ব্যবসালাইফ স্টাইল

অল্প পুজিতে লাভজনক ব্যবসায়র আইডিয়া

অল্প পুজিতে লাভজনক ব্যবসায় স্থাপন করতে চান? কিন্তু ব্যবসায় সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায় পারছেন না, তাই তো? চিন্তা নেই! আজকের এই প্রবন্ধে আপনি জানতে পারবেন যে কীভাবে অল্প পুজি নিয়ে একটি লাভজনক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব। 

এমন অনেকেই আছেন যারা ব্যবসায় শুরু করতে চাচ্ছেন কিন্তু স্বল্প পুজির জন্য পারছেন না। তবে সত্যি বলতে, ব্যবসায়-এর জন্য যে আপনার কাছে প্রচুর পরিমাণে মুলধন থাকতে হবে এমন নয়। এমন অনেক লাভজনক ব্যবসায় আছে, যেখানে স্বল্প পুজি নিয়ে মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। 

তাই স্বল্প পুজি নিয়ে লাভজনক ব্যবসায় শুরু করতে এই প্রবন্ধটি সম্পুর্ন পড়ার আবেদন রইলো।  

☞ব্যবসায় হলো তিন প্রকার, যথা

  1. শিল্প
  2. বাণিজ্য 
  3. সেবা আয় ব্যবসায়

সবরকম ব্যবসায়ে কম বেশি লাভ-লোকসান থেকেই থাকে। কিন্তু প্রতিটি ব্যবসায়র সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য দায়ী হলো এর পিছনে বিনিয়োগকৃতপ মুলধন। 

প্রয়োজনীয় মুলধনের অভাব? 

এমন অনেকেই আছেন যারা প্রয়োজনীয় মুলধন না থাকায় বানিজ্য স্থাপন করতে পারেন না। কেননা, “একটি ব্যবসায় স্থাপন এর জন্য প্রচুর পরিমানের মুলধন বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়!” এই ভাবনাটাই আমাদের সকলের মাথায় ঘুরোঘুরি করে। তবে বাস্তবে, লাভজনক ব্যবসায়র জন্য কিন্তু বিপুল পরিমানের অর্থ একদমি প্রয়োজন হয় না। এমন অনেক ব্যবসায়-ই রয়েছে যেখানে মুনাফাও হয় আবার মুলধন-ও তুলনামূলক ভাবে এতটা প্রয়োজন হয় না। এরকম কিছু ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে আজ আলোচনা করব।

“স্বল্প মুলধনে লাভজনক ব্যবসায়” 

কফি/ টি শপ বা ক্যাফে শপ ব্যবসায়!

ক্যাফে শপ মুলত হলো একটি সেবা আয় ব্যবসায়। এই ব্যবসায় মুলধনের পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে অল্প এবং কফি এবং চা এর চাহিদা বাজারে বিপুল জনপ্রিয় থাকায় এরুপ ব্যবসায় সাফল্যও চলে আসে তারাতাড়ি।  একটি ছোট জায়গা নিয়ে শুরু করতে পারেন। কফি বা চা এর পাশাপাশি কিছৃ খাবার যেমন: বিস্কুট, কেক, সিগারেট ইত্যাদি রাখতে পারবেন । শপ এর নাম টি এমন হবে যেন একটু অন্য রকম হয়। কিছু নাম দিলাম –

  • এক কাপ চা।
  • চায়ের রাজ্য।
  • একটু বসি।
  • অবসর সময়।
  • আড্ডায় কফি।
  •  শহর কফি।
  • চায়ের আড্ডা।
  • নির্যাস……..।
  • ক্যাফিতা ।
  • সেইরাম।
  • আড্ডা হবে।
  • আমাদের শপ ।
  • গ্রাম্য বাড়ি।
  • খাদক ।
  • মুক্ত বিলাস।
  • আস্থা কফি।

