ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কিছু মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি

কোন মানুষকে তার অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া একটি সাধারন ব্যাপার কিন্তু মধ্যযুগে এমন সাজা দেয়া হতো যেটা শুনেই আমাদের রক্ত হিম হয়ে যায় । মধ্যকালীন সময়কালকে মানবজাতির ইতিহাসের সব থেকে নির্দয় আর সবথেকে ভয়ংকর যুগ বলে মনে করা হয় । কারন মধ্যযুগে অপরাধীদের সাজা বা শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু এমন ভয়ংকর আর ভয়ানক পদ্ধতি অবলম্বন করা হত যেটা মনুষ্যত্বের সমস্ত ধাপকে ছাপিয়ে দিত । এই সময়কালে অনেক বর্বর লড়াই করা হয়েছে । নিজের শত্রু,বিদ্রোহী অথবা আইন ভঙ্গ করা লোকেদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এমন ভয়ংকর ও ভয়ানক পদ্ধতি এই যুগে অবলম্বন করা হয়েছিল যার সম্পর্কে শুনলেই আমাদের গায়ের লোম খাঁড়া হয়ে ওঠে । এইসব শাস্তি দেখে অন্যলোকেরা অপরাধ করার এতটুকুও সাহস পেতো না । আজ আমি আপনাদের মধ্যযুগ-র সেই সমস্ত শাস্তির মুখোমুখি করাবো যা দেখলে আপনার শিরদাঁড়া সব এক হয়ে যাবে । তো চলুন আজ আমরা জেনে নেয় ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কিছু মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি।

ফ্লাইং টরচার

ফ্লাইং টরচার

মানব ইতিহাসের সব থেকে দুর্ধর্ষ এবং ভয়ানক শাস্তি যাকে আমরা ফ্লাইং টরচার নামে জানি । ফ্লাইং সাজাতে দোষী ব্যক্তির শরীরের চামড়া একটি ধারালো চাকু বা চুরির মাধ্যমে ছাড়ানো হত এবং এরপরেও যদি ঐ দোষী ব্যাক্তি বেঁচে যায় তাহলে তাকে সূর্যের তেজ আলোতে একটি পাহাড়ের উপরে এই ভাবে বেঁধে রেখে আসা হত এবং এরপরেও যদি দোষী ব্যাক্তি বেঁচে যায় তাহলে সব শেষে তাকে ফুটন্ত তেলের কড়াতে ডুবিয়ে মারা হতো । একবার ভেবে দেখুন এইসব সাজা দেওয়ার জন্য কতটা নির্দয় হতে হত ।

এমপ্লিমেন্ট

এমপ্লিমেন্ট

সেই সময়ের দ্বিতীয় ভয়ংকর সাজা ছিল এমপ্লিমেন্ট যেখানে যন্ত্রনার কোন সীমা ছিল না এই সাজাতে দোষীর পেছনে একটি ধারালো এবং সুচালো লাঠিকে বারবার ঢোকানো হতো আর যখন সেই লাঠি নিচে দিয়ে ঢুকিয়ে দোষী ব্যক্তির শরীরকে চিরে উপর দিয়ে বের হত তখন তাকে এইরকম ভাবে পাহাড়ের উপর টাঙিয়ে রেখে দিয়ে আসা হত মরার জন্য ।

দ্য র‌্যাক

দ্য র‌্যাক

দ্য র‌্যাক নামে দেওয়া এই সাজাতে দোষীকে একটি টেবিলের উপর দুটি রোলার এর মাধ্যমে বাধা হত । তারপর একটি লোক ঐ রোলারের দ্বিতীয় ভাগে লাগানো একটি হ্যান্ডেলকে ঘোরানো শুরু করত । যখনই রোলার ঘুরতে শুরু করত তখনই দোষীর হাড়-গোড় ভিতর থেকে ভাঙতে শুরু করত । হাড় ভাঙার এই ব্যথা দোষী সহ্য করতে পারত না আর শেষে কি হতো সেটা আর আশাকরি বলার দরকার নেই ।

