ব্যবসা

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের উপায় ২০২২

বর্তমান বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। নতুন নতুন উদ্ভাবন, চিন্তাধারা বদলে দিচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন। মানুষের সফল ভাবে বাঁচতে চাওয়া, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাওয়ার ইচ্ছাই নতুন নতুন উদ্ভাবন সৃষ্টি করছে। বাড়িয়ে দিচ্ছে আয়y উন্নতির সুযোগ।

চাকরি, ব্যাবসা, ফ্রিল্যান্সিং এর মতো বিভিন্ন কাজ করে মানুষ উপার্জন করছেন। এসবের মাঝে যুক্ত হয়েছে নতুন একটি নাম, শেয়ার বিজনেস। যদিও ব্যাবসা কেন্দ্রিক বিষয় তবুও এর কার্যক্রম ভিন্ন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও শেয়ার বিজনেসের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শেয়ার বিজনেসে বিনিয়োগ করার উপায় সহ আদ্যোপান্ত জানা যাবে এই আর্টিকেলে। 

শেয়ার বাজার কি?

শেয়ার বাজার শব্দটির সাথে কম বেশি আমরা সবাই পরিচিত। সাধারণত শেয়ার বলতে আমরা বুঝি কোন কিছু ভাগাভাগি করা। শেয়ার বাজারের শেয়ার অর্থ বোঝায় কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানার কিছু অংশ ক্রয় করা । 

শেয়ার বাজারের এই শেয়ার কম কিংবা বেশী যেকোনো ধরনের হতে পারে। মূলত কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ানোর জন্য তাদের ব্যবসার অংশ গুলো ছোট ছোট কিছু অংশে ভাগ করে বিক্রি করে থাকে আর এই প্রক্রিয়াটাই শেয়ারবাজার প্রক্রিয়া। 

শেয়ার বাজারের প্রক্রিয়া

শেয়ার কেনা বেচার মাধ্যমেই শেয়ার বাজারের প্রক্রিয়া চলমান থাকে। শেয়ারের যে যতটুকু অংশ কিনে থাকে সে ততটুকু অংশের মালিক বলে বিবেচিত হয়। শেয়ারের অনুপাত অনুসারে শেয়ার ক্রয়কারীরা তাদের অংশের লাভ বা ক্ষতির অংশ পেয়ে থাকেন। 

পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মতো নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান গুলোর শেয়ার বেচাকেনা করা হয় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থমন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই শেয়ার বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

শেয়ার বাজারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

বর্তমান বিশ্বে শেয়ার বাজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। স্বাভাবিক ভাবে আয়-উন্নতি বাড়াতে পর্যাপ্ত জ্ঞান নিয়ে শেয়ার বাজারে নামলে যে কেউ সফলতার দেখা পেয়ে যায়।

শেয়ার বাজারের প্রথম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন কোম্পানির ব্যবসা বাড়াতে সাধারন মানুষের কাছ থেকে আইপিওর মাধ্যমে টাকা নিয়ে ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় টাকার চাহিদা পূরণ করা এবং ব্যবসা আরও সুন্দরভাবে যেন করতে পারে সে উপযোগী করে তোলা। দ্বিতীয় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সাধারণ বিনিয়োগকারীর যারা নিজ ইচ্ছায় বিনিয়োগ করতে চায় তারা তাদের পছন্দের কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারেন যার ফলে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী উভয়ের লাভ হয়। 

আইপিও কি

শেয়ার বাজারে আইপিও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। IPO বা আইপিও এর পূর্ণরুপ Initial Public Offering যার অর্থ দাঁড়ায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব।

বিভিন্ন লিমিটেড কোম্পানি সমূহ তাদের মূলধন সংগ্রহের জন্য প্রাইমারি মার্কেটে শেয়ার অফার করে থাকে। সাধারণ জনগণ অর্থাৎ যারা শেয়ার ক্রয় করতে চান তারা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অফারকৃত সেই শেয়ার ক্রয়ের জন্য আবেদন করে থাকে। মূলত এই প্রক্রিয়াকে আইপিও বলা হয়।

শেয়ার বাজারে শেয়ার বণ্টন করা হয় মূলত আবেদনকারী আনুপাতিক হারে। প্রত্যেক আবেদনকারিকে সর্বনিম্ন ১০,০০০ টাকা দিয়ে আইপিও আবেদন করতে হয়।

