২০১৯ সালে বাংলাদেশের সেরা ও বেশি বেতনের চাকরিগুলো


বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেতনের চাকরি

আপনি কি বাংলাদেশে উচ্চ বেতন ও সর্বোচ্চ পদের চাকরি খুঁজছেন?

আজকের প্রতিবেদনে আমরা ২০১৯ সালের সেরা উচ্চ-বেতনের চাকরিগুলোর সম্পর্কে বিশদ ভাবে আলোচনা করেছি। এখানে আরো রয়েছে কেন সেই চাকরিগুলো উচ্চ-বেতনের হয়ে থাকে এবং একই সাথে বোনাস হিসেবে আপনারা কী আশা করতে পারেন, আর বাংলাদেশে চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার জন্য আপনাকে কী কী করতে হবে সে সম্পর্কে টিপস!

প্রথাগত ভাবে এদেশে স্বাস্থ্যসেবা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রের চাকরিগুলোতে অনেক বেশি উপার্জন করার সুযোগ থাকায় পেশা হিসেবে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারদের কদর সব সময়ই অনেক বেশি করা হয়ে আসছে। ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই, এই ব্যাপারটা এখনও  সত্যি!

কিন্তু বাংলাদেশে ডিজিটাইজেশনের পথে প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের পাশাপাশি অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চ বেতনের চাকরির অফার দেয়ার সুযোগও বেড়েছে। ২০১৯ সালের সেরা উচ্চ বেতনের চাকরি গুলোর মধ্যে কয়েকটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসেবা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রেই নয়, বরং তথ্য প্রযুক্তি, ডাটা এনালিটিক্স বা তথ্য বিশ্লেষণ, কনসালটেন্সি, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সহ আইটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন উঁচু পর্যায়ের ম্যানেজারিয়াল পদেও পাওয়া যাচ্ছে।

তাহলে চলুন এবার জানি, কেন এই পদের চাকরিগুলোতে বেতন এত বেশি হয়?

শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের যেকোন প্রান্তের কোম্পানি এবং প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদা এবং যোগানের ভিত্তিতে কর্মীদের বেতন দিয়ে থাকেন। যদি কোন চাকরির জন্য চাহিদা ভালো থাকে, কিন্তু সেই চাহিদা পূরণ করার মত যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা কম থাকে, তাহলে সেই চাকরিতে যোগ দেয়া কর্মীর বেতনও অনেক বেশি হবে। একজন নিয়োগকারীর নজরে একজন প্রার্থী বা কর্মকর্তার মূল্য বা বেতন নির্ধারণ করা হয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মাথায় রেখে:

  • প্রার্থীর দক্ষতা কিংবা সার্ভিসের চাহিদা বাজারে কেমন?
  • চাকরিটি করার জন্য একজন প্রার্থীর কতখানি অভিজ্ঞতা রয়েছে?
  • কোম্পানির নজরে প্রার্থীটি নিজের জন্য যে পরিমাণ সম্ভাবনা ও মূল্য  সৃষ্টি করতে পেরেছে।

এই ধরণের চাকরিগুলোর জন্য একটি সাধারণ দাবী হচ্ছে উন্নত মানের উচ্চশিক্ষা, এটি হয়ত কোন চরম আবশ্যক শর্ত নয়, তবে একজন কর্মীর উপার্জন করার সম্ভাবনাকে লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও উন্নত শিক্ষা বা বিশেষজ্ঞ ট্রেনিং ছাড়াও বাংলাদেশে অন্যান্য বিভিন্ন ধরণের চাকরির বিশাল চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে ব্লু কলার বা কায়িক শ্রমের চাকরির ব্যাপক চাহিদা এবং কীভাবে এই চাকরিগুলো পাওয়া যায় তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন পড়ে দেখতে পারেন – ব্লু-কলার চাকরির জন্য সেরা প্ল্যাটফর্ম