হেড ক্রুসার

হেড ক্রুসার

এবারে বলছি আরো একটি ভয়ংকর এবং যন্ত্রণায় ভরা শাস্তি যার নাম হেড ক্রুসার । যেখানে অপরাধীর মাথাকে একটি মাথা ফাটিয়ে দেয়ার মত যন্ত্রতে রাখা হতো যাকে উপর থেকে ঘোরানো শুরু করার সাথে সাথেই অপরাধীর মাথার উপর চাপের সৃষ্টি হত । আর এই চাপের ফলেই আপরাধীর মাথা ফাঁটতে শুরু করত আর শেষে তার মাথা পুরোপুরি ফেটে যেত এবং তারপর কি হত আশা করি সেটা আপনারা আন্দাজ করে নিয়েছেন ।

ব্রেজেন বুল

ব্রেজেন বুল

এটি একটি এমন নির্দয় শাস্তি ছিল যেখানে দোষীকে কোন ষাঁড়ের পেটে রাখা হত আর নিচে জ্বালিয়ে দেওয়া হত আগুন । এবারে আপনি একবার ভেবে দেখুন কি অবস্থা হত ঐ দোষী ব্যক্তির যে এই শাস্তিকে ভোগ করত । এই সাজাতে গরম আর চামড়া পোড়ার ফলে দোষী ব্যক্তি ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই নিজের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করত ।(মধ্যযুগ)

ন্যাকলেসিং

এই প্রকারের সাজাতে দোষীকে গ্যাসোলিনে ডুবানো টায়ারের মাধ্যমে এমনভাবে আটকে দেওয়া হতো যাতে সে ভালোভাবে নড়তে-চড়তে না পারে । তারপর সেই টায়ারে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হতো এবং ঐ টায়ারের রাবার যখন জ্বলতে জ্বলতে দোষী ব্যক্তির চামড়ায় পড়তো তখন ধীরে ধীরে ওই ব্যক্তি মৃত্যুর পথে এগিয়ে যেত ।

বালতির মধ্যে ইঁদুর

খুবই আজব মনে হচ্ছে তাই না যে এটি আবার কেমন শাস্তি । আসুন জানা যাক এই প্রকারের শাস্তিতে কি হত । এই ভয়ঙ্কর সাজাতে চার-পাঁচটি ইঁদুরকে একটি বালতির মধ্যে দিয়ে ঐ বালতিটিকে দোষী ব্যক্তির পেটের উপর উলটে রাখা হতো । আর ঐ বালতির ওপর রাখা হতো গরম গরম জ্বলতে থাকা কয়লা । যখন ইঁদুর কয়লার গরমকে সহ্য করতে পারত না তখন সে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করত আর এই রকম পরিস্থিতিতে রাস্তা হত কেবল একটি আর সেটি হত দোষী ব্যক্তির পেট । এইরকম অবস্থায় ইঁদুর দোষী ব্যক্তির পেট চিরে তার শরীরে প্রবেশ করত । ঐ ব্যক্তি কতটা কষ্ট পেত আশা করি আপনি আন্দাজ করে নিয়েছেন ।(মধ্যযুগ)

জুডাস ক্রেডল

জুডাস ক্রেডল

এই শাস্তির মাধ্যমে অপরাধীকে পিরামিডের মতো আকারের এইরকম একটি সিটে জোর করে বসানো হতো । এখন অপরাধী কেন এর উপর বসতে চাইবে আর এর জন্য অপরাধীকে রশির মাধ্যমে বেঁধে রাখা হতো যাতে এই পিরামিড অপরাধীর নিচ থেকে চিরে উপরে উঠে আর এটা জানি না যে কেন এই সাজাটা বিশেষ করে মহিলাদের জন্য তৈরী করা হয়েছিল ।এই ভয়ংকর শাস্তিগুলি দেখে আপনি হয়তো ভাবছেন যে আমরা কত না ভাগ্যবান যে আমাদের জন্ম সেই সময় হয়নি ।

