যা, তবে কমানো কিন্তু যায়। অনেকেই আছেন হোমিওপ্যাথিক গ্রহণ করা শুরু করে দেন মোটা হওয়ার জন্য। এই বিষয়ে আগে থেকেই সাবধান করে রাখছি, কেননা ভুল কিছু গ্রহণের মাধ্যমে আপনার জীবন এর উপর ঝুঁকি হানিয়ে আস্তে পারে।

তাই স্বাস্থ্য বাড়াতে আমাদের দেওয়া পন্থা অবলম্বন করুন। 

স্বাস্থ্য বাড়াতে করণীয়ঃ

বাদাম, কলা এবং দুধের মিশ্রণ। 

প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস বাদাম, কলা এবং দুধ এর মিল্কশেক বানিয়ে পান করলে ১ মাসে আপনার শরীরের শারিরীক পরিবর্তন আসা শুরু করবে। কেননা এই মিশ্রণে থাকে প্রোটিন, এবং শক্তি যা আপনার হাড় মজবুতের পাশাপাশি আপনার মাংস পেশির বেড়ে উঠতে সহায়তা করে।

 

দৈনিক ২-৪ টা ডিম

ডিম আমাদের শরীরের ক্যালোরির জোগান দেওয়ায়। আমাদের শরীরের সাধারণ কর্মকান্ডের জন্য ক্যালোরির প্রয়োজন হয়। তাছাড়া ক্যালোরি আমাদের শরীরের দৈহিক বৃদ্ধি করে। তাই দৈনিক ২-৩ টা বা তার বেশি সৃদ্ধ ডিম খেতে হবে।

দৈনিক আপনি কয়টা ডিম খাবেন তা আপনার উপর, হ্যা তবে অবশ্য একদম শুরুতেই অতিরিক্ত ডিম না খাওয়াই ভালো। না হলে আপনার শরীরের ব্লাড প্রেসার বেড়ে যেতে পারে। যদিও এর কোনো সঠিক প্রমাণ নেই।

ডিমে থাকে প্রোটিন বিশেষ করে এর সাদা অংশে। প্রতিদিন ডিম সংযুক্ত খাবার খেলে এক মাসের মধ্যে আপনার শরীরের কাঠামোগত পরিবর্তন লক্ষ করবেন।

জাংক ফুড 

অবশ্য নিয়ম করেই জাংক ফুড খাবেন। কখনোই অতিরিক্ত পরিমাণের জাংক ফুড খাবেন না। এতে আপনার শরীরের মধ্যে নানান সমস্যার সৃষ্টি হবে। কিন্তু মোটা হওয়ার জন্য জাংক ফুড গ্রহণ করে থাকলে তা নিয়মমাফিক করে রাখবেন। নিজেকে জাংকফুডের নেশায় পড়তে দিবেন না।

এতে অতিরিক্ত পরিমাণে তেল থাকে, যা আমাদের শরীরে চর্বির আকারে পরিনত হয়ে পরে। 

যেসব জাংক ফুড খাবেনঃ মাংস যুক্ত জাংক ফুড যেমন ফ্রাইড চিকেন, বিফ কাবাব, চিকেন বার্গার ইত্যাদি জাংক ফুড খাবেন। অনেকেই এই খাবার গুলো খেতে ভালোবাসেন না, এ ক্ষেত্রে দৈনিক এই খাবার গুলো গ্রহণ না কতে প্রতি ২-৩ দিন অন্তর অন্তর গ্রহণ করতে পারেন।

যেসব খাবেন নাঃ অতিরিক্ত তৈলাক্ত জাংক ফুড যেমন সিংগাড়া, ছমচা, পিয়াজু এবং অতিরিক্ত কোক।

 মাংসযুক্ত ফাস্ট ফুড গ্রহণের চেষ্টা করবেন, তবে অতিরিক্ত নয়, নিয়ম-মাফিক।

শর্করা খাবার গ্রহন 

ভাতে অথবা আলুতে প্রচুর শর্করা থাকে। তাই এসব খাবার গ্রহন আপনাকে মোটা করতে সহায়ক। যারা নিজেদের শরীরে বাড়তি ওজন হতে দিতে চায় না তারা প্রায় সময়ই ভাত – আলু তথা শর্করা খাবার থেকে নিজেকে বিরত রাখার সম্পুর্ন চেষ্টা করে। 

মাছ ও মাংস 

নিয়মিত মাছ ও মাংস গ্রহণ আপনার শরীরের ঘাটতি আমিষ এবং প্রোটিন এর যোগান দেয়। এছাড়াও আপনার শরীরের মাংস পেশি গুলোর উন্নয়নের জন্য নিয়মিত মাছ ও মাংস গ্রহণ অনেকটা কার্যকরি।