এছাড়া আপনার মন মত একটি নাম ব্যবহার করে শুরু করে দিন এমন একটি ব্যবসা।

চায়ের দোকান

শুধু চা বিক্রির দোকান-ও একটি ভালো ব্যবসায় হিসেবে আমাদের সকলেরই কাছে জনপ্রিয়। এশিয়ার তিনটি দেশ ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ-পাকিস্তান এই তিনটি দেশে চায়ের জনপ্রিয়তা বহুল। এরুপ দেশে মুরব্বিদের যে সকালে চা ছাড়া চলেই না। সকাল হতেই না হতে মজে উথে চায়ের দোকানে সকলের আড্ডা। তাই চায়ের দোকান একটি ভালো ব্যবসায় হিসেবেই গন্য। এতে পুজিও স্বল্প এবং এই ব্যবসায় মুনাফাও ভালো হয়।

রোডসাইড ফাস্ট ফুড/ স্ট্রিট ফুড ব্যবসায়

বর্তমানে চাহিদা আছে এমন সকল ব্যবসায়-ই বাজারে টিকে থাকে। এরুপ ব্যবসায় লাভ-ও হয় ভালো। স্ট্রিট ফুড ব্যবসায় স্বল্প পুজিতে ভালো মুনাফার জন্য অনেক ভালো একটি ব্যবসায় পরিকল্পনা। পথেঘাটে চলার পথে অনেকেরই অনেক কিছু খাওয়ার ইচ্ছে হয়। এছাড়াও ফাস্ট ফুড খেতে ভালোবাসে না এমন লোকগনের সংখ্যা খুবই কম। তাই ভালো মানের কাচামালের সাথে ফাস্ট-ফুড ব্যবসায় যেনো খুব অল্প মুলধনে লাভজনক ব্যবসায়।  একটি ছোট কভার ভ্যান বানিয়ে স্ট্রিট ফুড ক্যার্ট বানিয়ে ফেলতে পারেন একটি ছোট ব্যবসা। খাবার আইটেম সম্পর্কে কিছু ধারনা দিলাম।

 

 

  • বার্গার
  • সান্ডিউচ
  • চিকেন রোল
  • ১:১ সুপ
  • মিল্কসেক
  • ২/৩ রকম জুস
  • পুডিং
  • ফাইড রাইস ১:১

এই ব্যবসার জন্য ১ লক্ষ টাকার মত প্রায়োজন হবে।  যেমন : একটি গাড়ি, খাবার জিনিস, মসলা, খাবার রান্নার জন্য পাত্র ইত্যাদি। এই ব্যবসার জন্য নাম নিধারণ করা জরুরী।

বেকরি ব্যবসায়

মিস্টিজাতীয় খাবার এর চাহিদা সারা বিশ্ব জুড়েই রয়েছে। কোথাও মেহমান হিসেবে অথবা নিজে খাওয়ার জন্য হলেও মিস্টির চাহিদা অনেক। এই ব্যবসায় মুলধিন এর পরিমাণ-ও তুলনামূলক ভাবে স্বল্প এবং বহনযোগ্য। ভালো জায়গা এবং মানসম্মত মালামাল থাকলে এরুপ ব্যবসায় লাভ যেনো নিজ থেকেই চলে আসে। এছাড়া পাশাপাশি  হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা রাখা যায়। ছোট আকারে একটি  বেকরি ব্যবসায় মোটামটি ৩/৪ লক্ষ খরচ হবে প্রথম অবস্থায়।

 

ফার্মেসি 

ঔষধের প্রয়োজন কার-ই বা না থাকে। মানুষের চারপাশে নানান রোগবালাই থাকায় সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের এবং ঔষধের প্রয়োজন থাকেই। তাই অল্প পুজিতে লাভজনক ব্যবসায়র তালিকায় যদি এই ব্যবসায়র নাম না থাকে তাহলে যেনো সম্পুর্ন তালিকাটিই বৃথা। পাশাপাশি  হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা রাখা যায়। ফার্মেসি ব্যবসা একটি লাভ জনক ব্যবসা। 

বুক স্টোর / বই খাতা বিক্রির ব্যবসায়

যেকোনো ব্যবসায়ই নির্ভর করে পণ্যের চাহিদার উপর। দৈনন্দিন জীবনে পণ্যের চাহিদা যতো বেশি হবে, তার বেচা-কেনাও তত বেশি থাকবে। আর বই খাতার প্রয়োজন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা সকলেই যানি। এর চাহিদার কোনো শেষ নেই। শিক্ষার জন্যই হোক আর ব্যক্তিগত কারনেই হোক বই খাতার প্রয়োজন আছেই। তাই বুক স্টোর একটি সফল ব্যবসায়। এই ব্যবসায়ে পুজির পরিমাণ অনেক স্বল্প। আর লাভজনক ব্যবসায় হওয়ায় অনেকেই এই ব্যবসায় আগ্রহ দেখিয়ে থাকেন। যে কোন একটি স্কুল বা কলেজ রোড এর সামনে দেখে এমন একটি দোকান দিতে পারলে ভাল ব্যবসা করা সম্ভব। 

