শনি গ্রহ কি? শনি গ্রহ সম্পর্কে কিছু তথ্য

শনি গ্রহ কি?

আমাদের সৌরমণ্ডলের ষষ্ট গ্রহ “Saturn” মানে শনি গ্রহ । শনি গ্রহের Diameter বা ব্যাসরেখা  ১,১৬,৪৬৪ কি.মি আর শনি গ্রহ আমাদের পৃথিবী থেকে ১২০ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত । রাতের আকাশের উজ্জ্বল অব্জেক্টগুলির মধ্যে অন্যতম একটি হল এই শনি গ্রহ যাকে কোন টেলিস্কোপ ছাড়া সহজেই দেখতে পাওয়া যায় । শনি গ্রহের নাম রোমান দেবতা God of Agriculture এর নামানুসারে রাখা হয়েছে । ‍শনি গ্রহ আমাদের সৌরমণ্ডলের একটি অন্যতম বিচিত্র গ্রহ ।

শনি গ্রহ বৃহস্পতির পর আমাদের সৌরমণ্ডলের দ্বিতীয় সবথেকে বড় গ্রহ । শনি গ্রহের ডায়ামিটার বা ব্যাসরেখা আমাদের পৃথিবীর ব্যাসরেখা থেকে ৯.৫ গুন বেশি আর শনি গ্রহের আয়াতন আমাদের পৃথিবী থেকে ৮৩ গুণ বেশি । শনি গ্রহ যদিও আমাদের পৃথিবী থেকে বহুগুণ বড় কিন্তু এই গ্রহের ঘনত্ব পৃথিবী থেকে ৮ গুণ কম আর এজন্য আপনি যদি শনি গ্রহকে উঠিয়ে জলের উপর রাখতে পারেন যদিও এটা অসম্ভব কিন্তু যদি এমনটা হয় তাহলে শনি গ্রহ জলে ডুবে যাবে না বরং জলের উপর ভাসতে থাকবে ।

শনি গ্রহ

শনি গ্রহের আকার যদি আমরা পৃথিবীর সাথে তুলনা করি তাহলে একটি শনিগ্রহে ৭৬৪ খানা পৃথিবী ধরে যাবে কিন্তু যদি সূর্যের সাথে শনি গ্রহের কম্পেয়ার করা যায় তাহলে সূর্যের মধ্যে ১৬০০ খানা শনি গ্রহ ধরে যাবে। শনিগ্রহ গ্যাসের তৈরি একটি গ্রহ। যদি আপনি শনি গ্রহে দাঁড়ান তাহলে আপনাকে সাপোর্ট করার জন্য এমন কোন জায়গা থাকবে না যেমনটা আমরা পৃথিবীতে পেয়ে থাকি । এই প্লানেটের ৯৬.৩ শতাংশ হাইড্রোজেন ৩.২৫ শতাংশ হিলিয়াম এছাড়াও আছে মিথেন এমোনিয়া ইথেন ইত্যাদি গ্যাস এছাড়া তরল পদার্থ রূপে আছে এমোনিয়া জল আর অ্যামোনিয়াম হাইড্রোসালফাইড ।

শনি গ্রহের বলয় বা রিং

এবারে চলুন জেনে নেওয়া যাক শনি গ্রহের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ শনি গ্রহের রিংস সম্পর্কে । শনি গ্রহের এই রিংস ধূলিকণা, পাথরের টুকরো এবং বরফের ছোট ছোট টুকরো দিয়ে তৈরি । এই রিংসকে চৌদ্দটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে । যেগুলি নীজের নিজের জায়গায় থেকে স্বাধীনভাবে শনি গ্রহকে পরিক্রমণ করে । শনি গ্রহের এই রিংস ১,৭৫,০০০ মাইল মানে ২,৮২,০০০ কিলোমিটার চওড়া কিন্তু এর মোটার দিক থেকে মাএ ৩,২০০ ফুট।

