ভ্রমণ

ভারত হয়ে বাই রোডে পাকিস্তান ভ্রমনের তথ্য

ভারত থেকে কোনো বিদেশি ব্যাক্তি বাই রোডে পাকিস্তানে ঢুকতে হলে তাকে লাহোর সংলগ্ন ওয়াগা বর্ডার হয়ে পাকিস্তানে ঢুকতে হয়। কিন্তু দুখ্যের ব্যাপার হলো, ওয়াগা বর্ডার দিয়ে এক্সিটের জন্য ভারত কোনো ট্রানজিট ভিসা দেয়না। অতএব পরিস্কার ভাবে জেনে নিন, বাই রোডে পাকিস্তান যাওয়ার জন্য কোনো ট্রানজিট ভিসা পাওয়া যায়না। তাই ট্রানজিট ভিসার পরিবর্তে আপনাকে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা নিতে হবে।

পরবর্তিতে ভারতে ঢুকার পর ওয়াগা বর্ডার দিয়ে পাকিস্তানে ঢুকার জন্য ভারতের FRRO অফিসে এক্সিট পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে।
এক্সিট পারমিটের জন্য এপ্লাই করতে যা যা লাগবেঃ-
১. পাসপোর্টের ১ম দুই পেইজের ফটোকপি
২. পাসপোর্টের যে পেইজে ইন্ডিয়ান ভিসার স্ট্যাম্প সিল মারা হয়েছে সেই পেইজের ফটোকপি।
৩. হোটেল থেকে দেয়া সি-ফর্ম
৪. পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৫. যেই ট্রেন/বাস/প্লেনে করে ভারত এসেছেন তার টিকেট।
৬. এপ্লিকেশন
(কি কারনে পাকিস্তান প্রবেশ করতে চাচ্ছেন তার কারন দেখিয়ে এপ্লিকেশনটা লেখবেন। কারন হিসেবে সোজা লেখে দেবেন ট্যুরের জন্য প্রবেশ করতে চান)
এই সবগুলো জিনিসকে স্ক্যান করে পিডিএফ ফরমেটে নিতে হবে। কারন এগুলো সবই অনলাইনে জমা দিতে হবে। এই এক্সিট পারমিটের আবেদন কিন্তু বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় করতে পারবেন না। ভারতে ঢুকার পর করতে হবে।
ট্যুর প্রসেস…..
প্রথমে ভারত এবং পাকিস্তান দুই দেশেরই টুরিস্ট ভিসা নেবেন। কোন দেশেরটা আগে নেবেন এমন কোনো কথা নেই। যেকোনো একটা নিলেই চলবে। তবে পাকিস্তানের ভিসার জন্য আগে আবেদন করতে পারেন, কারন ওটা আসতে সময় একটু বেশি লাগে।
এরপর ভিসা নিয়ে প্রথমেই চলে যাবেন কলকাতায়। ঢাকার কমলাপুর বা আরামবাগ থেকে কলকাতা পর্যন্ত বাস রয়েছে। ভাড়া নেবে প্রায় ১৮০০ টাকার মত। এছাড়া বেনাপোল বন্দর পার হবার সময় ৫০০ টাকা চার্য নিবে। বাংলাদেশে থাকতেই অনলাইনে কলকাতার হোটেল বুকিং করে রাখবেন, তাতে খরচ অনেকটাই কম পরবে।
কোলকাতা পৌছে ১ রাত হোটেলে থাকবেন। এরপর সকালে উঠে তাদের কাছ থেকে সি-ফ্রম নিয়ে নেবেন। হোটেলে উঠার আগেই জিজ্ঞেস করে নেবেন তারা সি-ফ্রম দেয় কিনা। যেই হোটেল সি-ফ্রম দেয়না সেটায় উঠবেন না। আবার ১-২শ টাকা ঘুষ দিলে অনেকে দিয়ে দেয়। তবে অনলাইনে বুকিং কৃত হোটেলগুলো সাধারনত এমনিতেই সি-ফ্রম দেয়।
সি-ফ্রম নিয়েই দেরি না করে কোনো কম্পিউটার দোকানে দিয়ে FRRO এর ওয়েবসাইটে গিয়ে ওয়াগা বর্ডার দিয়ে এক্সিট পারমিটের জন্য FRRO এর দিল্লি শাখায় আবেদন করবেন। আবেদন করতে কি কি লাগবে তা উপরেই বলেছি। আবেদনের পর সেটির একটা হার্ডকপি প্রিন্ট করে নিবেন।
এরপর কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে করে দিল্লি পৌছাবেন। কলকাতা-টু-দিল্লি ট্রেনও বাংলাদেশে থাকতেই আগাম বুুক করে রাখবেন। নরমালি ট্রেন ভাড়া প্রায় ৩৫০০ রুপি, আর ৫-৬ দিন আগে বুক করলে ১৭০০ রুপি এর মত পড়বে।
