বিজ্ঞানের ১০ হঠাৎ আবিষ্কার

“Name the greatest of all inventors. Accident.”
― Mark Twain

ইতিহাসে দেখা গেছে মানুষ যেমন আবিষ্কার করেছে তেমনি কিছু আবিষ্কার একদম হঠাৎই হয়ে গেছে। নোবেল বিজয়ী বায়োকেমিস্ট আলবার্ট সেজেন্ট জর্জিও বলেছেন, আবিষ্কারকে বলা যায়, যে-দুর্ঘটনা সম্পর্কে মন প্রস্তুত থাকে। এখানে এমন কয়েকটি আবিষ্কারের কথা বলা হচ্ছে যেগুলি শুনলে বিশ্বাস হতে চায় না যে এগুলি হঠাৎ ভুল করে আবিষ্কৃত হয়েছে।

১০) এলএসডি’র সাইকেডেলিক প্রকৃতি

এলএসডি

লিসার্জিক এসিড ডাইথ্যালামাইড-এর সংক্ষিপ্ত রূপ এলএসডি। তবে এলএসডি দুর্ঘটনাবশত হঠাৎ করে আবিষ্কৃত হয় নি।

১৯২৯ সালে সুইস কেমিস্ট আলবার্ট হফম্যান সান্ডোজ ল্যাবরেটরির জন্য কাজ করা শুরু করেন। তিনি কাজ করছিলেন এরগট নামের একধরনের ছত্রাক থেকে যেসব যৌগ পাওয়া যায় তাদের ধরন শনাক্ত করতে। হফম্যান ওষুধ হিসাবে এদের কার্যকারিতা কেমন তা জানার জন্য এদের বৈশিষ্ট্য ও স্থায়িত্ব নিয়ে কাজ করছিলেন। তিনি একধরনের যৌগ আলাদা করেন। এর নাম এলএসডি-২৫,  কিন্তু এই যৌগটি আলাদাভাবে তখনকার বিজ্ঞানী এবং ফিজিশিয়ানদের কাছে কোনো গুরুত্ব পায় নি।

৫ বছর পরে হফম্যান আবার এলএসডি-২৫ নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৪৩ সালে হফম্যান যখন এ নিয়ে কাজ করছিলেন, তিনি বলেন, তার একধরনের অস্বাভাবিক উত্তেজনা হয়েছে। হফম্যান যখন বুঝতে পারলেন জিনিসটি তাকে আস্তে আস্তে আচ্ছন্ন করে ফেলছে, তিনি তাড়াতাড়ি বাসায় গিয়ে শুয়ে পড়তে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন এসময় তিনি অসাধারণ ছবি এবং বিভিন্ন ক্যালাইডোস্কোপ রঙের অদ্ভুত অদ্ভুত আকার দেখতে পেয়েছেন।

হফম্যান হঠাৎ করেই আধুনিক কালের সবচেয়ে শক্তিশালী ড্রাগের প্রভাব আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন। পরে এটা নিয়ে আরো গবেষণা করে হফম্যান এলএসডিকে মেডিকেল এবং সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসায় ব্যবহার করার  জন্য মতামত দেন। ১৯৬০ সালে হফম্যান যখন জানতে পারেন, মানুষ নেশার জন্য এলএসডি ব্যবহার করছে, তিনি অবাক হননি। হফম্যান এটাকে বলেছেন প্রবলেম চাইল্ড।

৯) কর্নফ্লেক্স

কর্নফ্লেক্স

কর্নফ্লেকস আবিষ্কার করেছেন উইল কীথ কেলগ নামের এক ব্যক্তি। কেলগের ভাই ছিলেন মিশিগানের ব্যাটল ক্রিক স্যানাটোরিয়ামের ডাক্তার। তিনি সেখানে রোগীদের ডায়েট দেখাশোনা করতেন। কেলগ তার ভাইকে সহযোগিতা করতেন।

একদিন কেলগের দায়িত্ব ছিল রোগীদের জন্য ব্রেড-ডাফ তৈরি করা। কেলগ গম সিদ্ধ করতে দিয়ে ভুলে যান। কয়েক ঘণ্টা পরে যখন তিনি ডাফ রোল করার জন্য ফিরে আসেন দেখেন গমগুলি ফ্লেকসের মত হয়ে গেছে। কেলগ সেগুলি দিয়েই মচমচে ডাফ তৈরি করেন। রোগীদের কাছে খাবারটি খুব জনপ্রিয় হয়।