কফিন টর্চার

কফিন টর্চার

কফিন টর্চার মধ্যযুগে এটি খুবই প্রচলিত ছিল । আপনি হয়তো কোন হলিউড মুভিতে এই ধরনের শাস্তি দিতে দেখেছেন । অপরাধীকে এইরকম একটি খাঁচার মধ্যে বন্দী করা হতো যাতে সে নিজের জায়গা থেকে নড়াচড়া করতে না পারে । এরপর ঐ কাঁচাকে কোন গাছের ডালে ঝুলিয়ে দেওয়া হতো । এই ধরনের শাস্তি ধর্মকে নিন্দা করার জন্য দেওয়া হত অপরাধীকে হয় মানুষখেকো জানোয়ার খেয়ে ফেলত অথবা ভয়ংকর কোনো পাখির শিকার হতো ।

দ্যা ব্রেষ্ট রিপার

দ্যা ব্রেষ্ট রিপার

এই শাস্তি কেবলমাত্র মহিলাদেরকে দেওয়া হতো । যদি কোন মহিলা দ্বিতীয় কোন পুরুষের সাথে গোপন সম্পর্ক তৈরি করত এবং সেটা যদি ধরা পড়তো অথবা মহিলার উপর গোপন সম্পর্ক রাখার সন্দেহ সত্যি হত  তাহলে ব্রেষ্ট রিপারের মাধ্যমে মহিলাকে কেমন ধরনের শাস্তি দেওয়া হত তা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন ।রিপারকে মহিলার ব্রেস্টে লাগিয়ে জোরে চাপ দেওয়া হত শুধু এতোটা শাস্তি দিয়েই শেষ হতো না । চিমটার মতো দেখতে এই হাতিয়ারকে মহিলার চোখের মধ্যে গুঁজে দেওয়া হত এবং এর ফলে বেশীরভাগ মহিলাদের মৃত্যু হয়ে যেত আর যারা বেঁচে যেত তাদের জীবন মৃত্যুর থেকেও খারাপ হতো ।

দ্যা পিয়ার অফ আঙ্গুস

দ্যা পিয়ার অফ আঙ্গুস

ঘাতক হাতিয়ার ছবিতে দেখেই আপনি হয়তো আন্দাজ করে নিয়েছেন যে এই ছোট হাতিয়ার অপরাধীর জন্য কতটা কষ্টদায়ক হতে পারে । এই হাতিয়ারের ব্যবহার বাচ্চা দেওয়া মহিলাদের,মিথ্যা বলা লোকেদের আর হোমোসেক্সোয়াল করা লোকেদের উপর করা হতো । এই হাতিয়ারের উপরে লাগানো পেঁচকে ঘোরানো শুরু করলে এটি চারটি অংশে ভাগ হয়ে যায় । এই হাতিয়ারকে মিথ্যা কথা বলা লোকেদের মুখে, আর অ্যাবসন  করতে চাওয়া মহিলাদের যোনিতে ঢুকিয়ে এর পেঁচকে ঘোরানো হত । যখন এই পেঁচ ঘোরা শুরু করতি এই চারটি অংশ বড় হতে শুরু করত । যার ফলে অপরাধী অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করত । তারপর তার চামড়া ফেটে যেত আর হাঁড় ভেঙে যেতো আর শেষে অপরাধীর কি হতো সেটা নিশ্চয়ই আপনি বুঝে নিয়েছেন ।