দিল্লি পৌছেই এক্সিট পারমিট আবেদনের হার্ডকপি এবং তার সাথের অন্যান্য কাগজপত্র গুলো দিল্লির FRRO অফিসে জমা দিতে হবে। এরপর অপেক্ষার পালা। নিয়ম অনুজায়ী ২ থেকে ১৪ দিনের ভেতর এক্সিট পারমিট মঞ্জুর করার কথা।
এক্সিট পারমিট পেয়ে গেলেই দিল্লি থেকে ট্রেনে করে ওয়াগা বর্ডার সংলগ্ন অম্রিতসার শহরে চলে আসবেন। ভাড়া পরবে ৫০০ রুপির মত।
ওয়াঘা বর্ডারে ভারতীয় ভিসা, পাকিস্তানি ভিসা এবং এক্সিট পারমিট দেখিয়ে খুব সহজেই লাহোরে প্রবেশ করবেন।
লাহোর ইমিগ্রেশনে আপনার ভিসা, পাসপোর্ট দেখার পর ‘সি-ফ্রম’ নামের একটি ফ্রম দিতে পারে, আবার নাও দিতে পারে। যদি ফ্রমটা দেয় তাহলে সেটা ফিলাপ করে দ্রুত কোনো পুলিশ স্টেশনে গিয়ে ফ্রমটা জমা দেবেন। পুলিশ সেই সি-ফ্রমটা জমা নিয়ে আপনাকে ‘বি-ফ্রম’ নামের আরেকটি ফ্রম দিবে। এই ফ্রমটা খুবই যত্ন করে সাথে রেখে ট্যুর করবেন।
ট্যুর শেষে যেদিন আপনি ভারতে ফিরে আসবেন তার আগেরদিন পুনরায় পুলিশ স্টেশনে গিয়ে বি-ফ্রমটি জমা দিলে তখন আপনাকে পুলিশ স্টেশন থেকে ট্রাভল পারমিট দেবে। এই পারমিট নিয়ে আপনি ওয়াগা বর্ডার দিয়ে পাকিস্তান থেকে বের হয়ে ভারতে এসে পরবেন।
এখানে বলে রাখা ভালো, ওয়াগা বর্ডারে পাকিস্তানী ইমিগ্রেশন থেকে সবাইকে সি-ফ্রম দেয়না। যাকে সন্দেহ হয় তাকেই সি-ফ্রম দেয়া হয়। যদি সি-ফ্রম না দেয় তাহলে তো আর ঝামেলা নেই। কিন্তু যদি দেয়, তাহলে অবহেলা না করে অবস্যই উপরের প্রসেসগুলো কন্টিনিউ করবেন, নয়তো ঝামেলায় পরে ইসলামাবাদে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে।
তবে পাকিস্তানি অথরিটি যথেষ্ট আন্তরিক। তারা আপনাকে ভারতীয়দের মত দিনের পর দিন ঘুরাবে না। গেলেই সাথে সাথে কাজ করে দেবে।
পাকিস্তান থেকে বেরুনোর পর আর কোনো কাজ নাই। পূর্বের মত ট্রেন ও বাসে করে ভারত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে আসবেন। আর এভাবেই আপনার বাই রোড ট্যুর সম্পন্ন হবে।
 প্রধান সমস্যাঃ-
বাই রোড ট্যুরের প্রধান সমস্যা হলো ভারতীয় অথরিটির গোয়ার্তুমি। কপাল ভালো হলে তারা কয়েক দিনের ভেতর এক্সিট পারমিট দিয়ে দেয়। কিন্তু মাঝে মাঝে দিনের পর দিন লাগিয়ে দিতে পারে। তখন ভারতে বসে থাকতে হয়, অথবা বাংলাদেশে ব্যাক করতে হয়। এক্ষেত্রে একটা রিস্ক থেকে যায়।
খরচঃ-
ঢাকা-কলকাতা = ১৮০০ টাকা
কলকাতা-দিল্লি= ধরুন ২৫০০ টাকা
দিল্লি-অম্রিতসার= ধরুন ৬০০ টাকা
গাড়ি ভাড়া হিসেব করলে দাড়ায় প্রায় ৫ হাজার টাকা (বাড়িয়ে ধরেছি)। আসার খরচ হিসেব করলে হয় ১০ হাজার টাকা। এছাড়া বেনাপোল বন্দরে ৫০০ টাকা দিতে হবে।
৪-৫ দিনের ভেতর এক্সিট পারমিট পেলে হোটেল বিল ও খাবার খরচ ধরুন ৬ হাজার টাকা। তবে গ্রুপে গেলে রুম শেয়ার করে নিলে ৩-৪ হাজার টাকা হয়ে যাবে।
তাহলে ভারত যদি দ্রুত এক্সিট পারমিট দিয়ে দেয় তাহলে মাত্র ১৫ হাজার টাকার ভেতরেই আপনার পাকিস্তান যাওয়া-আশা হয়ে যাবে। কিন্তু পারমিট দিতে দেরি করলে হোটেল আর খাবার বিল বাড়তে থাকবে । আবার ভারতে থাকা-খাওয়ার খরচও তুলনামুলক বেশি। ভারতে ১০ দিন থাকলে যত টাকা খরচ হবে, ওই টাকায় এর চেয়ে ভালো মানের হোটেল বুক করে পাকিস্তানে ১৭-১৮ দিন থাকা সম্ভব।

লিখেছেন   :  ইমরান আনসারী   ছবি ও তথ্য: ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button