কেলগ পরে বাণিজ্যিকভাবে ফ্লেকস বিক্রির চিন্তা করেন। অবশ্য রেসিপিতে তিনি ভুট্টাকেই ফ্লেকস তৈরির প্রধান উপাদান হিসাবে বেছে নেন। কেলগ ‘দি ব্যাটল ক্রিক টোস্টেড কর্ন ফ্লেকস কোম্পানি’ নামে ব্যবসা শুরু করেন ১৯০৬ সালে। পরে এই কোম্পানিটির নাম হয় কেলগ’স কোম্পানি। কোম্পানিটি বিভিন্ন ধরনের সীরেয়াল, কর্নফ্লেকস এগুলি বিক্রি করত।

৮) ডিনামাইট

ডিনামাইট

আলফ্রেড নোবেল ছিলেন সুইডিশ কেমিস্ট এবং ইঞ্জিনিয়ার। নাইট্রোগ্লিসারিনের মত বিপদজনক তরল পদার্থ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নোবেল এবং তার ল্যাবরেটরির মানুষজনের বিভিন্ন দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা হয়েছে। এদের মধ্যে একটি দুর্ঘটনা খুব মারাত্মক ছিল। ১৮৬৪ সালে সুইডেনের স্টকহোমে একটি বিস্ফোরণে আলফ্রেড নোবেলের ছোটভাই এবং আরো কয়েকজন মারা যায়।

কেউ ধারণা করতে পারেনি এই দুর্ঘটনা নোবেলকে কতটা প্রভাবিত করেছে। কিন্তু অনেকেই মনে করেন, এর পরে আলফ্রেড নোবেল নিরাপদভাবে বিস্ফোরণ ঘটানোর ম্যাটেরিয়াল আবিষ্কারের চিন্তা করেন।অনেকে বলেন নোবেল আরেকটি দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে নাইট্রোগ্লিসারিন স্ট্যাবিলাইজ করার উপায় খুঁজে পান।

নাইট্রোগ্লিসারিন এক জায়গা থেকে সরিয়ে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সময় নোবেল দেখেন একটি ক্যান খুলে লিক হয়ে গেছে। তিনি দেখেন যে-জিনিস্টা দিয়ে ক্যান মোড়ানো ছিল সেই জিনিসটা এই লিকুইডকে খুব ভালোভাবে শোষণ করেছে। কিয়েসেলগার নামে এক ধরনের পাললিক শিলার মিশ্রণ দিয়ে ক্যানগুলি মোড়ানো ছিল।

নাইট্রোগ্লিসারিন যেহেতু তরল অবস্থায় খুব বিপদজনক, তাই নোবেল সিদ্ধান্ত নেন এই কিয়েসেলগারকে তিনি বিস্ফোরকের স্ট্যাবিলাইজার হিসাবে ব্যবহার করবেন।

১৮৬৭ সালে নোবেল এই বিস্ফোরকটি ‘ডিনামাইট’ নামে পেটেন্ট করান।

৭) স্যাকারিন

স্যাকারিন

জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ইরা রেমসেনের ল্যাবরেটরিতে কাজ করার সময় কনস্টানটিন ফ্যালবার্গ ১৮৭৯ সালে স্যাকারিন আবিষ্কার করেন।

তিনি কিছু কেমিক্যাল নিয়ে কাজ করছিলেন। বাড়ি ফেরার সময় নিজের অজান্তেই কিছু কেমিক্যাল হাতে লেগে চলে আসে কনস্টানটিনের। খাওয়ার সময় তিনি খেয়াল করেন তার পাউরুটিতে চিনি না দিলেও পাউরুটি আলাদাভাবে খেতে মিষ্টি লাগছে। ফ্যালবার্গ বুঝতে পারেন এই মিষ্টি লাগার কারণ তার ল্যাবরেটরির কেমিক্যাল। এরপর তিনি এর উপর আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। রেমসেন তার সাথে এই যৌগটি নিয়ে কাজ করলেও ফ্যালবার্গ নিজের নামে আলাদাভাবে স্যাকারিনের পেটেন্ট করান।

কয়েক বছর পর থেকে স্যাকারিন অনেকগুলি পণ্যে পাওয়া যেতে থাকে। স্যাকারিন যেহেতু শরীরে মিশে যায় না, তাই এতে কোনো ক্যালরি নেই। যাদের রক্তে সুগারের পরিমাণ বেশি বা যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য স্যাকারিন একটি অপশন হিসাবে কাজ করে।