প্রত্যেক আবেদনকারীর প্রাপ্ত শেয়ার আবেদনকারী চাইলেই প্রথমদিনেই ৫০% লাভে বিক্রয় করতে পারে। এদিক থেকে বলা যায় আইপিও একেবারেই ঝুকিমুক্ত বিনিয়োগ পদ্ধতি।

মোটাদাগে আইপিও হল কোম্পানি আইনে রেজিস্ট্রার্ডকৃত প্রাইভেট কোম্পানির পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রুপান্তরের একটি সহজ প্রক্রিয়া।

শেয়ার বাজার নিয়ে বিষদ ধারণা

সাধারনত একটি শেয়ার একটি কোম্পানির মালিকানার ক্ষুদ্র অংশ। যেকোনো বিনিয়োগকারী যে কোন কোম্পানির শেয়ার কিনে উক্ত কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার হতে পারে। শেয়ারকে স্টোক নামেও ডাকা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে শেয়ার বিজনেসকে স্টোক বিজনেস বলেও ডাকার প্রচলন আছে।

যে কোন কোম্পানির মূলধন কে শেয়ার ক্যাপিটাল বলে। মূলত একটি শেয়ার একটি কোম্পানির মূলধনের ক্ষুদ্রতম অংশ। মোট শেয়ার সংখ্যা বুঝতে এই উদাহরণ টানা যায়, মোট মূলধনের টাকাকে দশ টাকা হিসেবে ভাগ করে যে সংখ্যা পাওয়া যাবে তাকে মোট শেয়ার সংখ্যা বলে।

যদি একটি কোম্পানির ৩৪ কোটি টাকা মূলধন থাকে তাহলে ১০ টাকা হিসাবে ভাগ করলে সেই কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা হবে ৩.৪ কোটি। সাধারণত কেউ  যদি কোন কোম্পানীর শেয়ার ও কিনে থাকে তাহলে সে ওই কোম্পানির  আংশিক মালিক হবেন। 

শেয়ারের প্রকারভেদ

একটি কোম্পানি বিভিন্ন ধরণের শেয়ার থাকতে পারে তাদের সুবিধা অনুযায়ী।  বাজারে মূলত পাঁচ রকমের শেয়ার দেখা যায়।

  • ইক্যুইটি শেয়ার (Equity or common shares) 
  • প্রেফারেন্স শেয়ার (Preference shares) 
  • নন ভোটিং সাধারণ শেয়ার (Non-voting common shares)
  • কিউমুলেটিভ প্রেফারেন্স শেয়ার (Cumulative Preference Share)
  • রিডেমেবল শেয়ার (Redeemable shares) 

তবে বর্তমানে দুধরনের শেয়ারের প্রচলন রয়েছে। তা হলঃ

১. ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ার

২. প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকার শেয়ার 

ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ার

যে শেয়ারের শেয়ারের মালিকেরা সাধারণ অধিকারের ভিত্তিতে লভ্যাংশ ভোগ করেন এবং মূলধন ফেরতপান কিন্তু কোম্পানিতে দায়িত্ব, অধিকার থাকেই তাকে ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ার বলা হয়। 

ইক্যুইটি শেয়ার অনুযায়ী কোনো বছর কোম্পানি কোনো লভ্যাংশ না পেলে শেয়ারধারীরা তাদের লভ্যাংশও পাবেনা। ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ারে কারবার শেয়ার মালিকরা কারবার পরিচালনা করতে পারে । 

প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকার শেয়ার

যে শেয়ার মালিকরা লভ্যাংশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায় সেই শেয়ারকে বলা হয় প্ররফারেন্স বা অগ্রাধিকার শেয়ার। এই শেয়ারে উল্লেখ থাকে শেয়ার হোল্ডারা কত হারে মুনাফা পাবে।

প্রেফারেন্স বা অগ্রাধিকার শেয়ারে শেয়ার মালিকরা কারবার পরিচালনা করতে পারেনা।

স্টক একচেঞ্জ

শেয়ার বাজারে পরিচিত একটি নাম স্টক একচেঞ্জ। বাংলাদেশে দুটো স্টক একচেঞ্জ অফিস রয়েছে। একটি হলো ঢাকা স্টক একচেঞ্জ আর অপরটি চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জ। 

শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড সরকারি বা বেসরকারি আর্থিক সামগ্রী কেনাবেচার মাধ্যমই হলো স্টক এক্সচেঞ্জ।  স্টক এক্সচেঞ্জ কখনোই সরাসরি কোন কোম্পানির শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে কেনাবেচা করে না। স্টক একচেঞ্জ হলো কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর অধীনে নিবন্ধিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান।

শেয়ারবাজারের স্টক এক্সচেঞ্জের অনেক কাজ রয়েছে।  কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলঃ 

  • স্টক একচেঞ্জ শেয়ারবাজারে ইচ্ছুক কোম্পানির তালিকাভুক্ত করে থাকে। 
  • স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত করার সময় যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল সেই সব শর্ত মেনে চলছে কিনা তা যাচাই বাছাই করা সহ সদস্যগণ ঠিক মত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা।
  •  বিক্রিত শেয়ারের লেনদেন সম্পাদনের ব্যবস্থা করা বিনিয়োগকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
  • বাই সেল করার জন্য বড় আকারের একটি স্থাপনা ও সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা করা।
  • শেয়ারের পূণ্য এবং অন্যদিকে পাবলিক লিমিটেডের পণ্য আলাদা সত্ত্বা এ দুইয়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করা। 

ব্রোকার হাউজ

ব্রোকার হাউজ হলো সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন থেকে লাইসেন্সধারী একটি প্রতিষ্ঠান যাদের প্রধান কাজ শেয়ার বাজারে ক্রয়-বিক্রয় করা, আইপিওর টাকা জমা নেওয়া,  সিডিবিএল এস সি এর সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য কাজ করা। সহজ কথায়, ব্রোকার হাউজ হলো কিছু লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান যারা শেয়ার বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হয়ে কাজ করে থাকে। কেননা শেয়ার বাজারে সরাসরি কেনা-বেঁচা করা যায়না, ব্রোকারের মাধ্যমে কেনা-বেঁচা করতে হয় আর এই কেনা-বেঁচা করে দেয় ব্রোকার হাউজের ব্রোকার। তবে এক্ষেত্রে তারা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ লভ্যাংস কেটে নেয়। 

ব্রোকার হাউজ সাধারণত একটি ব্যাংকের মতন কাজ করে থাকে। ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পর্কে মোটামুটি সবারই কম বেশি ধারণা আছে। ব্যাংক সাধারণত মানুষের জন্য ব্যাংকিং সেবা দিয়ে থাকে। যেমন ব্যাংক একাউন্ট খোলা, টাকা জমা নেওয়া, ঋণ দেওয়া ইত্যাদি কাজগুলো করে থাকে। ঠিক তেমনি ব্রোকার হাউজ বিনিয়োগকারীর জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে শেয়ার কেনার জন্য টাকা জমা নেয়া,  অনলাইন সেবার মাধ্যমে গ্রাহকের নির্দেশ অনুযায়ী কেনাবেচা করা সহ  ব্যাংক যেমন লোন দেয় ঠিক তেমনি ব্রোকার হাউজ লোন দিয়ে থাকে। ব্রোকার হাউজের লোনকে মার্জিন লোন  বলা হয়। সকল ব্রোকার হাউজ একইরকম সেবা দেয় না তাই ভালো ভাবে খোজ খবর নিয়ে ব্রোকার হাউজ নির্বাচন করা জরুরী।

ব্রোকার হাউজে কেনা-বেঁচা করার জন্য ব্রোকার একাউন্টের পাশাপাশি বিও একাউন্ট থাকতে হয়। 

বিও একাউন্ট খোলার পদ্ধতি

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে নিজের পথ চলা শুরু করার প্রথম ধাপটি হলো একটি বিও একাউন্ট খোলা। সহজে অনলাইনে ঘরে বসে বিও একাউন্ট খোলা যায় তবে কিছু সহজ শর্ত রয়েছে। 

শর্ত গুলো হলোঃ সাবালক অর্থাৎ যে একাউন্ট খুলবে তার বয়স ১৮ উর্ধ্ব হতে হবে, ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে, জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা পাসপোর্ট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের যে কোনো একটি থাকতে হবে। এই মৌলিক বিষয় গুলো ঠিক থাকলে মাত্র চারটি ধাপে সহজে বিও একাউন্ট খোলা যায়।

