বিউটি টিপস

মাত্র 7 দিনেই ফর্সা হতে চান???

মাত্র 7 দিনেই ফর্সা হতে চান?

মাত্র 15 দিনেই নিজেকে আর্কষনীয় করতে চান?

মাত্র 7 দিনেই নিজেকে স্লিম করতে চান?

সেসব ক্ষেত্রে মধু সবচেয়ে উপকারী ওষুধ।মধু একট প্রকার ওষুধ ও বটে,কেননা অনেক কঠিন রোগও নিয়মিত মধু পানে প্রতিরোধ করা সম্ভব।নিয়মিত মধু খেলে দৈহিক ভাবে সৌন্দর্য ফুটে ওঠে এবং সঠিক উপায়ে নিয়মিত মধু খেলে স্লিম,আর্কষনীয় এবং ফর্সা হওয়াও সম্ভব।

মধু কি?

মধু হলো এক প্রকারের মিষ্টি জাতীয় এবং ঘন তরল পদার্থ, যা মৌমাছি ও অন্যান্য পতঙ্গ ফুলের নির্যাস হতে তৈরি করে এবং মৌচাকে সংরক্ষণ করে। মধু কোথায় পাওয়া যায়? বাংলাদেশের সুন্দরবনে মৌমাছির মৌচাকের দেখা মেলে।এই মধু একদম খাটি এবং স্বাদে মধুর। সুন্দরবনের বেশিরভাগ মধু কেওড়া গাছের ফুল থেকে উৎপন্ন। সুন্দরবনের মাওয়ালী সম্প্রদায়ের লোকেরা মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে এবং তা বিক্রয় করে জীবন নির্বাহ করে। আবার অনেকে খাটি মধু পাবার জন্য মৌমাছির চাষ ও করে। তবে মধুর ক্ষেত্রে খাটি হওয়া বিশেষ দরকার।আজকাল কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারনে খাটি মধু মেলা ভার।

মধুতে কি কি উপাদান রয়েছে:

মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান রয়েছে। ফুলের পরাগের মাধ্যমে তৈরীকৃত মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫ থেকে ১২ শতাংশমন্টোজ। আরও থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো অ্যাসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ শতাংশএনকাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি।

 

খাটি মধু চেনার উপায়: 

  1. এক গ্লাস পানিতে এক চামচ পরিমাণ মধু দিন। তার পর আস্তে আস্তে গ্লাসটি নাড়া দিন এব়ং পানির সঙ্গে মধু মিশে গেলে নিশ্চিত হবেন সেটা ভেজাল মধু। আর যদি মধু ছোট ছোট দানার মতো গ্লাসের পানির নিচে পড়ে থাকে , তা হলে বুঝতে হবে খাঁটি মধু।
  2.  নকল মধুতে ফেনা হয়। এ ছাড়া স্বাদে একটু টকটক এবং গন্ধে ভালো হয় না।খেতে সুস্বাদু হয় না।
  3. নকল মধু বেশ পাতলা হয়। খাটি মধু যতটা ঘন হয়,নকল মধু তেমন ঘনত্ব ধারন করতে পারে না।
  4. খাটি মধু অনেক বেশী আঠালো হয়। 5.খাটি মধুতে কখনো পিপড়া ধরে না।

 

মধুর উপকারিতা

1.প্রতিদিন সকালে খালি পেটে উষ্ণ গরম জলে মধু মিশিয়ে খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য খুব ই উপকারী।নিয়মিত এই পানীয় খেলে 15 দিনের মধ্যে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

2.সপ্তাহে 2-4 দিন মুখমন্ডলে মাস্ক হিসেবে মধু ব্যবহার বা মধু ফেসিয়াল করলে মুখ অনেক ফর্সা এবং ভিতর থেকে উজ্জ্বল হয়।

3. চিনিকে যেখানে white poison বলা হয় মধু সেখানে ওষুধি।তাই চিনির বদলে মধু খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুব ই ভালো।

4.গায়িকাদের জন্য মধু খুব ই ভালো।মধু গলা ভালো রাখতে খুব ই সাহায্য করে।

5.উচ্চ রক্তচাপে কমাতে মধু উপকারী।

6.অতিরিক্ত ওজন,মেদ কমাতে মধুর ভুমিকা অপরিসীম।এক টুকরো লেবুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিয়মিত খেলে শরীরে মেদ জমার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।

