ইতিহাসের সবথেকে ভয়ঙ্কর জেল দেখলে চোখে জল চলে আসবে

জেলের দেওয়াল অন্ধকার রাতের মত হয় যেখানে একদিকে পৃথিবী দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে অন্যদিকে দেওয়ালের ওপিঠে সময় পুরোপুরি থেমে যায় কিন্তু এরই নাম জেল । যেখানে কয়েদিকে তার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় এবং সময় গুনতে হয় নিজের মুক্তির জন্য কিন্তু ইতিহাস এইসব কয়েদিদের উপর খুবই নৃশংস ছিল । এইসব কয়দিদের মুক্তিতো দূরের কথা বেঁচে থাকার আশা পর্যন্ত ছেড়ে দিতে হত । কয়েদিরা অপেক্ষা করত কেবলমাত্র তাদের মৃত্যুর জন্য যেটা তাদের এই নৃশংস জীবন থেকে মুক্ত করতে পারত । কারন ইতিহাসের সবথেকে ভয়ঙ্কর জেল ছিল এমনই ভয়ঙ্কর ।

জেল

রুশ আর চীনের মাঝখানে অবস্থিত পূর্ব এশিয়ার দেশ মঙ্গোলিয়া । একসময় কয়েদিদের এতটাই যন্ত্রণা দিত যেটা শুনলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন । বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত এই দেশ বন্দীদের সাজা হিসেবে ৩/৪ ফুটের একটি বাক্সতে আটকে রাখত । যেখানে একজন মানুষ ঠিক মত বসতে বা শুতে পারত না । মঙ্গোলিয়ার উর্গা জেলে এমনই লক্ষ লক্ষ বন্দি তিলে তিলে তাদের জীবন দিয়েছে । যেখানে এইসব বন্দীদের ইতিহাসের সবথেকে ভয়ঙ্কর জেল;বাক্সতে আটকে রাখা হয়েছিল ।

ডেথস্ কফিন নামে বিখ্যাত ৩/৪ ফুটের এই বাক্স সাজা দেওয়ার জন্য তৈরী করা হলেও আসলে এই বাক্স নিজের নামের মতই মৃত্যুর সাধক ছিল । যেখানে যাওয়ার পর কয়েদির মুক্তি ততক্ষণ হতো না যতক্ষণ না কয়েদীর মৃত্যু হয় । মোটামুটি ৬ ইঞ্চির একটি ছোট ছিদ্র যেটা খাবার খাওয়ার জন্য থাকতো । তাছাড়া কয়েদীরা যে মলমূত্র ত্যাগ করতো তা পরিষ্কারও করা হতো না । এতটা নির্দয় যন্ত্রণা দেওয়ার পর কয়েদিদের ওপর যে দোয়া করা হতো-তা হলো এইসব কয়েদীরা নিজেদের ইচ্ছায় বর্ষার সময় খোলা আকাশের নিচে থাকতে পারত । যাতে বজ্রপাত হয়ে তার মৃত্যু হয় । নিজের জীবনের শেষ দিনে খোলা আকাশের নিচে নিজের জীবন দেয়া ঐ নরকে জীবন কাটানোর থেকে অনেক ভালো হতো ।

জেলখানা

আমেরিকার Civil War এক এমন গৃহযুদ্ধ যেটা শতাধিক বছর ধরে চলেছিল এবং গোলামী প্রথাকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলেছিল । লক্ষ লক্ষ গোলামকে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার পথ দেখায় এই বিপ্লব কিন্তু গোলামী থেকে স্বাধীন হওয়ার এই পথ এতটাই সহজ ছিল না । গোলাম থেকে স্বাধীন হওয়ার এই চিন্তা বিপ্লবের জন্ম দেয় এবং নিজের নাগরিকদের বিপ্লবী করে তোলে । ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত চলা এই যুদ্ধে ঐসব লোকেদের বন্দী করা হয় যারা গোলামীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল । এই সব বিপ্লবীদের বলিদান কেবলমাত্র বন্দি হওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল না ।

কারণ যে কারাগারে এদের বন্দি করা হয় তার নাম ছিল অ্যান্ডারসন ভেলি । যে কারাগারের থেকে নরক ছিল অনেক ভালো জায়গা । ঐতিহাসিকরা বলেন এই যুদ্ধের ফলে অ্যান্ডারসন ভেলি নিজের জায়গা থেকে চারগুণ বেশি কয়েদিদের ভর্তি হয়েছিল । যেখানে কয়েদিদের খাবারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না এছাড়া কয়েদীরা যেখানে থাকত সেখানেই মলমূত্র ত্যাগ করত । কিছু কয়দিরা খিদে আর তৃষ্ণার ফলে মারা যায় এবং যারা বেঁচে ছিল তাদেরকে মারাত্মক রোগে ঘিরে ফেলেছিল । অ্যান্ডারসন ভেলির এই অবস্থার ওপর অনেক বইও লেখা হয়েছে যেখানে বন্দীদের একটি জীবিত লাশ বলা হয়েছে । যুদ্ধতো সমাপ্ত হল দোষীদের ওপর আরোপ করা হলো কিন্তু এই কয়েদিদের ন্যায় বিচার কখনোই হলো না আর গোলামী থেকে যে স্বাধীনতা পাওয়া গেল তার উৎসব আনন্দ উপভোগের জন্য এইসব লোক আর জীবিত ছিল না ।

Leave a Comment