বিও একাউন্ট খোলার শর্ত গুলো এক নজরে

  • বয়স আঠারো উর্ধ্ব হতে হবে
  • ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে
  • জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্টের যে কোনো একটি থাকতে হবে।

সহজ এই শর্ত গুলো মেনে চারটি ধাপে বিও একাউন্ট খোলা যায়। প্রথম ধাপে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। রেজিস্ট্রেশনের জন্য একটি ভ্যালিড ই-মেইল আইডি প্রয়োজন। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে ইউজার আইডিও পাসওয়ার্ড দিতে হবে। 

দ্বিতীয় ধাপে অনলাইন বিও ফরম পূরণ করতে হয়। অনলাইন ফর্মের জন্যও দরকার বিষদ তথ্য। আইডি, পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার পর এই বিও ফরম আসে। বিও একাউন্ট খুলতে একটা বিষয় নির্ধারণ করতে হয় প্রথমেই তা হলে বিও অ্যাকাউন্টটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট হবে নাকি ইন্ডিভিজুয়াল অ্যাকাউন্ট হবে। এটি নির্ধারণের পর অ্যাকাউন্ট হোল্ডার এর যাবতীয় বিস্তারিত, জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট হোল্ডার এর বিস্তারিত, এবং নমিনি এর বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়ে গেলে  save and continue বাটনে ক্লিক পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে হবে। 

এরপর তৃতীয় ধাপ তথা সংযুক্তি প্যানেল এর কাজ। এই ধাপে Attachment panel এ ক্লায়েন্টের সম্প্রতি তোলা ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের স্ক্যান কপি অথবা পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। সেই সাথে ব্যাংক একাউন্ট ও সংযুক্ত করতে হবে। একাউন্ট হোল্ডারের পাশাপাশি নমিনি এর সম্প্রতি তোলা  ছবি,  জাতীয় পরিচয় পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট এর স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। সিগনেচার সাবমিটের পর সেভ করলে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে।

সর্বশেষ ধাপে পেমেন্ট পদ্ধতি চলে আসে। বিও একাউন্টে পেমেন্ট করার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। যেমনঃ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে বিকাশ, রকেট, নগদ, ইউপে, ডিমানি, এম ক্যাশ, মাই ক্যাশ, এ বি ক্যাশ, টি ক্যাশ, ওকে ওয়ালেট, সিউর ক্যাশ এর মতো মাধ্যম। ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর মধ্যে রয়েছে এবি ব্যাংক, ইসলামি ব্যাংক, সিটি টাচ, এম টি বি, ব্যাংক এশিয়া, ট্যাপ এন পে, আই পে এর মতো পেমেন্ট সার্ভিস। এছাড়াও ডমেস্টিক ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড, নেক্সাস ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ড এর মাধ্যমে খুব সহজেই  বিও একাউন্টের  পেমেন্ট পরিশোধ করা যায়। 

সাধারণত একটি বিও একাউন্ট খুলতে ৪৫০-৬০০ টাকা খরচ করতে হয়। এই টাকাই মূলত এককালীন বিনিয়োগ। তাছাড়া প্রতিবছর জুন মাসে বিও একাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪৫০ টাকা সিডিবিএল কে দিতে হয়। 

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে নূন্যতম টাকার পরিমাণ

শেয়ার বাজারে সাধারণত দুই ভাগে বিনিয়োগ করা যায়। একটি হলো আইপিও মার্কেট যা প্রাইমারি মার্কেট নামে পরিচিত। অপরটি হলো সেকেন্ডারি মার্কেট। 

আইপিও বা প্রাইমারি মার্কেটে বিনিয়োগে ঝুঁকি না থাকায় বাংলাদেশে সাধারণত মানুষ প্রাইসারি মার্কেটেই বিনিয়োগ করে থাকে সেই সাথে ভালো পরিমাণ টাকা আয় হয় প্রাইমানি মার্কেট থেকে। আইপিও মার্কেটের মাধ্যমে শেয়ার মার্কেটে আয় করতে নূন্যতম ৫০০০ টাকা থেকে ৬০০০ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। প্রাইমারি মার্কেটে টাকার পরিমাণ নির্দিষ্ট না। নির্দিষ্ট না হওয়ার কারণ হলো অনেক কোম্পানি তাদের শেয়ার ফেস ভ্যালুর উপর নির্ভর করে  বিনিয়োগ করে আবার অনেক কোম্পানি প্রিমিয়াম নিয়ে থাকে। একটি বিও একাউন্ট দিয়ে একটিমাত্র শেয়ারের আবেদন করা যায়। 