৬) মাইক্রোওয়েভ ওভেন

মাইক্রোওয়েভ ওভেন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পার্সি স্পেনসার ছিলেন পৃথিবীর অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী। সে সময় রেথিওন কোম্পানিতে তিনি একটি ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করছিলেন। ম্যাগনেট্রন যখন পরীক্ষা করে দেখছিলেন স্পেন্সার, তখন খেয়াল করেন তাঁর পকেটে থাকা একটি ক্যান্ডি বার পুরোপুরি গলে গিয়েছে। কিন্তু স্পেন্সারের কোনো তাপ লাগেনি। এখন আমরা অবশ্য জানি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ওয়েভ মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ১৯৪৫ সালে আবিষ্কার হলেও মাইক্রোওয়েভ এখনো অনেক জনপ্রিয়। এখনো আমেরিকার শতকরা ৯০ ভাগ পরিবার মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে।এরপর যন্ত্রটিকে চ্যালেনজ করার জন্য স্পেন্সার পপকর্ণ এবং অন্যান্য খাদ্যবস্তুর উপর পরীক্ষা চালান। এই চ্যালেনজে জিতে যান স্পেন্সার। এরপর একইরকম প্রযুক্তি দিয়ে স্পেন্সার আরেকটি যন্ত্র তৈরি করেন। সেটাই আমাদের পরিচিত মাইক্রোওয়েভ ওভেনের প্রাথমিক রূপ।

৫) ভায়াগ্রা

ভায়াগ্রা

সিমন ক্যাম্পবেল এবং ডেভিড রবার্টস এই দুইজন গবেষক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ফাইজারে কাজ করার সময় একটি নতুন ওষুধের কাজ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তাদের কোনো ধারণা ছিল না তাদের প্রোডাক্ট কীসে পরিণত হবে। তারা দুইজন অ্যানজিনা নামে উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট কন্ডিশনের জন্য ওষুধ তৈরি করছিলেন। ১৯৮০ এর দশকের শেষের দিকে ক্লিনিকাল ট্রায়াল হিসাবে মানবদেহের ওপর পরীক্ষা করার জন্য রেডি হয়ে যায় ওষুধটি। পরীক্ষা করে দেখা যায় গবেষকরা যেমন ধারণা করেছিলেন, ওষুধটি তত কার্যকরী নয়।

গবেষকরা যখন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখতে যান, কিছু রোগী ইরেকশনের বা যৌনউত্থানের অভিযোগ করে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সাইড-এফেক্টের কথা জানতে পেরে গবেষকরা আরো সামনে আগানোর  সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর কোম্পানি ব্লাড প্রেশার এবং হার্ট প্রবলেম বাদ দিয়ে যাদের ইরেক্টাইল ডিসফাংশান বা যৌন সক্ষমতা অপর্যাপ্ত তাদের জন্য আরেকটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সিদ্ধান্ত নেন। তৈরি হয় ভায়াগ্রা। ১৯৯৮ সালে ভায়াগ্রা ইউ.এস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের স্বীকৃতি পায়।

৪) পেসমেকার

পেসমেকার

উইলসন গ্রেটব্যাচ হার্টব্লকের সমাধান খুঁজছিলেন। হার্টব্লক হলে হার্ট রক্ত পাম্প করার জন্য আশেপাশের নার্ভ থেকে আর কোনো মেসেজ পায় না। হার্টের মাসলকে স্টিমুলেট করার জন্য অন্য বিজ্ঞানীরা যখন বড় গেজেট ব্যবহার করতেন তখন গ্রেটব্যাচ চিন্তা করছিলেন কাজটি করার জন্য ছোট কোনো যন্ত্রের কথা।

গ্রেটব্যাচের আবিষ্কার করার মুহূর্তটি আশ্চর্যকর। ১৯৫৮ সালে কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে পশুপাখির হার্টবিটের শব্দ রেকর্ড করার জন্য গ্রেটব্যাচ যখন একটি অসিলেটর বানাচ্ছিলেন তখন ভুল করে তিনি ভুল ট্রানজিস্টরটি নিয়ে তাঁর ডিভাইসে ইন্সটল করে নেন। পরে ভুল বুঝতে পেরেও গ্রেটব্যাচ কী ঘটে তা দেখতে চাইছিলেন। তিনি আশা করেননি যে অসিলেটর কাজ করবে। তিনি অসিলেটরের সুইচ চালু করলে পরিচিত পালসের আওয়াজ শুনতে পান।

তাঁর এই আবিষ্কারটির নাম হয় পেসমেকার। হার্টে পালসিং সাউন্ড পৌঁছে দেওয়ার জন্য এটা খুব ভালো কাজ করা শুরু করে। ১৯৬০ সালে মানুষের শরীরে বসানোর আগে এটা পশুর দেহে পরীক্ষা করে নেওয়া হয়।

৩) ভেলক্রো

ভেলক্রো

জর্জ ডি মিস্ত্রাল ছিলেন একজন ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার। একদিন তাঁর কুকুর নিয়ে হাটতে বের হয়েছিলেন। ফেরার সময় তিনি লক্ষ করলেন কত নিখুঁতভাবে কিছু কোকলবার কুকুরের পশমে আটকে আছে। তিনি মাইক্রোস্কোপ নিয়ে কোকলবার পরীক্ষা করা শুরু করলেন।