এখন চলুন দেখে নিই আমাদের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত তালিকাটি, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের সেরা দশটি উচ্চ বেতনের চাকরিগুলো:

২০১৯ সালে বাংলাদেশের সেরা দশ উচ্চ বেতনের চাকরি

ক্যারিয়ার বাংলাদেশি টাকায় গড় বাৎসরিক বেতন
আইটি প্রোজেক্ট ম্যানেজার ৩,২৫৪,৯৭৪
মার্কেটিং ম্যানেজার ৩,০৭৫,০০০
লেকচারার / প্রফেসর ২,৩৭৬,৫৭১
এইচআর ম্যানেজার ১,৯৯২,৬১৫
সফটওয়্যার / অ্যাপ ডেভেলপার ১,৮৩৪,০৮৬
ইঞ্জিনিয়ার ১,৪৯৭,২২২
ডাক্তার ১,২৪৬,২৭২
অনলাইন মার্কেটিং প্রফেশনাল ১,১৫৬,৪২৮
আর্কিটেক্ট ১,১২৯,৪৪৪
ম্যানেজার ৯৪১,০৫৫

* উৎস: AverageSalarySurvey.com থেকে  বিভিন্ন সার্ভে এর ফল

বাংলাদেশে উচ্চ বেতনের কোন চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার সময় আপনি যা কিছু আশা করতে পারেন

এইসব চাকরির পদবির সাথে যুক্ত বড় অংকের বেতনের তালিকা দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই!

চলুন আজ আমরা এই বিশেষ কিছু চাকরির ক্ষেত্রগুলো আরো একটু ভালোভাবে খতিয়ে দেখি এবং এগুলোর সাথে সম্পর্কিত চাকরির পদবীগুলোর সাথে আকর্ষণীয় বেতনের অফার ও চাহিদার এক বিশাল প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে জেনে নিই।

ম্যানেজমেন্ট

আইটি প্রোজেক্ট ম্যানেজার / এইচআর ম্যানেজার / মার্কেটিং ম্যানেজার

আমাদের তালিকা এবং নিঃসন্দেহে বর্তমান চাকরির ক্ষেত্রগুলোর সবচেয়ে বড় একটি প্রয়োজনের অংশ হচ্ছে যোগ্য কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত উপযুক্ত ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা। আইটি সেক্টর হোক, কিংবা ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর, অর্থনৈতিক হোক, কিংবা অন্য যেকোন শিল্প, সত্যি বলতে যেকোন কোম্পানির সাফল্যের জন্য উপযুক্ত ও যথাযথ ম্যানেজমেন্ট স্টাফ এবং বিশেষ করে একটি উঁচু পর্যায়ের ম্যানেজারের প্রয়োজনীয়তা অকল্পনীয়। বেতন ৯০ হাজার টাকার চেয়েও বেশি।

তথ্য প্রযুক্তি অর্থাৎ আইটি সেক্টরে বিশেষ কিছু ব্যবসায়িক চাহিদা ও সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন করার জন্য প্রোজেক্ট ম্যানেজারদের উপর নির্ভর করা হয়ে থাকে। সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন নিশ্চিত করার জন্য তাদেরকে সকল পর্যায়ের ক্লায়েন্ট, অংশীদার এবং স্টাফদের অভ্যন্তরীণ ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থার সাথে কার্যকরী উপায়ে যোগাযোগ স্থাপন করা ও খোঁজ খবর রাখা জানতে হবে। তারা শুধুমাত্র চাহিদা কে সমাধানেই রূপান্তর করেন না, বরং একই সাথে উন্নতির পথে কাজ করেন ও কার্যকরী ভাবে সব কিছু সমাধা করতে চেষ্টা করেন। যেকোন রকম প্ল্যান করা, নেতৃত্ব দেয়া, আয়োজন করা এবং একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রোজেক্ট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রত্যেকটি আইটি ফার্মে যার কাছে আপনাকে যেতে হবে, তিনিই হচ্ছেন ম্যানেজার।