দ্যা ব্রেকিং হুইল

দ্যা ব্রেকিং হুইল

ব্রেকিং হোয়েল ক্যাথরিন হুইল নামেও পরিচিত । এই সাজাতে দোষী ব্যক্তি প্রাণে বাঁচতে পারত না কিন্তু এই সাজাতে দোষীকে এতোটাই কষ্ট দিয়ে মারা হত যে এই শাস্তি দেখা লোকেরা অপরাধ করার আগে দশবার ভেবে দেখতে । অপরাধীকে একটি হুইলের সাথে বেঁধে তার উপর হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হতো এবং এই আঘাত ততক্ষণ পর্যন্ত করা হতো যতক্ষণ না অপরাধীর শরীরের হাড়গোড় ভেঙে এক হয়ে যায় । এরপর তাকে মরার জন্য ছেড়ে দেওয়া হতো । কখনো কখনো অপরাধীকে মারার পর একটি উঁচু জায়গার ওপর রাখা হতো যাতে শকুনেরা ওই হাত পা ভাঙ্গা অপরাধীকে জীবিত অবস্তায় খেয়ে ফেলতে পারে ।

স্ট্রাপডডো

এই সাজা-তে দোষী ব্যক্তির হাত দুটোকে তার শরীরের পেছন দিকে দিয়ে একটি রশির মাধ্যমে বাধা হত এবং এরপর ওই দোষী ব্যক্তিকে বাধা রশির সাহায্যে শূন্যে ঝুলিয়ে দেয়া হতো এবং নিচে থাকা একটি রুলার এর মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে উঁচু-নিচু করা হতো এছাড়াও দোষী ব্যক্তির ব্যথাকে আরো যন্ত্রণাদায়ক করার জন্য পায়ে বেঁধে দেওয়া হত ভারী ওজনের পাথর বা অন্যকিছু । এই সাজা-তে দোষীব্যক্তি হয়ত প্রাণে মারা যেত না কিন্ত তার দুটি সারা জীবনের মত অকেজো হয়ে যেত এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দোষী ব্যক্তি প্রাণেও মারা যেত ।

কোয়ার্টারেড টর্চার

এই সাজা-তে প্রথমে দোষী ব্যক্তিকে একটি উঁচু কাঠের পাটাতনের উপর শোয়নো হত । তারপর তার দুই হাত এবং দুই পায়ে রশি বাধা হত যে রশিটা থাকত দোষী ব্যক্তির চারধারে থাকা চারটি ঘোড়ার সাথে বাধা । এরপর কিছু সময় ধরে সেই চারটি ঘোড়াকে চারদিকে ছোটানো হত যার ফলে দোষী ব্যক্তি অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করত এবং কিছু সময় পরে ওই দোষী ব্যক্তিকে একটি ধারালো তলোয়ার দিয়ে কেটে চারটি টুকরো করে দেওয়া হতো যে টুকরোগুলি চারটি ঘোড়ার রশির সাথে বাঁধা থাকত এবং এই ঘোড়া চারটিকে সমস্ত রাজ্যে ঘোরানো হত যাতে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি এই অমানবিক মৃত্যুদণ্ড দেখে বিদ্রোহ বা অন্যয় করার সাহস না পায় ।

ইন্টেস্টিনাল ক্র্যাংক

ইন্টেস্টিনাল ক্র্যাংক

এই সাজা-তে দোষী ব্যক্তিকে একটি টেবিলের উপর হাত-পা বেঁধে চিত করে শোয়ানো হত যার উপরে থাকতো একটি ক্র্যাংক যন্ত্র অর্থাৎ বাঁকা হাতলযুক্ত ঘূর্ণন যন্ত্র । এরপর প্রথমে দোষী ব্যক্তির পেটে একটা সামান্য ফুটো করা হতো এবং সেখান দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো একটি হুক যে হুকটা একটি সুতোর মাধ্যমে ওই ক্র্যাংক যন্ত্রের সাথে বাঁধা থাকত । এরপর হুক দোষী ব্যক্তির পেটে ঢোকানো হয়ে গেলে ঐ ক্র্যাংক যন্ত্রকে দুইদিক থেকে দুটি লোক ধীরে ধীরে ঘোরানো শুরু করতো যার ফলে ঐ হুক দোষী ব্যক্তির নাড়িতে আটকে যেত এবং যখন ওই ক্র্যাংক যন্ত্র ঘোরানো হতো তখন দোষী ব্যক্তির নাড়ি ছিঁড়ে বাইরে বের হয়ে আসতো । এরপর ধীরে ধীরে ততক্ষণ এই ক্র্যাংক যন্ত্রকে ঘোরানো হত যতক্ষণ না দোষী ব্যক্তি তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ।