দৈনিক মাংস গ্রহণ আপনার শরীরের জন্য ভালো নাও হতে পারে, তাই এ ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে ১-২ বার মাংস গ্রহণ করে দেখতে পারেন। মাংস গ্রহণের নিয়ম সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানার জন্য এই প্রবন্ধটি পরে নিন “মাংস গ্রহণের নিয়ম“।

দৈনিক খাবার গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে হবে। 

দৈনিক খাবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে। হতে পারে যে আপনি অন্যদের মতো বেশি খেতে পারবেন না। তবে আপনাকে প্রতিদিন একটু একটু করে আপনার বেশি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এতে করে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আপনি লক্ষ করবেন যে আপনি আগের তুলনায় অনেক বেশি খাওয়া শুরু করেছেন। 

চিকন থাকার অন্যতম কারণ হলো পরিমাণ মতো খাবার না খাওয়া। আমাদের শরীরের যেই পরিমাণ পুষ্টি দরকার তা যদি আমাদের শরীরে প্রবেশ না করে তাহলে আমাদের শরীরের সঠিক পরিচর্যা ধীরে ধীরে কমে যায় ও মাংস পেশি গুলো দুর্বল হওয়া শুরু করে।

এ ক্ষেত্রে আপনি প্রতিদিন খাবারের একটা রুটিন করে নিতে পারেন। প্রতিদিন খাবারে কি কি রাখা দরকার তার একটা রুটিন করতে এই প্রবন্ধটি দেখে নিন প্রতিদিন সুষম খাবারের পরিমাণ। 

প্রতিদিন খাবারে থাকা ক্যালরি হিসাব করবেন।

আপনি প্রতিদিন খাবারের তালিকায় যে খাবার গুলী তালিকাভুক্ত করছেন তাতে কি পরিমাণ ক্যালরি আছে তা হিসাব করে খাবার খাবেন। একজঅন ব্যক্তির দৈনিক ১২০০ ক্যালরি প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে আপনার খাবার আপনাকে দৈনিক ১২০০ ক্যালরি দিচ্ছে কি না তা হিসাব রাখতে হবে। যে সকল খাবার আপনার জন্য প্রয়োজনীয় নয় সেসকল খাবারকে তালিকাভুক্ত থেকে বিরত থাকুন।

বয়স অনুযায়ী নিয়মিত ঘুমাতে হবে।

শরীরের নানান পরিবর্তন বেশির ভাগ ঘুমানোর উপর নির্ভরশীল। যথাযথ নিয়ম-অনুযায়ী ঘুমালে যেভাবে লাভ আছে, অনিয়মিত ঘুমালে সেভাবে শরীরের ক্ষতি-ও হয়ে থাকে। তাই আপনার বয়স অনুযায়ী দৈনিক কয় ঘন্টা ঘুমাপে তা আপনার শরীরের জন্য উপকারী তা মাথায় রাখতে হবে।

ঘুমানোর উপকারীতাঃ

ঘুমালে আমাদের শরীর সতেজ হয়ে উঠে আমাদের শরীর সারাদিনের ক্লান্তিকর প্রভাব কাটিয়ে উঠে। তাছাড়া আমাদের সারাদিন 

আপনার বয়স অনুযায়ী সারাদিনে আমাদের শরীরের মাসালের এবং হাড়ের যেই পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে তার মেরামত হয়।

 কত ঘন্টা ঘুমানো উচিত তা জানার জন্য এই প্রবন্ধ-টি দেখুনঃ বয়স অনুপাতে ঘুমের পরিমাণ

কম স্বাস্থ্য বা অতিরিক্ত চিকন শরীর আমরা কেউই পছন্দ করি না। আমরা সকলেই স্বাস্থ্যবান শরীরের আশা করে থাকি। তাই কিভাবে অল্প সময়ে কার্যকরী উপায়ে মোটা হওয়া যায় তা নিয়েউ আমাদের আজকের এই প্রবন্ধটি ছিলো। তবে বেশি স্বাস্থ্যও কিন্তু আবার শরীরের জন্য হানির কারণ। তাই অবশ্য খেয়াল রাখবেন যে আপনি যেনো অতিরিক্ত মোটা হয়ে না পড়েন।

অল্প সময়ে মোটা হওয়ার জন্য উক্ত সাজেশন ১-২ মাস অনুসরণ করলেই ইনশাআল্লাহ ভালো ফল আশা করা যাবে। 

পরিশেষে বলা যায়, নিজের চিকনতা দূর করতে এবং মোটা হতে চাইলে উক্ত নিয়ম গুলো অনুসরণ করলে ইনশাআল্লাহ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনি মোটা হতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button