সেন্ডারি মার্কেটের ক্ষেত্রেও বিষদ জানা জরুরী। সেকেন্ডারি মার্কেটে ক্রেতা তার স্বাচ্ছন্দ অনুযায়ী বিনিয়োগ করতে পারে । তবে সেকেন্ডারি মার্কেটে নূন্যতম ২০০০০ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু করা ভালো। যদিও এর থেকে কম পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করা যায় তবে সেক্ষেত্রে লাভ বা লোকশান বোঝা যায় না। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে শেয়ার বাজারে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে বিনিয়োগ করা যাবে না, এতে লাভের থেকে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। 

সব থেকে বড় কথা হলো শেয়ার বাজারে শুধু টাকা না। টাকার সাথে ধৈর্য্য বিনিয়োগ করতে হবে নয়তো শেয়ার বাজারে ব্যবসা করা সম্ভব না। 

শেয়ার বাজার সম্পর্কে ভুল ধারণা

শেয়ার বাজার একটি আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসা পদ্ধতি হলেও আমাদের প্রচুর ভুল ধারণা আছে শেয়ার বাজার নিয়ে। বিশেষ করে আমাদের দেশে। 

শেয়ার বাজার সম্পর্কে একটা কথা প্রতিনিয়ত শোনা যায় আর তা হলো, ” শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা আর জুয়া খেলা একই কথা ” শেয়ার বাজারের সাথে সম্পৃক্ত মানুষরা এই কথাটি প্রায়ই শুনে থাকেন। কিন্তু যারা এ বিষয়ে কথা বলে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তাদের সত্যিকার অর্থে শেয়ার বাজার বা স্টক মার্কেট সম্পর্কে নূন্যতম ধারণাও নেই।

শেয়ার বাজার আর জুয়া খেলা এই কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা ও ভ্রান্ত ধারণা। জুয়া খেলায় বোঝায় কোনো পরিমাণ টাকা দিলে সেক্ষেত্র ওই পরিমাণ বা তার থেকে বেশি টাকা লাভ পাওয়া যাবে নয়তো পুরো টাকা গচ্ছা যাবে। কিন্তু শেয়ার বাজারে বিনিয়োগে লস হলেও কখনো মূলধন শূণ্য হয় না। শেয়ার বাজারে ড়াম বাড়ে নয়তো কমে। যদি বোঝা যায় দাম কমবে কিছুদিনের মধ্যে সেক্ষেত্রে ওই শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে আসার উপায় আছে। বুঝতে তাহলে অসুবিধা নেই যে শেয়ার বাজার আর জুয়া খেলা এক নয়, পুরোপুরি ভিন্ন বিষয়।

আরেকটি কথার প্রচলন আছে যে শেয়ার বাজার শুধুমাত্র ধনীদের জন্য। শেয়ার বাজার সম্পর্কে যত ভুল ধারণা রয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম । কিন্তু পরিসংখ্যান বলে আমাড়ের দেশের ৭০% বিনিয়োগকারী খুবই কম পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করে শেয়ার বাজারে প্রবেশ করে। তবে এটা সত্য যে শেয়ার বাজারে যত বেশি বিনিয়োগ করা যায়, লাভ বেশি আসার সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে।

শেয়ারের দাম এখন কম কিন্তু বেড়ে যাকে, এমন চিন্তা ৬৫% বিনিয়োগকারীই করে থাকে। যে কারণে তারা বেশি লমের সম্মুখীন হয়। শেয়ার বাজারের ধর্ম হচ্ছে দাম যেমন বাড়বে তেমন কমবে। সেই সাথে কোনো শেয়ারের দাম এখন কম কিন্তু এর দাম বেড়ে যাবে এটা ভুল ধারণা। এমনটা মনে করলে লস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। 

শেয়ার বাজারের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হচ্ছে, ” শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে তেমন জ্ঞান লাগে না, লাগে ভাগ্য ” শত ভাগ অবাস্তব কথা এটি। সত্যিকার অর্থেই যদি এমন হতো তাহলে অন্তত আমাদের দেশের এত এত মানুষ লসের সম্মুখীন হতো না। তাই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের জন্য জ্ঞানের বিকল্প নেই। শেয়ার বাজার সম্পর্কে স্বল্প জ্ঞান নিয়ে প্রবেশ করলে লসের সম্ভাবনা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। 

