১০ টি সাধারণ জিনিস যা প্রচুর জীবন বাঁচায়

নিতান্ত সাধারণ কিছু আবিষ্কার থেকে খুব সাধারণ কিছু নির্দেশনা — এই দশটি আইডিয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। এই দশটি আইডিয়ার প্রথম পাঁচটি অনেকটা উদ্ভট ধরনের এবং পরের পাঁচটি সিরিয়াস ধরনের। আপনারও এ সম্পর্কে জানা উচিৎ।

১) কার্ডবোর্ড বক্স

কার্ডবোর্ড বক্স

১৯৪০ এর শুরুর দিকে ফিনল্যান্ডে নবজাতক মৃত্যুহার অনেক বেড়ে গিয়েছিল। এই সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য সে সময়ের সরকার সন্তান সম্ভবা সকল মায়েদের একটি করে বাক্স দেওয়া শুরু করেছিল। যাতে থাকতো বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী।  যেমন, কাপড়, বিছানাপত্র, সন্তান পরিচর্যার সামগ্রী এবং নবজাতকের প্রয়োজনীয় আরো অন্যান্য জিনিসপত্র। এই আইডিয়া অসাধারণভাবে কাজে দিয়েছিল।

২) জাপানের আওকিগাহারা

জাপানের আওকিগাহারা

জাপানে আত্মহত্যা করার জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গা রয়েছে। কুখ্যাত জায়গাটির নাম ‘আওকিগাহারা’। স্বেচ্ছায় মরতে চাওয়া মানুষদের এই পছন্দের জায়গাটিতে তাদের কথা শুনতে ইচ্ছুক এমন কারো ফোন নাম্বার এবং একটি সাধারণ সংকেত দেয়া হয়েছিলো। অার প্রথম বছরেই এই আইডিয়াটি ২৯ জনের জীবন বাঁচিয়েছিল।

৩) লোহার মাছ

লোহার মাছ

আয়রনের অভাব মোকাবেলা করার জন্য কম্বোডিয়ান কর্তৃপক্ষ  লোকজনকে একটি করে লোহার মাছ (পবিত্র হিসাবে বিবেচনা করার জন্য) দিয়েছিল যেন রান্না করার সময় তারা মাছটিকে পাত্রে রাখে।  খাবারে আয়রণ যোগ করার এই কৌশলটি দারুণভাবে কাজ করছে।

৪) টাইপ প্রেসক্রিপশন

টাইপ প্রেসক্রিপশন

প্রতি বছর ভুল চিকিৎসা ও ভুল ওষুধের জন্য ৭ হাজার লোক মারা যায়। একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে ভুল চিকিৎসা বা ভুল ওষুধের মূলে রয়েছে খারাপ হাতের লেখা। এ কারণে অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল প্রেসক্রিপশন টাইপ করে দেওয়ার জন্য। এই নির্দেশের পরে ভুল চিকিৎসা বা ভুল ওষুধের শতকরা পরিমাণ ৩৭ ভাগ থেকে  শতকরা ৭ ভাগে নেমে এসেছে।

৫) রি ইভেন্ট দ্যা সিরিঞ্জ

রি ইভেন্ট দ্যা সিরিঞ্জ

 

প্রতি বছর নোংরা সিরিঞ্জের জন্য ১.৩ মিলিয়ন লোক মৃত্যুবরণ করে। মার্ক কোস্কা সমাধান হিসাবে কে আই অটো ডিসেবল সিরিঞ্জ আবিষ্কার করেন। এটা শুধু একবার ব্যবহার করা যায়। সিরিঞ্জের প্লানগার একবার নিচে নামানো হলে এটা আপনাআপনি লক হয়ে যায় এবং টেনে তোলা যায় না। এটার উৎপাদন খরচ সাধারণ সিরিঞ্জের মতই। এর ফলে সারা পৃথিবীতে স্বাস্থ্য খাতে প্রতি বছর একশ বিলিয়ন ডলার বেঁচে যায়।