স্লো স্লাইসিং

স্লো স্লাইসিং

স্লো স্লাইসিং, লিঞ্চি টর্চার নামেও পরিচিত যেটি একটি চাইনিজ ভাষা । এই সাজা-তে প্রথমে দোষী ব্যক্তিকে একটি পোতা কাঠের গায়ে ভালোভাবে বাধা হতো । এরপর সময়ের ব্যবধানে ওই দোষী ব্যক্তির বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন বাহু,পা এবং বুক থেকে মাংস কেটে নেওয়া হতো এবং সবশেষে দোষী ব্যক্তির হৃৎপিণ্ডকে বের করা হতো । এই সাজাতে দোষী ব্যক্তি ভীষণ যন্ত্রণা পেয়ে মরত কারণ এই সাজাতে দোষী ব্যক্তি কয়েক দিন বেঁচে থাকত আর অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করত ।

দি টাব টর্চার

দি টাব টর্চার

এই সাজা-তে দোষী ব্যক্তিকে একটি কাঠের বাক্সের মধ্যে হাত-পা বেঁধে আটকে দেওয়া হতো যেখানে কেবলমাত্র দোষী ব্যক্তির মুখকে বাক্সের বাইরে রাখা হত এবং এরপর দোষী ব্যক্তির মুখে মাখানো হত দুধ এবং মধু যার ফলে বিভিন্ন কীটপতঙ্গ আকর্ষিত হয়ে দোষী ব্যক্তির মুখকে ক্ষত-বিক্ষত করত এবং দোষী ব্যক্তিকে নিয়মিত খাবার খাওয়ানো হত যাতে দোষী ব্যক্তি মলমূত্র ত্যাগ করে এবং সেখান থেকে যে পোকামাকড় সৃষ্টি হয় সেই পোকামাকড় যেন দোষী ব্যক্তিকে জীবিত অবস্থায় খেতে শুরু করে । একবার ভেবে দেখুন যখন কোন জীবিত ব্যক্তিকে কোন পোকামাকড় কুরে কুরে খায় তখন কতটা যন্ত্রণা মধ্য দিয়ে প্রাণ ত্যাগ করে ঐসব দোষীরা ।

দা স্প্যানিশ টিক্লার

the spanish tickler

এটি একটি ভয়ংকর যন্ত্র ছিল । ইউরোপে মধ্যকালীন সময়ে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে এই যন্ত্রের ব্যবহার করা হতো । এটি দেখতে একটি সাধারন যন্ত্র বিশেষ কিন্তু যতটা সাধারণ ঠিক ততটাই ভয়ংকর । এই যন্ত্রের সাহায্যে মানুষের গায়ের চামড়া তার দেহ থেকে পুরোপুরি আলাদা করে দেওয়া হতো । এই যন্ত্রের ডিজাইন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যেখানে শুধুমাত্র মানুষের চামড়া নয় হাড়-গোড় পর্যন্ত চিরে যেত । অপরাধীকে একটি পোলের সাথে এমনভাবে বাঁধা হতো যাতে অপরাধী ভালো হবে নড়াচড়া করতে না পারে । তারপর কিছু কসাই লোক ওই অপরাধীর শরীরকে এই যন্ত্রের সাহায্যে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করা শুরু করতো । আঙুল থেকে শুরু করে বুক পর্যন্ত তারপর পিঠ,ঘাড় আর সবশেষে মুখের উপর ।