ঘরে বসে শেয়ার কেনা বেঁচা

শেয়ার কেনা-বেঁচা হলো শেয়ার বাজারের প্রধাণ কার্যক্রম। ঘরে বসে শেয়ার কেনা-বেঁচা করা যাবে কি না এটা একটা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় যারা শেয়ার বাজারে নতুন প্রবেশ করতে চায় তাদের জন্য। সত্যিকার অর্থে শুধু ঘরে বসেই নয় দেশের বাহিরে থেকেও শেয়ার কেনা-বেঁচা করা যায়। এক্ষেত্রে একাউন্টে টাকা জমা প্রদানের মাধ্যমে মার্কেট খোলা থাকার সময় ব্রোকার হাউজে কথা বলে শেয়ার কেনা বেঁচা করা যায়। বর্তমানে শেয়ার কেনা বেঁচা আরো সহজ হয়ে গেছে। মোবাইল এপের মাধ্যমে শেয়ার কেনা বেঁচা করা যাচ্ছে খুব সহজে। কাউকে কোনো রকম ফোন কল কিংবা ঝামেলা ছাড়াই শেয়ার কেনা বেঁচা করা যায়। ঘরে বসে শেয়ার কেনা বেঁচা করার সুবিধার কারণে অনেকেই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করছে এবং লাভবান হচ্ছে।

সর্বনিম্ন কতোগুলো শেয়ার কেনা যায়

শেয়ার বাজারে সর্বনিম্ন শেয়ার কেনার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। কেউ কোনো কোম্পানির একটি মাত্র শেয়ার কিনতে চাইলেও কিনতে পারবে। সহজ ভাবে বলতে গেলে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই।

শেয়ার কেনার জন্য টাকা জমা দেওয়া

শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেয়ার কেনার আগে ব্রোকার হাউজে নগদ টাকা কিংবা চেক জমা দেয়ার মাধ্যমে শেয়ার কিনতে হয়। ব্রোকার হাউজে টাকা দিলে তারা বিও একাউন্টে টাকা ঢুকিয়ে দেবে। এরপর নিজের সুবিধা মতো সময়ে শেয়ার কেনা যাবে।

টাকা উত্তোলন

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে শেয়ার বিক্রি করলে কিংবা লভ্যাংশ কিভাবে উত্তোলন করা যায়। কোনো শেয়ার বিক্রির পরে বিক্রিত টাকা নিজস্ব বিও একাউন্টে জমা হয়। অতঃপর সেই টাকা মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক একাউন্ট কিংবা কার্ডের মাধ্যমে উত্তোলন করার জন্য ব্রোকার হাউজে জানিয়ে দিলে সেই টাকা পাঠিয়ে দেবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো সময় সেই টাকা উত্তোলন করা যাবে।

সার্কিট ব্রেকার

শেয়ার বাজারে বহুল পরিচিত একটি শব্দ হলো সার্কিট ব্রেকার। মূলত, শেয়ার বাজারে একদিনে কোনো একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়ে যাওয়া কিংবা কমে যাওয়া প্রতিহত করার যে সিস্টেম সেটাই সার্কিট ব্রেকার। সার্কিট ব্রেকারের নির্ধারিত দাম মেনেই শেয়ার বাজার চলে। অর্থাৎ কেউ চাইলেই দাম বাড়াতে বা কমাতে পারবে না। সার্কিট ব্রেকারের এই আইন সব ধরণের শেয়ারের ক্ষেত্রেই প্রোযজ্য থাকে।

শেয়ার বাজারের ক্যাটগরি

শেয়ার বাজার ক্যাটাগরির মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়। শেয়ার বাজারে মোট পাঁচ ধরণের ক্যাটাগরি থাকে। সেগুলো হলো –