৬) টেটরিস খেলা

টেটরিস

টাওয়ার তৈরি করার ক্লাসিক ভিডিও গেইম টেটরিস ফ্লাশব্যাক বা অতীতের ঘটনা মনে হওয়ার সমস্যায় ভালো কাজ করে। বিরক্তিকর একটি সিনেমার দর্শকদের মাঝে গবেষকরা পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। সেই পরীক্ষায় দর্শকদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সিনেমা চলাকালীন বিরক্তি কাটানোর জন্য তারা কী করছিলেন। কয়েকজন জানিয়েছেন তারা সিনেমার ট্রিভিয়া (সিনেমা সম্পর্কে খুটিনাটি চমকপ্রদ তথ্য) বের করেছে, কয়েকজন জানায় তারা টেটরিস খেলেছে এবং বাকিরা জানায় তারা  কিছুই করে নি। পরের সপ্তাহে দেখা গেছে, যারা ১৯৮০’র দশকের এই ক্লাসিক গেমটি খেলেছিল তাদের অতীতের ঘটনা কম মনে হয়েছে।

৭) টেক্সট রিমাইন্ডার মেসেজ

টেক্সট রিমাইন্ডার মেসেজ

ওহিও স্টেটে একটি গবেষণায় দেখা গেছে কাগজে লিখে বা নোট নিয়ে মনে রাখার অভ্যাস বা টেক্সট রিমাইন্ডার কিশোর বয়সীদের ওষুধ খাওয়ার প্রতি বাধ্যগত করে তোলে। আগে যেখানে ওষুধ নিয়ে যেতে ভুল করার কারণে সন্তানেরা বাবা মাকে ওষুধ পাঠানোর তাড়া দিয়ে চিঠি লিখত,  তিন মাস কাগজে লিখে মনে রাখার এই অভ্যাস অনুশীলন করানোর  পর দেখা গেছে এই চিঠি লেখার হার তিনগুণ কমে গেছে।

৮) ছোট ছোট পিল-বোতল

ছোট ছোট পিল-বোতল

মানুষকে ওভারডোজ ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাজ্য ছোট ছোট পিল-বোতল তৈরি করেছিল। সুপারমার্কেটে পাওয়া সবচেয়ে বড় প্যাকেটেও মাত্র ষোলোটি করে পিল থাকত। এই পরিবর্তনের প্রথম ১১ বছরে প্রায় ৭৬৫ টি জীবন বেঁচে যায়।

৯) কোলোনোস্কোপিক

কোলোনোস্কোপিক

পশ্চাদ্দেশে কোলোনোস্কোপিক করা একটি জীবন রক্ষাকারী প্রক্রিয়া। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই দ্বিতীয় ধাপ পর্যন্ত আর আসে না কারণ এটি অস্বস্তিকর। গবেষকরা একটি আইডিয়া বের করেছেন যে কোলোনোস্কোপিক শেষে ক্যামেরা অন্ত্রের ভিতরে কয়েক মিনিট বেশিক্ষণ রেখে দিবেন। অন্ত্রের অভ্যন্তরে ক্যামেরা নাড়াচাড়া করার চেয়ে স্থির রেখে দেওয়া অনেক কম অস্বস্তিকর।

১০) সার্জারী চেক টাইম

সার্জারী চেক টাইম

চিকিৎসকরা অন্য সবার মতই একটু কেয়ারলেস এবং তাদের ভুলে যাওয়ার প্রবণতা আছে। মানুষের ভুল করার স্বভাব কাটিয়ে ওঠার একটি কার্যকরী পদ্ধতি হচ্ছে সাধারণ তালিকা ব্যবহার করা। এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সব ধরনের সার্জারীর জন্য ১৯ টি পয়েন্টের একটি চেকলিস্ট প্রস্তুত করেছে। এর কয়েকটি খুবই সাধারণ। যেমন, সার্জারী টিমের সদস্যরা সার্জারীর শুরুতে নিজেদের পরিচয় করিয়ে দিবেন। কয়েকটি দেশে এই নিয়ম এখন মেনে চলা হচ্ছে। ফলে এটি সার্জারীর সময়ের জটিলতা এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে এনেছে।

Leave a Comment