শনি গ্রহের গঠণ

শনি গ্রহের উপগ্রহ বা চাঁদ

এবারে চলুন জেনে নেওয়া যাক শনি গ্রহের উপগ্রহ বা চাঁদ সম্পর্কে । শনি গ্রহের উপগ্রহ আমাদের পৃথিবীর মতো একটি নয় বরং অনেক উপগ্রহ বা চাঁদ আছে । শনি গ্রহের ৬২ খানা চাঁদ আছে যার মধ্যে ৫৩ টি চাাঁদের নাম দেওয়া সম্ভব হয়েছে । শনি গ্রহ আমাদের সৌরমন্ডলে বৃহস্পতির পর দ্বিতীয় সবথেকে বেশি উপগ্রহ বা চাঁদ বিশিষ্ট গ্রহ । যাদের মধ্যে বেশিরভাগেই ছোট কিন্তু কিছু উপগ্রহ খুবই বড় । শনি গ্রহের উপগ্রহের মধ্যে সবথেকে বড় এবং বিখ্যাত চাঁদ টাইটান যাকে ক্রিস্টিয়ান হুইজেনস (Christiaan Huygens) ১৬৫৫ সালের ২৫ মার্চ খুঁজে পান ।

এই টাইটান, মার্কারি প্ল্যানেট আর প্লুটো এর থেকেও বড় । যদিও শনি গ্রহের সবথেকে ছোট চাঁদ মিমাস (Mimas) যাকে উইলিয়াম হার্শেল (William Herschel) ১৭৮৯ সালের ১৭ সেপ্টম্বর খুঁজে পান । এছাড়া শনি গ্রহের সবথেকে উজ্জ্বল চাঁদ এনসেলাডাস (Enceladus) যাকে ১৭৮৯ সালের ২৮ আগষ্ট উইলিয়াম হার্শেল-ই আবিষ্কার করেন । যেটা আমাদের সৌরমণ্ডলের সমস্ত গ্রহ এবং উপগ্রহ-এর মধ্যে সবথেকে বেশি উজ্জ্বল ।  এনসেলাডাস নিজের উপর পড়া ১০০% সূর্য কিরনকে প্রতিফলিত করে দেয় যার আর এর কারন এই উপগ্রহের তল একদমই ক্লিন এবং সাদা ধবধবে বরফ দিয়ে তৈরি আর এই উপগ্রহের তাপমাত্রা – ২০১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের আশেপাশেই থাকে ।

শনি সন্ধানে অভিযান

শনি গ্রহ সম্পর্কে সবার একটি প্রশ্ন থাকে যে, শনি গ্রহের সন্ধানে গেছে কে?

মিশন পায়োনিয়ার-১১

শনি সম্পর্কে জানতে সর্ব প্রথম পায়োনিয়ার-১১ উৎক্ষেপন করা হয় ১৯৭৩ সালে যা ১৯৭৯ সালে শনি গ্রহের অঞ্চলে পৌঁছায়। তখন পায়োনিয়ার -১১ শনির ১৭৬০ কিলোমিটার দূর থেকে ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠায়। এসব ছবি বিশ্লেষণ করে শনি সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায়।

ভয়েজার ১ এবং ২

১৯৮০ সালে আগস্ট মাসে শুরু করা হয় ভয়েজার -১ মিশন যা অক্টবরের শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬০ টি ছবি পাঠায়। এর পর ১৯৮১ সালে শনি গ্রহের সম্পর্কে আরও জানতে শুরু হয় ভয়েজার-২ মিশন যা শনিগ্রহেরজাআর কিছু ছবি পাঠায়।

ক্যাসিনি

সর্ব শেষ শনির উদ্দেশ্যে ‘ক্যাসিনি’ নামে একটি নভোযান পাঠানো হয় ১৯৯৬ সালে যা ২০০২ সালে শনিতে পৌঁছায়।  ক্যাসিনি ২০০২ থেকে ২০১৭ এই ১৩ বছর ধরে পৃথিবীতে শনি সম্পর্কে তথ্য পাঠায়।

শনি গ্রহে মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা

শনি গ্রহের সব থেকে বড় চাঁদ টাইটান ভবিষ্যতে মানুষের বাসস্থানের জন্য একটা উপযুক্ত বিকল্প হয়ে উঠতে পারে । এই কমলা রঙের চাঁদ আর আমাদের পৃথিবীর মধ্যো অনেকটাই মিল আছে । এখানে আছে পাহাড় আছে মরুভূমি আর আছে নদী যেমনটা আমাদের পৃথিবীতে । তাই এখানে মানুষ ভবিষ্যতে বাস করলেও করতে পারে । এ জন্যই টাইটানে দুটি স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছে কিন্তু এই পর্যন্ত জানা গেছে যদিও এটা পৃথিবীর মত দেখতে কিন্তু এখানে আছে মিথেন গ্যাসের ভান্ডার যেটা মানুষের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক কারণ মানুষ অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না ।

Leave a Comment