লাইফ স্টাইল

লকডাউনে ঘরে বসে যেভাবে সময় পার করবেন !

সেই ২০১৯ সালে হাল্কা বাতাসের মতন গুজব ছড়িয়ে এসেছিলো বিশ্ববাসীর কানে, চীন থেকে নতুন একটি ভাইরাস ছড়িয়েছে সারা পৃথিবীতে। প্রথম দিক এটা গুজব মনে হলেও, অবশেষে ২০২০ এর মার্চ মাসে যখন সারা পৃথিবী জুরে শুরু হয় লকডাউন তখনই ভয় ও আতংক যেনো আমাদের সকল্কে গ্রাস করে। এই ভাইরাস এর নাম রাখা হয় কোভিড-১৯ বা করোনা।

 

এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্যেই স্বারা বিশ্বে বর্তমানে দেওয়া হয়েছে লকডাউন। এতে অনেক মানুষেরাই হয়েছেন ক্ষিপ্ত, আবার কেউ কেউ উপোভোগ করছেন এই সময়টাকে। 

অনেকেই এই সময়টায় নিজেদের কে অলসে পরিনত করছেন, আবার অনেকেই বুঝে উঠতে পারছেন না যে এই সময়টাতে তারা কি করবেন। তাই সকলেরই উদ্দেশ্যে লকডাউনে সময় পার করার জন্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপ্স অথবা বলতে পারেন আপনার জীবনকে প্রফুল্ল করে তোলার ও সুস্থ্য রাখার কিছু উপায়, দেওয়া হলো।

 

লকডাওনে যা যা করা দরকার 

১। আমাদের শরীরের সঠিক পরিচর্যাঃ

অনেকেই লকডাউনে ঘরে বসে একদম অলস হয়ে যান, এমনটা মোটেই ঠিক নয়। আমাদের সকলের-ই উচিত লকডাওন এর কারণে যেই সময়টা আমরা হাতে পেয়েছি সেই সময়টায় নিজের শরীরের যথেষ্ট ও সঠিক চর্চা করা। কেননা সুস্থ্য শরির আর সুস্থ্য মন আমাদেরকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখতে সক্ষম।

২। সঠিক ও সতেজ খাবার গ্রহণ 

এই লকডাউনে ঘরে বসে সঠিক ডায়েট পালন করার মাধ্যমে আপনি আপনার শরীর কে গড়ে তুলতে পারেন সতেজ ও বৃদ্ধি করতে পারেন আপনার সৌন্দর্য। আমরা সকলেই জানি যে সঠিক খাবার গ্রহন আমাদের শরীরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই সঠিক ডায়েট ফলও করলে আমরা নিমিষেই পরিবর্তন করতে পারি নিজের শরীরে থাকা নানান সমস্যা। 

৩। শারীরিক কর্মকাণ্ড অথবা ব্যায়াম

ব্যায়াম আমাদের শরির কে করে তুলে সতেজ ও প্রফুল্ল। শারীরিক উন্নয়নে ব্যায়াম এর কোনো বিকল্প নেই। এছাড়াও সঠিক ব্যায়াম আমাদের কে দিতে পারে মানসিক যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণ। নানান রোগের বিরুদ্ধে করে তোলতে পারে আমাদের শরীরকে শক্তিশালী। এছাড়াও সুন্দর শরীর গঠনের ক্ষেত্রে ব্যায়াম করা আবশ্যক। 

৪। রূপচর্চা 

সারাদিনের ব্যাস্ততা ও কাজের চাপে যারা নিজেদের রূপের সঠিকভাবে চর্চা করতে পারেন নি, তাদের জন্য এই লকডাউনের সময়টিই আদর্শ সময়। আবারও সঠিক ভাবে রূপচর্চা করে ফিরে পেতে পারেন নিজের আভিজাত্য। এবং অবশ্য রূপচর্চার ক্ষেত্রে স্কিন এর জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো পন্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকা। বিশেষ করে এসিডিক ক্রিম ও ফেসওয়াস আমাদের চেহারার ক্ষতির অন্যতম কারণ। 

৫। নিজেকে এন্টারটেইন রাখা

 নিজেকে প্রতিনিয়ত এন্টারটেইন রাখার মাধ্যমে আপনি নানান মানসিক চাপ থেকে পরিত্রাণ পাবেন। আপনি স্বাভাবিক জীবন উপভোগ করতে পারবেন। আপনার কাছে সব কিছু অনেক মজার ও সুন্দর লাগবে। আপনার কাছে জীবন টা হয়ে উঠবে এক আনন্দময় জগত। তাই নিজেকে প্রতিনিয়ত এন্টারটেইন রাখার প্রয়াস করুন। এজন্য আপনি নানান এন্টারটেইনিং মুলক মুভি অথবা এনিমেশন অথবা কমেডি মুভিও দেখতে পারেন। অথবা জীবনে যদি আপনি থ্রিলিং ও একশন মুলক ফিলিংস উপভোগ করতে চান তাহলে অবশ্য থ্রিলার এ্যাকশন মুভি গুলোও দেখতে পারেন।

৬। পরিবারের সাথে সময় কাটানো ও তাদের সাথে মত বিনিময় করা

ব্যাস্ততার জন্য অনেকেই নিজের পরিবারকে সময় দিতে পারেন নি। অনেকেই তাদের পরিবারের লোকদের ভালো-মন্দ কিছু জানতে পারেন নি। তাই এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে আপনার পরিবারের সকলদের সাথে মত বিনিময় করুন। তাদের মনের কথা জানার চেষ্টা করুন। তারা আপনার কাছ থেকে কি চায়, কি আশা করে তা জানার চেষ্টা করুন। আত্নীয়স্বজন্দের ফোনে খোজখবর নিন। আপনার পারিবারিক জীবন কে আপনার মতো করে গড়ে তুলুন। 