  • A : যে সকল কোম্পানি নিয়মিত সাধারণ সভার পাশাপাশি বার্ষিক ১০% কিংবা তার অধিক লভ্যাংশ প্রদান করে তারা A ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় গ্রামীন ফোন, স্কয়ার ফার্মার মতো কোম্পানী সহ মিউচুয়াল ফান্ড সমূহ।
  • B : যে সকল কোম্পানি নিয়মিত সাধারণ সভার পাশাপাশি বার্ষিক ১০% এর কম লভ্যাংশ প্রদান করে তারা B ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। যেমনঃ আজিজ পাইপ, ফুওয়াং ফুড ইত্যাদি।
  • N : নতুন লিস্টেড হওয়া কোম্পানি গুলো শেয়ার বাজারে N ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। তবে নতুন ক্যাটাগরিভুক্ত হওয়ার পরের অর্থবছরে লভ্যাংশ প্রদানের মাত্রার উপর ভিত্তি করে অন্য ক্যাটাগরিতে যেতে পারে।
  • G (Green Field) : যে সকল কোম্পানী উৎপাদনে প্রবেশ করার আগেই শেয়ার বাজারে লিস্টেড হয় সে সকল কোম্পানি G ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত।
  • Z : যে সকল কোম্পানি নিয়মিত সাধারণ সভার করেনা,  বার্ষিক লভ্যাংশ প্রদান করে না অথবা টানা ৬ মাস কিংবা তার বেশি সময় ধরে উৎপাদনে নেই সে সকল কোম্পানি Z ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। নতুন বিনিয়োগকারীদের এই ক্যাটাগরি এরিয়ে চলা উচিত। 

এই ক্যাটগোরির মধ্যে G ক্যাটাগরি ব্যতিত বাকি গুলোর প্রচলন বেশি। G ক্যাটাগরির ব্যবহার আমাদের দেশে নেই বললেই চলে। তবে শেয়ার হোল্ডার দের একটা বিষয়ে জানা জরুরি। তা হলো সে যে ক্যাটাগরির শেয়ার হোল্ডার হোক না কেন তার শেয়ার কতদিনের মাথায় ম্যাচিউর হবে এটা জেনে রাখতে হবে।

শেয়ারের দাম ওঠা-নামার কারণ

শেয়ারের দাম ওঠা-নামা প্রায়ই করে থাকে। কোম্পানি ব্যবসা ভালো করবে, বেশি পরিমাণ বিনিয়োগ করবে, ভালো বোনাস দিবে এমন ঘোষণা বা সম্ভাবনা দেখা দিলে শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। সহজ ভাবে বললে কোনো কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়লে যেমন শেয়ারের দাম বাড়ে তেমনি উৎপাদন ক্ষমতা কমলে শেয়ারের দাম ও কমে যায়। 

মূলকথা হলো, কোম্পানীর কার্যক্ষমতার উপরই নির্ভর করে শেয়ারের দাম বাড়া কিংবা কমার। 

ভালো কোম্পানি ও ভালো শেয়ারের মধ্যে পার্থক্য

অনেকেরই ধারণ ভালো কোম্পানি মানেই ভালো শেয়ার। এই ধারণাটা এক রকম ভুল ধারণা। ভালো কোম্পানি বলেই যে সেখানে প্রচুর বিনিয়োগ করা যাবে, ঝুঁকি নেই এই ধারণাটা একদম ভুল। সাধারণত যে সকল কোম্পানি ভালো ডেবিডেন্ট দিয়ে থাকে, বাজারে সুনাম আছে, অনেকদিন হলো ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে তাদের ভালো কোম্পানী বলে আখ্যায়িত করা হয়।

অন্যদিকে ভালো শেয়ার বলতে সে সব কোম্পানিকে বোঝায় যেখানে প্রচুর বেঁচা-কেনা হয়, তুলনামূলক রিস্ক কম থাকে সেই সাথে ভালো পরিমাণ টাকা লাভ করা যায়। তবে ভালো কোম্পানিতেও ভালো শেয়ার হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে কোম্পানি ভালো এবং শেয়ারও ভালো তাহলে লাভ বেশি আসে।

বোনাস শেয়ার

যে কোনো কোম্পানী নগদ অর্থ না দিয়ে শেয়ার হোল্ডারদেরকে তাদের হাতে থাকা শেয়ারের বিপরীতে নতুন শেয়ারের মালিকানা অর্থাৎ যে শেয়ার সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে সেই শেয়ারকেই বলা হয় বোনাস শেয়ার। 

যে সকল কোম্পানী স্থায়ী সম্পদের জন্য নগদ অর্থের প্রয়োজন অর্থাৎ ব্যাবসা বাড়ানোর জন্য দালান-কোঠা, যন্ত্রাংশ ইত্যাদি ক্রয় করার দরকার পরে সে সকল কোম্পানী সাধারণত নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে বোনাস শেয়ার দিয়ে থাকে এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদেরও শেয়ারের প্রতি মনোযোগ থাকে।