7.ঠান্ডা জনিত সমস্যা সমাধান সম্ভব নিয়মিত মধু পানে।সকালে খালি পেটে এক চামচ মধু খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

8.গরম দুধে মধু মিশিয়ে খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রচুর বৃদ্ধি পায়।

9.নিয়মিত মধু পানে শারিরীক সক্ষমতা তৈরী হয়।ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের শরীরে মধু খুব কার্যকরি হয়।

10.গাজরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে দৃষ্টিশক্তি ভালো হয়।

11.পানিশূন্যতায় মধু খুব ই কার্যকরি উপাদান।ডায়রিয়া হলে 1 লিটার পানিতে 2-3 চামচ মধু মিশিয়ে খেলে তা শরীরে পানির অভাব পূরন করতে খুব ই কার্যকরী।

12.মধু হজমে সাহায্য করে এবং পাকস্থলী সচল রাখে।মধু ব্যবহার হাইড্রোক্রলিক অ্যাসিড ক্ষরণ কমিয়ে দেয় বলে অরুচি, বমিভাব, বুকজ্বালা এগুলো দূর করা সম্ভব হয়।

13.অনেক বাগানীদের জন্য মধু খুব ই প্রয়োজনীয় অনেক সময় গাছে বেশী পোকামাকড়ের হাত থেকে অথবা গাছ মরে যাওয়ার হাত থেকে বাচানোর জন্য মধু ব্যবহার করা হয়।

14.হিন্দুদের পুজোতে মধু ব্যবহার করা হয়।মধু মিষ্টতা ছড়িয়ে শুদ্ধ করা একটি অন্যতম নিয়ম পুজোর।

15.মধুর সঙ্গে দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে তা রক্তনালীর সমস্যা দূর করে। রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১০ ভাগ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। মধু ও দারচিনির এই মিশ্রণ নিয়মিত খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।

16.নিয়মিত মধু এবং কালোজিরা খেলে রক্ত সঞ্চালন নিয়মিত হয়।হাঁপানি,শ্বাসকষ্ট কমাতে মধুর ভুমিকা অতুলনীয়।

17.গরম দুধের সাথে মধু এবং কালোজিরা মিশিয়ে খেলে মাথা ব্যাথায় উপকার পাওয়া যায়।

18.যৌবন ধরে রাখতে মধু খুউব ই কার্যকরী।নিয়মিত মধু খেলে ত্বকের লাবন্যতা বৃদ্ধি পায়।শরীরে এনার্জী বজায় থাকে।যেকোনো কাজে অনেক আগ্রহ থাকে।নিয়মিত মধু ব্যবহারে ত্বকের মৃত কোষসমূহ জেগে ওঠে এবং ত্বক যথেষ্ট উজ্জ্বল হয়।

19.কুরআনের আলোকে-‘আর মৌমাছির পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানি নির্গত হয়, যা মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার।’ সূরা নাহল : ৬৯। হাদিসের আলোকে-হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, কুরআন হলো যেকোনো আত্মিক রোগের জন্য আর মধু হলো দৈহিক রোগের জন্য। ইবনে মাজাহ।

 

মধু সবচেয়ে বড় উপকারিতা দিক হলো মধুর কোনো অপকারিতা নেই ।তবে অধিক পরিমান মধু খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।খাটি মধু কখনো নষ্ট হয় না।এক টানা 7 দিন মধু খেলে যে কেউ মধুর উপকারিতা নিজেই বুঝে যাবে।চিনির বদলে মধু খাওয়া শরীরের জন্য খুউব ই উপকারী। চা,শরবত সহ নানা ধরনের মিষ্টি জাতীয় পানীয় ও তে চিনির বদলে মধু ব্যবহার করুন।তাতে আপনার শরীর এবং মন দুটোই ভালো থাকবে।শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।ত্বকের লাবন্যতা বৃদ্ধি পাবে।শরীরে মেদ জমতে পারবে না।তাছাড়া রয়েছে আরো নানা ধরনের উপকারিতা।যে ব্যক্তি নিয়মিত 1 চামচ মধু খায় তার অসুস্থ হবার সম্ভাবনা মধু না খাওয়া ব্যক্তির থেকে কম।

তাই সবার ই মধু খাবার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

 

লিখেছেন   : Sristy Saha

ছবি :  ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button