ভারতের সুপরিচিত ৩টি যৌন পল্লী

ভারত নিজের চমক ধমকের জন্য সারা পৃথিবীতে পরিচিত কিন্তু এর চমক ধমকের পিছনে এর কালো সত্যও লুকিয়ে আছে মানে ডাকসাইট ডার্ক সাইডও আছে । এখানে সময়ের সাথে সাথে মানুষের অবস্থা বদলে যায় কারও পক্ষে ভালো হয় তো কাউকে বিপদের সামনাসামনি হতে হয় ।

কামাঠিপুরা

ভারতের অন্যতম রেডলাইট এরিয়া মানে মুম্বাইয়ের কামাঠিপুরার এমনই কিছু কাহিনী । অন্ধ্রপ্রদেশের কামাঠি মজুরদের অনুসারে এই এলাকাটির নাম কামাঠিপুরা হয়েছে । এখানে প্রায় ২০০টি কামরাতে ৫০০০-এর থেকে বেশি যৌনকর্মী বসবাস করেন । একে ইংরেজরা নিজেদের সৈনিকদের জন্য কমফোর্ট জোন মানে আরাম করার জন্য তৈরি করেছিলেন আর বিদেশ থেকে বড় সংখ্যায় যৌনকর্মীদের এখানে আনা হত আর এজন্য ১৯২৪ সালে যৌনকর্মীদের তাদের কাজের জন্য লাইসেন্স দেয়া হয় কিন্তু ১৯৫০ সালে সরকার যৌন ব্যবসায় ব্যান্ড লাগিয়ে দেয় ।

কামাঠিপুরা

এই এলাকাটি মোট ষোলোটি গলিতে বিভক্ত নয়টি গলিতে এই কারবার চলে আর বাকি পাঁচটি গলি Residental এবং ব্যবসার জন্য । এখানে লোভ দেখিয়ে আনা মেয়েদের সাথে খুবই অমানবিক ব্যবহার করা হয় । ভাল জীবনের নামে তাদেরকে নেশার ইনজেকশন দিয়ে বন্দী করা হয় আর দেহ ব্যবসার বাণিজ্যে তাদেরকে মরার জন্য ছেড়ে দিয়ে আসা হয় । একটি সমাজসেবী দল তাদের একটি রিপোর্টে খোলাখুলিভাবে বলেন যে পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের গরিব মহিলাদের অর্থের লোভ দেখিয়ে মুম্বাইয়ে আনা হয় কিন্তু এখানে এনে তাকে নেশার ইনজেকশন আর ট্যাবলেট দেয়া হয় এবং তাকে জোর করে দেহ ব্যবসায় লাগিয়ে দেয়া হয় ।

তথ্য অনুবেদন অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশ থেকে চার হাজার কিলোমিটারের সীমা পারকরিয়ে পাচারকারীদের দ্বারা এইসব মেয়েদের পাচার করা হয় । ইউ.এন.ও.ডি.সি-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে এশিয়াতে মানুষ পাচারের কাজ খুবই দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে । এখানে প্রতিবছর প্রায় দেড় লক্ষ মানুষকে পাচার করা হয় । ভারতের উত্তর প্রদেশে,কর্ণাটক,মহারাষ্ট্র আর অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে বেশিরভাগ মেয়েদের আনা হয় । কামাঠিপুরার বেশিরভাগ বিল্ডিং ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার কারণে বেশিরভাগ মালিক এইসব বিল্ডিংকে হয় বেচে দিতে চায় অথবা Residental Complex তৈরি করতে চায় কিন্তু রেড লাইট এরিয়া হওয়ার কারণে প্রথমে এখানে সার্ভিস ক্লাসের লোক বসবাস করতে লজ্জাবোধ করে ।

গত কয়েক বছরে এখানে অনেক বড় বড় বিল্ডিং তৈরি হয়েছে আর কম দাম হওয়ার কারণে সার্ভিস ক্লাসের লোক এখানে বসবাস করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন । সম্প্রতি এখানে একটি পুরানো বিল্ডিং ভেঙে পড়ার কারণে ছয় জন লোকের মৃত্যু হয় । যার কারণে পুরানো বির্ল্ডিং ভাঙার দাবি ওঠে । পুরানো বিল্ডিং এর জায়গায় নূতন বির্ল্ডিং গড়ে তোলা হয়েছে আর এখানে বসবাসের জন্য লেখাপড়া করা আর চাকুরীজীবী মানুষ আসছে । এর প্রভাব সোজা যৌন কর্মীদের উপর পড়েছে । যার কারণে কিছু যৌনকর্মী নিজের জীবন বদলানোর চেষ্টা করছে আর কিছু বাইরের এলাকাতে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে যাতে অন্য কোন কাজ করে নিজের জীবনকে চালাতে পারে । সেক্সওয়ার্কের এখন এলাকাতে ছড়িয়ে পড়েছে যার কারণে এখানকার দেহ ব্যবসার কারবারও শিথিল হয়ে এসেছে ।

যে যৌনকর্মী আর্থিক দিক থেকে মজবুত ছিল তারা এই শহরেই বসতি স্থাপন করে । এই পরিবর্তনের জন্য কামাঠিপুরার ঘরছাড়া যৌনকর্মীদের জন্য পরিচিত এবং বাইরের এনজিও খুবই সাহায্য করেছে । আমরা দেশবাসী কী সাহায্য করতে পারি না এই ঘর ছাড়া পরিচয়হীন যৌনকর্মীদের কিংবা সরকার কি করে না তাদেরকে সাহায্য করতে ?