দেখলেন কোকলবারে অসংখ্য ছোট ছোট হুক রয়েছে। এই হুকগুলির মাধ্যমে কোকলবার খুব সহজেই কাপড়ের লুপে এবং কুকুরের পশমে আটকে থাকে। এই কনসেপ্ট থেকে ডি মেস্ত্রাল অন্যান্য ম্যাটেরিয়াল দিয়ে সারফেস তৈরি করলেন। সেইখানে বন্ড আরো শক্তিশালী করার জন্য হুক এবং লুপ ব্যবহার করলেন।

১৯৫৫ সালে তাঁর এই আবিষ্কারটিকে আরো পারফেক্ট করার জন্য ডি মেস্ত্রাল এটাতে নাইলন সেট করলেন এবং এটার নাম দিলেন ভেলক্রো। মানুষ এখনো দৈনন্দিন কাজে ভেলক্রো বা ভেলক্রোর মত জিনিস ব্যবহার করে।

২) পেনিসিলিন

পেনিসিলিন

আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ছিলেন একজন স্কটিশ ব্যাকটেরিওলজিস্ট। দুই সপ্তাহ ছুটি কাটিয়ে ফেরার পর একবার ফ্লেমিং লক্ষ করলেন তাঁর রেখে যাওয়া খাবারের উপরে একটা রহস্যময় আবরণ তৈরি হয়েছে। ফ্লেমিং দেখলেন যে জায়গায় এই আবরণ তৈরি হয়েছে সে জায়গায় ওই খাবারে থাকা ব্যাকটেরিয়া আর বেড়ে ওঠেনি। ফ্লেমিং বুঝলেন এটা অনাকাঙ্ক্ষিত মাইক্রোঅর্গানিজমকে বা অণুজীবকে প্রতিরোধ করে। ফ্লেমিং এই ছত্রাকের আবরণকে আলাদা করে একে পরীক্ষা করলেন।

ফ্লেমিং-এর পেনিসিলিন আবিষ্কারের প্রায় ১৩ বছর পরে হাওয়ার্ড ফ্লোরে, নরমান হীটলে এবং অ্যান্ড্রু ময়ার ওই ছত্রাকটিকে এমন ধরনে রূপান্তরিত করলেন যাতে তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে উৎপন্ন করা যায়। তারপর থেকে পেনিসিলিন ব্যাপকভাবে সারা পৃথিবীতে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনেক জীবন বাঁচানোতে কাজে লাগছে।সাথে সাথেই ফ্লেমিং-এর এই আবিষ্কারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহার করা হয়নি। অন্য গবেষকদের পরীক্ষার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল।

১) অ্যানেসথেশিয়া

অ্যানেসথেশিয়া

এই জিনিসটা আবিষ্কার না হলে চিকিৎসা ব্যাপারটি এখনো খুব যন্ত্রণাময় থাকত।

অ্যানেসথেশিয়ার কথা আসলে ক্রফোর্ড লং, উইলিয়াম মর্টন, চার্লস জ্যাকসন এবং হোরেস ওয়েলস এর নাম সামনে চলে আসে। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইথার এবং নাইট্রাস অক্সাইড (লাফিং গ্যাস) মানুষের ব্যথানাশকের কাজ করে।

১৮০০ সালের দিকে অবসর এবং বিনোদনে উদ্দীপনা আনার জন্য এই দুটি যৌগের কোনো একটি নিঃশ্বাসের সাথে নেওয়া খুব জনপ্রিয় ছিল। অ্যানেসথেশিয়ার আবিষ্কারকেরা গবেষণা করেছিলেন কীভাবে এই যৌগ দুটি মানুষের ব্যথার অনুভূতি কমিয়ে দেয়।

১৮৪৪ সালে হোরেস ওয়েলস একটি লাফিং পার্টিতে যান। সেখানে তিনি দেখেন একজন ব্যক্তি লাফিং গ্যাস নেওয়া অবস্থায় পায়ে ব্যথা পেয়েছে। তাঁর পা দিয়ে রক্ত পড়ছিল কিন্তু তিনি ওয়েলসকে বলেন তিনি কোনো ব্যথা অনুভব করছেন না।

এই ঘটনার পর ওয়েলস এই লাফিং গ্যাস যৌগটিকে তাঁর দাঁত তোলার সময় অ্যানেসথেটিক হিসাবে ব্যবহার করেন। তখন থেকে অ্যানেসথেশিয়াকে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় এবং অপারেশনের সময় ব্যবহার করা শুরু হয়।

এরপর ওয়েলস, মর্টন এবং জ্যাকসন ডেন্টাল প্র্যাকটিসে অ্যানেসথেশিয়া ব্যবহার শুরু করেন একসাথে। ক্রফোর্ড লং মাইনর সার্জারির জন্য অন্য যৌগ অর্থাৎ ইথারকে বেছে নেন।

Leave a Comment