লিড স্প্রিঙ্কলার

LEAD SPRINKLER

সাধারণভাবে আগুনে গলানো লোহা,ফুটন্ত জল অথবা ফুটন্ত তেল এই যন্ত্রের  মধ্যে ভর্তি করে দেয়া হতো । এই যন্ত্রের ব্যবহার দোষী ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হতো যেখানে এই যন্ত্রের মধ্যে ভরা ওইসব ফুটন্ত গরম জিনিস দোষী ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে দেয়া হতো এমনকি চোখেও । এই যন্ত্রের ব্যবহার করে জল্লাদ লোক গলে যাওয়া ধাতুকে দোষী ব্যক্তির চোখে ফেলত যার ফলে সহ্যের বাইরে অপরাধী যন্ত্রণা ভোগ করত এবং সবশেষে দোষী ব্যক্তির মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেত ।

আইরন মেইডেন

iron maiden

এই যন্ত্র লোহা দিয়ে তৈরি একটি ক্যাবিনেট । যেটি একটি ফাঁপা ছাঁচ । এই যন্ত্রের ভিতরের অংশে ধারালো কাটা লাগানো ছিল । এর মধ্যে একজন মানুষকে আরামে বন্ধ করা যেত । এই যন্ত্রে একবার যাওয়ার পর এর ভিতর নড়াচড়া করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে যেত । কারণ এর চারিদিকে ধারালো ধারালো কাটা লাগানো ছিল । যেগুলি শরীরকে ছেদ বিচ্ছেদ করে দিত । অপরাধীকে এই যন্ত্রের মধ্যে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে একজন ব্যক্তি জোরে জোরে চিৎকার করে প্রশ্ন করতেন । আর যদি উত্তর না পাওয়া যেত তাহলে এই যন্ত্রের দরজাকে জোরে জোরে আটকানো হতো যার ফলে দরজায় লাগানো কাটা এবং যন্ত্রের ভিতরের অংশে লাগানো কাটা অপরাধ শরীরকে ফুটো করে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিত । যার ফলে অপরাধী অসহ্য যন্ত্রনার সাথে মৃত্যুবরণ করত ।

টাং টিয়ারার

বিশাল কাঁচির মতো দেখতে এই যন্ত্র অপরাধীর জিভকে উপড়ে ফেলার কাজে ব্যবহার করা হতো । Mouth Opener নামক একটি ডিভাইসের মাধ্যমে প্রথমে অপরাধীর মুখ বড় করে খোলা হত । তারপর এই যন্ত্রে লাগানো একটি পেজকে আটকে দেওয়া হতো । তারপর যখন অপরাধীর মুখ ভাল ভাবে বড় করা হয়ে যেত তখন নির্মমতার সাথে অপরাধীর জীবকে এই Tongue Tearer যন্ত্রের মাধ্যমে টেনে ছেড়ে ফেলা হতো

দা গুইল্লোটাইন

the guillotine

সবথেকে ভয়ংকর শাস্তি দেওয়ার উপায় গুলির মধ্যে এই গুইল্লোটাইন একটি ধারালো বড়ো ব্লেট দিয়ে তৈরি ছিল । যেটি একটি রশির মাধ্যমে বাঁধা থাকত এবং অপরাধীর মাথাকে কাঠ দিয়ে তৈরি একটি ছাঁচের মধ্যে রাখা হত এবং তারপর এই ধারালো ব্লেডকে উপর থেকে ছেড়ে দেয়া হতো যার ফলে অপরাধীর মাথা তার ধড় থেকে আলাদা হয়ে যেত । এই সাজাতে অপরাধীর শীঘ্রই মৃত্যু হয়ে যেত আর এজন্য শাস্তি দেওয়ার এই পদ্ধতিকে সেই সময় দেওয়া শাস্তিগুলির মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম যন্ত্রণাদায়ক মনে করা হয় ।

এবারে ভেবে দেখুন আমরা কতটা ভাগ্যবান যে আমরা এখন এমন যুগে আছি যে যুগে কঠিনতর অপরাধের জন্যও এতটা ভয়াবহ শাস্তি দেওয়া হয় না ।

তাই শেষে আমি আপনাদের বলব নিজের দেশকে সম্মান করুন যে আপনাকে আপনার বেঁচে থাকার জন্য সকল সুবিধা দিয়েছে ।

Leave a Comment