সেলন/ পার্লার 

ছেলেদের সেলন অথবা মেয়েদের পার্লার উভয় ব্যবসায় হলো সেবা আয় ব্যবসায়। এই ব্যবসায়ে মুলধনের পরিমাণ থাকে সীমিত। তাই আপনি যদি অল্প মুলধনে লাভজনক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন তাহলে এরকম ব্যবসায়ে মুলধন অনেক অল্প। এছাড়াও শরীর চর্চার সৌখিন মানুষ কিন্তু আমরা সবাই-ই।  এই ব্যবসা করতে ভাল একটি পজিশন দেখতে হবে।

 

খরচ এর একটা ছোট আইডিয়া নিচে দিলাম

  • ১ম যেটা করতে হবে সেটা একটি জায়গা বা পজিশন/ভাড়া আনুমানিক ভাড়া ৫০০০/= প্রতি মাসে জায়গা অনুযায়ি।
  • ২য় ব্যপার টা হচ্ছে ডেকোরেশন/ইন্টরিয়ার আনুমানিক খরচ ১লক্ষ থেকে ২লক্ষ পজিশন বা এলাকার উপর নিভর্রশীল।
  • ৩য় বিষয় কসমেটিকস্ বা প্রাডাক্ট  ধরা যাক ১লক্ষ টাকা সবোর্চ্চ।

মৎস্য চাষ

বাঙ্গালীদের অনেক পছন্দের খাদ্য হলো মাছ। কথায় আছে না, ভাতে মাছে বাঙ্গালী। তাই মৎস্য চাষাবাদ হলো কম মুলধনে শুরু করা যায় এমন একটি ব্যবসায়র পরিকল্পনা। তাছাড়া বাড়িতে যদি নিজস্ব পুকুর থেকে থাকে তাহলে আর কথাই নেই। নিজের পুকুরেই মাছ চাষাবাদের উদ্দেগ নিয়ে লাভজনক একটি ব্যবসায়ের শুরু করতে পারবেন। একটি পকুর লিজ নিয়ে শুরু করতে পারেন মৎস্য চাষ এর ব্যবসা শুরু করতে পারেন।  মাছ চাষ একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় খাত হওয়ায় সাধারণ জনগণসহ দেশের বিভিন্ন বিনিয়োগকারীরা মৎস্যখাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়ে বিনিয়োগ করছে। খরচ সম্পর্কে একটি ছোট ধারনা দিলাম।

  • একটি পুকুর নির্বাচন করা আনুমানিক ৫০হাজার থেকে ১/২ লক্ষ হতে পারে।
  • মাছ  এর পোনা আনুমানিক  ২০হাজার থেকে ৫০হাজার (পুকুরের আয়তন এর ওপর) ।
  • একটি লোক পুকুর দেখার জন্য।

মৎস্য খামারে যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যায় সেগুলোর একটি বর্ণনা  দেওয়া হলো 

পানির বিভিন্ন গুণাগুন পরীক্ষার যন্ত্রপাতি : মাছ চাষের পূর্বশর্ত পুকুরের পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা।  পানির বিভিন্ন প্যারামিটারগুলো যেমন : অক্সিজেন, চঐ, অ্যামানিয়া নাইট্রেট, তাপমাত্রা এসব উপাদান মাছ চাষে পুকুরে অনেক সময় বিভিন্ন কারণে কম বেশি হয় এবং পানির পরিবেশ বিপর্যয়ের মাধ্যমে মাছ মারা যায়। এতে খামারির বড় ধরণের ক্ষতি হয় কিন্তু ডিজিটাল মেশিনের মাধ্যমে এই সমস্যা শনাক্তকরণ ও এর পরিমাণ সর্ম্পকে জানা যায়। সেই অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে চাষি বড় ধরণের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। পানির গুনাগুন সঠিক মাত্রায় রাখার জন্য যে সমস্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয় যেমন : অ্যারেটর ও বেøায়ার এ যন্ত্র ব্যবহার করে পানির গুণাগুণ স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা যায় এবং মৎস্য খামারের জৈবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।