ম্যানুফেকচারিং বা উৎপাদন শিল্পে, উৎপাদন থেকে শুরু করে শিপমেন্ট পর্যন্ত পণ্যের সম্পূর্ণ দায়িত্ব বহন করেন একজন প্ল্যান্ট ম্যানেজার। ক্লায়েন্টের অর্ডার পূরণ করার পাশাপাশি পুরোটা সময় তাদেরকে সর্বনিম্ন খরচে একই সাথে পরিমাণ ও গুনগত মান নিশ্চিত করতে হয়।

এছাড়াও প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের এইচআর ম্যানেজাররা কোম্পানির শিডিউল রক্ষা করা, নিয়োগ দেয়া এবং সব গুলো কর্মীদের যাবতীয় ব্যাপার স্যাপার সামলানোর মাধ্যমে একটি উন্নত কর্ম পরিবেশ রক্ষা করেন এবং কর্মী ও উচ্চ পর্যায়ের অংশীদার উভয়ের মধ্যেই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখেন।

এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরণের আলাদা ম্যানেজমেন্ট স্টাফ রয়েছেন, যেমন স্ট্র্যাটেজি বা পরিকল্পনা ম্যানেজার, যারা একটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সংকটপূর্ণ সমস্যা এবং ব্যবসায়িক উন্নয়নের সুযোগ চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে কোম্পানিটির একাধিক কর্মপ্রক্রিয়া সম্পাদন করার জন্য পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত বের করে আনেন। তাছাড়াও তারা মার্কেটে ট্রেন্ড নিয়ে পর্যালোচনা ও খেয়াল করার মাধ্যমে একটি কোম্পানিকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করেন। আর তারা সব সময় প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোর কাজ, চর্চা লক্ষ্য করেন এবং মার্কেটে সেরা আচরণ বজায় রাখার চেষ্টা করেন।

নিয়োগ পাওয়ার জন্য করণীয়:

আপনাকে একটি বিশেষ ইন্ডাস্ট্রি বা শিল্পে নূন্যতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সহ আপনার শিল্পটিতে একজন এক্সপার্ট হতে হবে। শুধুমাত্র এভাবেই আপনি কোন একটি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পর্যায়ের একজন ম্যানেজার হওয়ার জন্য নিজের যোগ্যতা ও মূল্য প্রমাণ করতে পারবেন। যেখানে হয়ত ৫ বছরের মত অনেক অল্প পরিমাণ অভিজ্ঞতা নিয়েও আপনি একটি চাকরি পেতে পারেন, সেখানে কোম্পানিগুলো এই বিশেষ পদটির জন্য এমন কাউকে খোঁজেন যিনি  এই কাজের সাথে আসা নানা রকম চ্যালেঞ্জ সামাল দেয়ার মত নানা রকম অভিজ্ঞতা রাখেন।

সফটওয়্যার ডেভেলপার

মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার/ওয়েব ডিজাইনার/সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

যেসব ব্যক্তিরা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বা আইটি অর্থাৎ তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, কিংবা যারা কোন রকম প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা ছাড়াই প্রোগ্রামিং এ ভালো, তাদের জন্য সফটওয়্যার তৈরির শিল্পটি একটি সোনার খনির মতন। একজন নবাগত হিসেবে এই ক্ষেত্রের চাকরিগুলোতে আপনার ইনকাম বাংলাদেশি টাকায় ৬০ হাজারের উপরে হতে পারে। অতএব এই শিল্পে বড় অংকের বেতন কামানোর সুযোগ অনেক বেশি, কেননা বেশির ভাগ কর্মীরাই নিয়োগ পাওয়ার প্রায় ৩ বছরের মধ্যে তাদের বেতন দ্বিগুন করে নেন।

