হাতিরঝিল, ঢাকা

কারওয়ানবাজার সংযোগ হয়ে এফডিসির সামনে থেকে হাতিরঝিলে ঢুকলাম। বিশাল যানজট। যে কারণে এই প্রকল্প তার বিপরীত রূপ নিয়েছে এলাকা। হাতের ডানে পথচারীদের বসার ব্যবস্থা। সেখানে পথচারীরা আড্ডা দিচ্ছে। সামনে নানা ফুল ও লতাপাতার গাছ।

প্রকল্পের সব কাজ এখনো শেষ হয়নি। যতটুকু হয়েছে তার রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থা সুবিধার না। প্রকল্পের মূল আকর্ষণ লেক। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ও অযত্নে লেকের সৌন্দর্য এখন দুর্গন্ধযুক্ত। পানিতে নানা রকমের আবর্জনা। ওয়াসার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি না করায় বর্জ্যযুক্ত পানি লেকে ঢুকছে অনর্গল।

রিকশা চলাচলের নিয়ম না থাকলেও চলছে অহরহ, দেখার কেউ নাই। দুই একটি পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোনো পয়েন্টে ট্রাফিকও নাই। ‘এক দিকে চলাচল’ লেখা থাকলেও তা মানছে না কেউ। রাস্তার উভয় দিক দিয়েই চলাচল করতে দেখা যায় রিকশা ও মটর সাইকেল।

গাড়ি পার্কিং এর জন্য নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ থাকলেও যেখানে সেখানেই গাড়ি রাখছে ঘুরতে আসা মানুষেরা। পথচারিরাও রাস্তা পারাপারে কোন নিয়ম মানছে না। তারা যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হচ্ছে।

হাতিরঝিলের ওভারপাস

মানুষের আনাগোনায় মুখরিত এলাকাটি। বিকাল হওয়ার সাথে সাথেই বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে শুরুর দিকে অনেকে গাড়ি নিয়ে আসতো, কিন্তু এখন আর তাদের উপস্থিতি দেখা যায় না। তারা এখন যাতায়াত করার জন্য মূলত এলাকাটি দিয়ে চলাচল করে। স্কুল/ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের সংখ্যা এখন বেশি লক্ষ করা যায়। তারা মূলত আড্ডার ছলে বা ঘুরতেই আসে এখানে।

হাতিরঝিলকে কেন্দ্র করে সেখানে বেড়েছে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড। ফুটপাত সহ আশেপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান।

দিনের পরিবেশের সাথে রাতের পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা। রাতে রঙ-বেরঙের আলোতে ছেয়ে যায় পুরো এলাকাটি। তবে এখন আর আগের মত আলো থাকে না। অনেক লাইট নষ্ট হয়ে গেছে।

প্রায় অনেকক্ষণ ছবি আর ভিডিও করলাম। রিকশায়ও উঠলাম। হঠাৎ একটি ট্রাফিক পুলিশ রিকশাটি থামালেন। তখন রামপুরার পয়েন্টে আমরা। বললেন, আপনারা নেমে যান। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, এখান দিয়ে রিকশা চলাচলের নিয়ম নাই। আমরা রিকশা থেকে নেমে গেলাম। রিকশা চালক আমাদের বললেন ট্রাফিক পুলিশকে একটু অনুরোধ করতে তার রিকশার সিটটা যাতে না নেয়। আমরা ট্রাফিক পুলিশকে অনুরোধ করলাম। তিনি আমাদের অনুরোধ রাখলেন।

হাতিরঝিল

২০০৭ সালে শুরু হয় এই প্রকল্পটির কাজ। অনেক উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০১০ সালের জুন মাসে। কিন্তু সেটা হয়ে উঠেনি। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে এর কাজ শেষ হয়।

জানুয়ারির ২ তারিখে এর উদ্ধোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ার্স কন্সট্রাকশন ব্যাটালিয়নের দায়িত্বে পুরো প্রকল্প কাজ পরিচালিত হয়।

৩০২ একর জায়গার উপর তৈরি এই প্রকল্পটি। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯৭১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এখনো এই প্রকল্পের অনেক কাজ বাকি আছে।

নানাভাবে তৈরি এই প্রকল্পটি। ঝিলের চারিদিকে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াকওয়ে, ওভারপাস সহ দুপাশে পূর্ব ও পশ্চিমে সড়ক নির্মান করা হয়েছে। চারটি ব্রিজ, চারটি ওভারব্রিজসহ বিভিন্ন লিংক রোড ও রয়েছে। সময় কাটানোর জন্য রয়েছে মুক্তমঞ্চ, লেক, পার্ক ইত্যাদি। গাড়ি ও সাইকেল পাকিং করার জায়গায় রয়েছে।

প্রকল্পটি করার পেছনে প্রধান কারণ ছিল বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা, বন্যা প্রতিরোধ, ময়লা পানি নিষ্কাশন, যানজট নিরসন এবং নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা।

এর কারণে রামপুরার যাত্রীরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাওরানবাজার পৌছাতে পারে। আবার কাওরানবাজারের যাত্রীর খুব দ্রুত শুলশান বাড্ডায় যেতে পারে। এর ফলে গুলশান, বাড্ডা, রামপুরা, মৌচাক ও মগবাজারের যানজট থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত পেয়েছে। কিন্তু রামপুরা পয়েন্টে হাতিরঝিলে প্রবেশমুখে এখন যানজট লক্ষ্য করা যায়। এতে করে ভোগান্তি পোহাতে হয় ঐ সকল রাস্তার যানবাহনকে।

Leave a Comment