ব্যবসা শুরুর সময়ে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

ব্যবসা শুরুর সময়ে কিছু ছোটখাটো নিয়ম মেনে চললে আপনাকে একই ভুল বার বার করতে হবে না। তাতে আপনি কম ক্ষতিগ্রস্ত ও বেশি লাভবান হবেন।

যারা কোম্পানি তৈরি করেছেন কেবল তাদের জন্যেই নয় বরং যারা সেখানে কাজ করবেন তাদের জন্যেও এই নিয়মগুলি কার্যকর।

১) আপনি যদি কোম্পানিটিকে ভালো না বাসেন বা আপনার যদি এর প্রতি আসক্তি না থাকে তবে কোম্পানি শুরু করবেন না।

২) যদি আগেই আপনি ঠিক করে রাখেন কোম্পানি সমস্যায় পড়লে কীভাবে এ থেকে বের হবেন তবে আসলে ব্যবসায় আপনার আগ্রহ নাই।

৩)  যারা আপনার কোম্পানিতে কাজ করতে ভালোবাসবে কেবল তাদেরকেই নিন।

৪) বিক্রিই সব সমস্যার সমাধান। কোম্পানি কীভাবে অর্থ উপার্জন করবে অর্থাৎ কীভাবে পণ্য বা সেবা বিক্রি করবে তা আগে ঠিক করে নিন।

৫) আপনার কোম্পানির মূল দক্ষতা কীসে সেটা জানুন। তাতে সেরা হওয়ার চেষ্টা করুন। দক্ষতার সে ক্ষেত্রটিতে আরো লোক নিয়োগ দিন এবং টাকা খরচ করুন। সবচেয়ে সেরা ফলাফল বের করে আনুন। কোম্পানির মূল দক্ষতার বাইরে আপনার এবং কোম্পানির সাথে যায় এমন লোক নিয়োগ দিন, কিন্তু এক্ষেত্রে খুব বেশি খরচ করবেন না।

৬) অফিসে চা-কফির ব্যবস্থা রাখুন। কর্মীদের জন্যে লাঞ্চ হচ্ছে অফিসের বাইরে যাওয়ার এবং কথা বলার একটি সুযোগ। দিনে ২৪ ঘণ্টা সময়। কর্মীরা যদি তাদের কাজ ভালোবাসে তবে তারা নিজেরাই যত বেশি সময় সম্ভব কাজ করার উপায় বের করে নিবে।

৭) উন্মুক্ত অফিস সবাইকে কাজের ধরন অনুযায়ী একটা সুরে প্রাণবন্ত রাখে। এর বাইরে যদি কেউ প্রাইভেসি চায় বা নিজের মতো চলতে চায় তাকে বাথরুম ব্যবহার করতে বলুন। কোম্পানির শুরুতে কাজের ক্ষেত্রে প্রাইভেট বলে কিছু নেই। এটি অফিসে এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেয়া থেকে দূরে থাকারও একটি ভালো উপায়, কারণ কোম্পানির শুরুতে এক্সিকিউটিভরা সফলভাবে কাজ চালাতে পারে না। এমন কাউকে নিয়োগ দিবেন না যে অফিসে তার সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে।

৮) প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আপনি যতটা জানেন ততটুকু থাকুন। এই পদ্ধতি সবসময়ই বাড়তি খরচ কমায়। যেহেতু কোম্পানির শুরু সুতরাং সেখানে অল্প কয়েকজন কর্মচারী থাকবে। তারা যা জানে তাদেরকে তাই ব্যবহার করতে দিন।

৯) প্রতিষ্ঠানটিকে সমান রাখুন। এই অর্থে যে, যদি শুরুতেই ম্যানেজারদের তত্ত্বাবধান করার জন্য আরো ম্যানেজার থাকে তাহলে আপনি ব্যর্থ হবেন। আর শুরুতেই ম্যানেজারদের তত্ত্বাবধান করার জন্য আরো ম্যানেজার রাখলে সেখানে রাজনীতি শুরু হবে।

১০) শুরুতেই কোম্পানির কোনো চিহ্ন বা লোগো পাবলিককে গ্রহণ করানোর জন্যে উঠেপড়ে লাগবেন না। যদি কেউ শুরুতেই তাদের কোম্পানির লোগোওয়ালা পোলো শার্ট আপনাকে পাঠায় তবে বুঝবেন এটা তাদের নিশ্চিত ব্যর্থতার সংকেত। আপনার কোম্পানির লোকজন যদি জনসম্মুখে বা মিডিয়ায় যায় তাহলে আপনার কোম্পানির লোকদের জন্য তা ঠিক আছে। কিন্তু যদি আপনি আসলেই মনে করেন লোকজন বাইরে আপনার কোম্পানির লোগো দেওয়া পোলো শার্ট বা পোশাক পরবে তাহলে আপনি ভুল করছেন এবং কীভাবে টাকা খরচ করতে হবে সে ব্যাপারে আপনার ধারণা নাই।

১১) কোনো জনসংযোগ ফার্ম বা পিআর (পাবলিক রিলেশন) ফার্মকে নিয়োগ দিবেন না। সাধারণত একটি জনসংযোগ ফার্ম কল করবে বা ইমেইল পাঠাবে যে পত্রিকা আপনি আগেই পড়েছেন বা যে অনুষ্ঠানগুলি আপনি আগেই দেখেছেন বা যে ওয়েবসাইটগুলি আপনি আগেই ভালো করে পর্যবেক্ষণ করেছেন সেসব জায়গায়। তখন এসব জায়গার লোকজনেরা আপনার কোম্পানি বা ইভেন্টের কথা প্রচার করবে।

যখন আপনার কোম্পানি বা কাজের ক্ষেত্রে নতুন কিছু ঘটবে সেসব তথ্য আপনি নিজেই ওইসব জায়গায় পাঠিয়ে দিন। সাথে আপনার কোম্পানি এবং আপনার পরিচয় জানিয়ে একটি মেসেজ দিয়ে দিন। এরপর তারা নিজেরাই খুঁজে খুঁজে বাকি কাজটুকু করবে। কোনো জনসংযোগকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতার কাছ থেকে তথ্য জানতে তারা বেশি আগ্রহী হবে। এসব জায়গার লোকজনের সাথে আপনার একবার যোগাযোগ তৈরি হয়ে গেলে কোম্পানি বা কাজ নিয়ে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকুন। এবং তাদের একটি উৎস হিসেবে কাজ করুন। আপনি স্মার্ট হলে তারা নিজেরাই আপনাকে ব্যবহার করবে।

১২) কর্মীদের জন্যে কাজকে আনন্দময় করুন। কাজের চাপের ক্ষেত্রে সঙ্গতি বজায় রাখুন এবং আপনার কর্মচারীদের খুশির ওপর নজর দিন। তাদের পুরস্কৃত করুন।

ব্যবসা করতে গিয়ে আপনি নিজের জন্যে যে নিয়মগুলি তৈরি করেছেন চাইলে তা নিচে কমেন্টের ঘরে শেয়ার করতে পারেন।

Leave a Comment