শেয়ারের ফেস ভ্যালু

শেয়ারের ফেস ভ্যালু হলো এমন একটি মূল্য যার মাধ্যমে শেয়ার স্ট্রক একচেঞ্জের তালিকাভুক্ত হয়। অন্যভাবে বলা যায়, যে দামের উপর লভ্যাংশ নির্ণয় করা হয় সেটাই শেয়ারের লভ্যাংশ। 

আমাদের দেশের তালিকাভুক্ত কোম্পানী গুলো সাধারণত ১০ টাকায় তালিকাভুক্ত হয় এবং ১০ টাকার উপর যে দাম থাকে তখন তাকে প্রিমিয়াম প্রাইজ হিসেবে গণ্য করা হয়। যখন একটি লিস্টেড কোম্পানির আর্থিক অবস্থা নিম্নমুখী হয় তখন এটি সেই কোম্পানির বাজারমূল্যে প্রভাব ফেলে। 

অনেক সময় দেখা যায় কোম্পানি গুলোর শেয়ার প্রাইস তার ফেস ভ্যালুর নিচে চলে যায়। আর একটি কারণে নিচে চলে যায় সেটি হল কোম্পানির বাজারের চাহিদা।  উদাহরণ স্বরূপ অনেক ব্যাংক নিয়মিত ডেবিটেন্ট দেয় কিন্তু এসব কোম্পানির মূল্য ফেস ভ্যালুর নিচে। এর কারণ বিনিয়োগকারীরা ঐ শেয়ার কিনতে চায় না। চাহিদা স্বল্পতার কারণে শেয়ারের দাম এর নিচে চলে যায়।

ডিভিডেন্ড ইল্ড

কোম্পানি যে পরিমাণ ক্যাশ ডেভিডেন্ড দিয়েছে তা বর্তমান বাজার মূল্যের কত অংশ তাকে ডেভিডেন্ড ইল্ড বলে।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ না করার কারণ

বাজারে বিনিয়োগ করতে না চাওয়ার বেশ কিছু কারণ আছে।

যেমনঃ

১. শেয়ারবাজার বুঝতে না পারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ না করার অন্যতম প্রধান কারণ শেয়ার বাজার কি, কিভাবে কাজ করে, কিভাবে বিনিয়োগ করতে হয় এবং ইত্যাদি বিষয়গুলো বুঝতে না পারা।

২. শেয়ার বাজার নিয়ে ভুল ধারণা। যেমন একটি কথা সব সময় শোনা যায় যে,  শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা আর জুয়া খেলা এক বিষয়। এটি একটি ভুল ধারণা যা সম্পর্কে আগেই বিষদ বলা আছে।

৩. অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ না করার অন্যতম কারণ। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ তবে  এমন কোন ব্যবসা খুঁজে পাওয়া যাবেনা যেখানে কোনো ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা নেই।

শেয়ার বাজারে যারা বিনিয়োগ করতে চায় না তাদের অন্যতম যুক্তি থাকে এই অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকি। তবে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা ও সঠিক জ্ঞান অর্জন করে বিনিয়োগ করা যায় তবে আমি সেক্ষত্রে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো যে বিষদ জেনে ঝুঁকি কমানো যায় কিন্তু ঝুঁকি এড়ানো যায় না। এসব কারণেই অনেকে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে চায় না। 

পরিশেষ

শেয়ার বাজার বর্তমানে অতিপরিচিত একটি নাম। অনেকে এই ব্যবসায় প্রবেশ করে কোটিপতি হচ্ছে আবার কেউ হারাচ্ছে সর্বস্ব। যারা বিষদ জ্ঞান না রেখে, ধৈর্য্য না ধরে বিনিয়োগ করছে তারাই পথে বসছে। শেয়ার বাজার মূলত ধৈর্য্যের ব্যবসা। ধৈর্য্য ধারণ করে সকল নিয়ম মেনে বিনিয়োগ করে কেউ হতাশ হবেনা শেয়ার বাজারে। এজন্য দরকার মনোবল। সব বিষয় জেনে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে নিজের আয় বাড়ানো যাবে। তাই শেয়ার বাজারে প্রবেশের আগে বিস্তারিত জ্ঞান নেয়া আবশ্যক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button