সোনাগাছি

সোনাগাছি জায়গাটা সবাই চেনার একমাত্র কারন এখানে হয়ে চলা অবাধ যৌন ব্যবসা। এটি ভারতের বৃহত্তম ‘নিষিদ্ধ পল্লি’। এই সোনাগাছিতে যৌন ব্যবসা শুরু হয় উনিশ শতক থেকে।

জানা যায় সানাউল্লাহ নামে এক মুসলমান পীর বা দরবেশের নামে জায়গাটার নামকরন হয় ‘সোনাগাছি’। যৌনব্যবসা ভারতে আইনত নিষিদ্ধ কিন্তু এই এক সোনাগাছিতেই কাজ করে প্রায় ১৪০০০ যৌনকর্মী। আর এই লিস্টে প্রতিবছর যোগ হয় প্রায় ১০০০ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি এর বড় একটি অংশ আসে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে।

সোনাগাছিতে এক রাতের জন্য গুনতে হয় ৩০০ থেকে ১০ হাজার টাকা। এখানে পারিশ্রমিকের এরকম বৈচিত্র্যের পাশাপাশি বৈচিত্র্য আছে সওদাতেও। এখানকার যৌনকর্মীদের ডাক আশে বিভিন্ন নামি হোটেল গুলো থেকে এছাড়াও সরাসরি যৌনকর্মীদের মোবাইল নাম্বারেও ফোন করে ব্যক্তিগত স্থানে দেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে যৌন রোগের সচেতনতা বাড়াতে ১৯৯২ সালে ‘সোনাগাছি প্রোজেক্ট’ বলে একটি প্রকল্প শুরু করা হয় খদ্দেরদের কন্ডোম ব্যবহার নিশ্চিৎ করার জন্য।

শিবপুরি (ভারতের সবথেকে কম দামী যৌন পল্লী)

উত্তর প্রদেশ আর পশ্চিমবাংলার মতো এমনই কিছু রাজ্যে আজ শরীর বিক্রি করার ধান্দা একদম জোরদার ভাবে চলছে । এমনকি এই ধান্দা গোপনভাবে না হয় খোলাখুলিভাবেই হচ্ছে । এটা শুনে আপনার একটু হলেও আজব মনে হবে কিন্তু এই রাজ্যে এই ব্যাপারটা একদমই একটি সাধারন ব্যাপার যে কোন শরীরকে কেনার জন্য এখানে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকা খরচ করতে হয় আর মধ্যপ্রদেশের শিবপুরিতে শরীর কেনার সওদা ৫০ থেকে ১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে হয়ে থাকে । এমনকি শুধুমাত্র মোবাইল এর মাদ্ধমেও সওদা  করা হয়।

যাতে শরীর ক্রয় করা গ্রাহক অথবা সেই মহিলা বা মেয়ে বেইমানি করতে না পারে  কেননা এই সওদা একটি সরকারি কাগজে হয়ে থাকে । মনে করা হয় এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সওদা নয় বরং একটি প্রথা । হ্যাঁ আপনারা ঠিকই শুনলেন এটি একটি প্রথা যেটা এখানকার কিছু এলাকা বহু বছর ধরে পালন করে আসছে  । আপনি শুনে যতটাই আশ্চর্য হোন না কেন কিন্তু সত্য এটাই ।

একটি মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে মনে করা হয় এইসব মেয়েদের এই ধান্দা গ্রহণ করার পেছনে তাদের বড় বড় শখ কাজ করেছে যেমন দামি মোবাইল কেনা অথবা গাড়ি কেনা অথবা অন্যকোন খরচের জন্য আর এগুলি ওইসব চাওয়া যেগুলি তাদের ঘরের লোকেরা পূরণ করতে পারে না আর এরকম পরিস্থিতিতে মেয়েরা নিজেদেরই পাড়ার এমন কিছু মহিলাদের সংস্পর্শে চলে আসে যারা আগে থেকেই এই ধান্দা সাথে যুক্ত থাকে ।

আর এজন্য এখানে থাকা কিছু পরিবার নিজেদের মেয়েদের উপর বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখেন যাতে গুপ্তভাবে তাদের মেয়েরাও এই ধান্দা শুরু না করে । আমাদের মহান দেশ ভারতে জানিনা কেন এসব বন্ধ হয়না জানিনা এমন কি খামতি আছে ওখানকার সরকার আর পুলিশদের মধ্যে যে ধান্দা একটানা বহু বছর ধরে এমনিভাবে চলে আসছে । মোটামুটি ৫০ থেকে ১০০ টাকায় শরীর বিক্রির এই ধান্দাকে কেমন ভাবে বন্ধ করা যায় এ বিষয়ে আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে অবশ্যই রেখে যাবেন ।

Leave a Comment