কোভিড-১৯ সম্পর্কে জানা অজানা তথ্য 

কোভিড-১৯ হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সাধারণত আমাদের ফুস্ফুসে আক্রমণ করে আমাদের শরীরে থাকা ৩৭.২ ট্রিলিয়ন সেল গুলোমে একের পর একটি করে আক্রমণ করে অকার্যকর করা শুরু করে। এতে করে আমাদের শেষ পরিনতি হয় মৃত্যু। এই রোগ আমাদের শরীরে প্রায় ১৪ দিন এর মতো থাকে। তাই কোভিড-১৯ হলে আমাদের ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইন এহ রাখা হয়। এই ১৪ দিন করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তির জন্য জীবন-মৃত্যু এর সময় হয়। সাধারণত আমাদের শরীরে অন্য এন্টিবডি গুলো এই রোগের বিরুদ্ধে আক্রমণ করা শুরু করে দেয় এবং এর প্রতিরোধকারি এন্টিবডি ও আমাদের দেহ তৈরি করা শুরু করে দেয়। কিন্তু যতক্ষন পর্যন্ত এন্টিবডি গুলো তৈরি হয় ততক্ষনে আক্রান্ত ব্যাক্তি অক্সিজেন এর অভাবেই মারা যায়।

 

আমাদের চারপাশে মানুষের মাঝেই ছরিয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এই করোনা ভাইরাস। যেভাবে সারা পৃথিবী জুড়ে ছরিয়েছে সেভাবেই ক্রমে ক্রমে এগিয়ে আসছে এর নতুন উপস্বর্গ। ধরা হচ্ছে পৃথিবী থেকে এই ভাইরাসের বিদায় নিতে সময় নিবে ৫ টি বছর। আর ততদিন কারা বেচে থাকবে, কারা থাকবে না বলা একদমি অসম্ভব। এই যে একটি পরিস্থিতি আমাদের চারপাশে ছড়িয়েছে, এর থেকে কি আমরা কখনো রক্ষা পাবো না? এমনটা নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছেন, এই রোগের ঔষধ না থাকলেও রয়েছে এর থেকে বাচার কিছু ঘরোয়া উপায় ও করনীয়। একটু সাবধানতায় পারবে আমাদের জীবন রক্ষা করতে। তাই চলুন দেখে নেই এই কোভিড-১৯ এর মোকাবেলায় আমাদের ঘরোয়া ধাপ গুলো কি কি? 

 

করোনা মোকাবেলায় আমাদের করনীয় 

কোভিড-১৯ মোকাবিলা করতে আমাদের যেসব করনীয় কাজগুলো করা দরকার তা হলোঃ

১. বেশি বেশি করে লেবু ও গরম পানী খাওয়া করা।

২. ঠান্ডা জনিত কোনো রোগ হতে দেওয়া যাবেনা।

৩. শ্বাস কষ্ট হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।

৪. চোখ ফুলে গেলে অথবা লাল হয়ে গেলে অথবা চোখের অন্য কোনো সমস্যা ও হতে পারে কোভিড-১৯ এর লক্ষন। এক্ষেত্রে অবহেলা না করে জলদি চিকিৎসক এর পরামর্শ গ্রহণ করুন।

৫. আমাদের চারপাশেই কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যাক্তি থাকতে পারে। যেহেতু এই রোগের কার্যক্রম হতে সময় নেয় সেক্ষেত্রে বোঝা কঠিন কে আক্রান্ত আর কে নয়। তাই যে কারো সাথে শারিরীক স্পর্শ এড়ানো।

৬. প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহির পরিবেশ এড়ানো ও প্রয়োজন কোনো কাজের ক্ষেত্রে যদি বাহির হন তাহলে অবশ্য মাস্ক পরিধান করা। 

৭. ঘরের কেও অসুস্থ হলে অবশ্য তার সঠিক ভাবে যত্ন নেওয়া ও অবশ্য রোগীর ব্যবহার সকলকিছুই আলাদা রাখা।

৮. সাধারণ জ্বর ও হতে পারে কোভিড-১৯ এর লক্ষণ। তাই অবশ্য সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করবেন ও নিজ থেকে কোনো ভুল চিকিৎসা করতে যাবেন না। এতে আপনার মারাত্মক অন্য কোনো সমস্যা ও হতে পারে। 

৯. অবশ্য এই পরিস্থিতিতে বাহিরের যে কোনো প্রকার ঠান্ডা কোল্ড ড্রিংকস ও জাংক ফুক এরিয়ে যাবেন। 

১০. সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে অবশ্য কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন গ্রহণ করবেন। কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন নিয়ে আমাদের দেশে ছরিয়েছে নানান গুজব। তাই আমাদের সকলেরই উচিত গুজব থেকে নিজেকে বিরত রাখা। 

শেষ কথাঃ

এভাবে সঠিক নিয়ম পালনের মাধ্যমে আমরা এই কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সক্ষম হবো। সঠিক নিয়ম মেনে  লাইফস্টাইল গড়ে তুল্লে নানান শারিরীক ও মানসিক পরিস্থিতি থেকেও রেহায় পাবো। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button