মাছের খাবার তৈরির (ডুবন্ত ও ভাসমান) পিলেট মেশিন : মাছ চাষ ব্যবস্থাপনায় যে খরচ হয় তার সিংহ ভাগই চলে যায় মাছের সম্পূরক খাদ্য ক্রয়ে। এই খরচের পরিমাণ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ । অনেক সময় সঠিক গুণগত  খাদ্য না পাওয়ায় চাষির উৎপাদন হ্রাস পায় এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। চাষী যদি ছোট আকারের ডুবন্ত ও ভাসমান খাদ্য তৈরীতে পিলেট মেশিন ব্যবহার করে তবে সে সঠিক গুনগত মান সম্পন্ন পুষ্ঠিকর খাদ্য কম খরচে তৈরী করতে সক্ষম হবে।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট 

বড়ো বড়ো ইভেন্ট এর দায়িত্ব নিজের কাধে নিতে শুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাই হলো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট। এই ব্যবসায় স্বল্প পুজিতে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে খুব ভালোভাবে শুরু করা যায়। এলাকায় আসে পাশের বিয়ের অনুষ্ঠান হোক, অথবা দূর হতে বড়ো কোনো পার্টির অনুষ্ঠান, ম্যানেজমেন্ট সেবা প্রদান করার মাধ্যমে গড়ে উঠবে আপনার ব্যবসায়।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর মধ্যে যে সব কাজ পড়ে

  • একটি বিয়ে, সেমিনার যে কোন অনুষ্ঠান এর খাওয়া, কমিউনিটি সেন্টার, ডেকরেশন সহ সকল কিছু দায়িত্ব।
  • একটি বিয়ে, সেমিনার যে কোন অনুষ্ঠান এর ভিডিও ধারন বা ছবি তোলা।
  • একটি বিয়ে, সেমিনার যে কোন অনুষ্ঠান এর সাইন্ড সিস্টেম আলোকসজ্জার কাজ। ইত্যাদি।

কোচিং সেন্টার 

কোচিং সেন্টার হলো স্বল্প মুলধনে লাভজনক ব্যবসায়। আপনি চাইলে একাই অথবা শেয়ারে এই ব্যবসায় পরিকল্পনাকে ব্যবসায় উদ্দ্যোগে পরিণিত করতে পারবেন। এরুপ ব্যবসায়ে কেবল বিজ্ঞাপনেই আপনার বেশি পুজির প্রয়োগ করতে হয়। তাছাড়া এই ব্যবসায় সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হলে এতে লাভ হয় অনেক। আর যদি সঠিক ভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করা হয় তাহলে তো সাফল্য আসবেই।

কোচিং সেন্টার খোলার নিয়ম

  • কোচিং সেন্টারে আদর্শ ও মানসম্মত শিক্ষক দ্বারা ক্লাস পরিচালনা করাতে হবে।
  • কিছু দিন এলাকায় মাইকিং করাতে হবে।
  • নিকটস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রচারনা চালাতে হবে।
  • প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের মাঝে বা এলাকায় পোষ্টার ঝুলাতে হবে।
  •  নামকরা ও আদর্শ শিক্ষক গুলো দ্বারা ক্লাস করাতে হবে।

মোট কথা, কোচিংকে সফল করতে চাইলে আপনাকে পরীক্ষার উপর জোর দিতে হবে। পরীক্ষাটাই আসল। স্কুল বা বাসার শিক্ষক বা ব্যাচে পড়ায় – এই পরীক্ষাটা নেওয়া হয় না। তাই, কোচিং-এ ক্লাস করিয়ে জ্ঞান না দিয়ে – পরীক্ষা নিয়ে অর্জিত জ্ঞানকে মূল্যায়ন করাই শ্রেয় হবে।

শেষ কথাঃ

এরকম আরো অনেক ব্যবসা আছে যেগুলো শুরু করার সময় সামান্য পুঁজির প্রয়োজন হয়। দিন শেষে এরকম আরো অনেক আইডিয়া পেতে আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button