যদিও কম্পিউটার সায়েন্স এবং প্রোগ্রামিং নিয়ে পড়াশোনা করা গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যাটা অনেক বড়, তারপরও পেশাদারী দক্ষতা ও গুনাগুনের অভাব থেকে এই পদে উপযুক্ত প্রার্থীর সংখ্যা অনেক কম হয়ে থাকে। অর্থাৎ, এই চাকরিগুলোতে উচ্চ বেতনের চাহিদা বেড়েছে বহুগুনে, একই সাথে দেশের মধ্যে এবং দেশের বাইরে সবখানেই।

অভিজ্ঞ সফটওয়্যার আর্কিটেক্ট, ডাটা আর্কিটেক্ট, ডেভেলপার এবং প্রোগ্রামারদের যেকোন আইটি ফার্মের জন্য অনন্য সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়। তারা যে শুধুমাত্র বিভিন্ন কোম্পানির জন্য গঠনমূলক বিশ্লেষণ এবং ডিজাইন তৈরিতে কার্যকরীই নন, একই সাথে তারা ব্যবসায়ের অংশীদারদের জন্য অবিচ্ছেদ্য পার্টনারও বটে। সফটওয়্যার ডেভেলপাররা প্রতিনিয়তই রিসার্চ, ডিজাইন, টেস্ট এবং নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন, উন্নয়ন সহ নানা রকম ভেন্ডরের সমস্যা সমাধান করায় ব্যস্ত থাকেন।

নিয়োগ পাওয়ার জন্য করণীয়:

প্রোগ্রামিং বা কোডিং এর দিক থেকে আপনাকে সমস্যা সমাধানে এক্সপার্ট হতে হবে এবং এই সম্পর্কিত ইন্ডাস্ট্রির অগ্রগতির ব্যাপারে জানাশোনা থাকতে হবে। আপনার অভিজ্ঞতা যত বেশিই হোক না কেন, বা আপনি যদি সদ্য গ্র্যাজুয়েটও হয়ে থাকেন, এইসব চাকরিতে নিয়োগ দেয়ার পদ্ধতি অনেক বেশি টেকনিক্যাল। কোম্পানিগুলো এমন ব্যক্তির খোঁজ করেন যারা বুদ্ধিমান এবং চাপের মুখে কাজ করার যোগ্যতা রাখে, কেননা এই চাকরিগুলোতে কাজ করার জন্য বেশির ভাগ সময়ই কঠোর সময়সীমা মেনে চলতে হয়।

ইঞ্জিনিয়ারিং প্রফেশনাল

ইলেকট্রিকাল / সিভিল/ অটোমোবাইল/ এরোন্যটিকাল ইঞ্জিনিয়ার / আর্কিটেক্ট

প্রথাগত ভাবেই ইঞ্জিনিয়ারিং প্রফেশনালরা ভালো বেতনের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত, হোক তারা ইলেকট্রিকাল কিংবা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তাদের বেতন বিশেষ ভাবে নির্ভর করে নির্দিষ্ট নিয়োগদাতা কোম্পানিটির উপর, কিন্তু বেশির ভাগ কোম্পানিই প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা সহ একজন প্রার্থীকে গড়ে ৭০ হাজার টাকার মত অফার করে থাকেন।

সিনিয়র পর্যায়ের ইঞ্জিনিয়াররা মূলত নিয়োগ করা, ট্রেনিং দেয়া এবং ইঞ্জিনিয়ারদের বিভিন্ন দলকে তত্ত্বাবধান করার মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন। তারা শুধুমাত্র একটি দলের সাথে মিলেই কাজ করেন না, একই সাথে আবার প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি এবং বাস্তবায়ন সহ যেকোন পদ্ধতিকে রি-ইঞ্জিনিয়ারিং করে আরো দক্ষ ও কার্যকরী ভাবে প্রোডাকশন চালানোর উপায় বের করেন। আর এ সব কিছুই তারা বাজেটের কথা মাথায় রেখে সম্পন্ন করেন।

নিয়োগ পাওয়ার জন্য করণীয়:

ইঞ্জিয়ার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই সুপরিচিত কোন প্রতিষ্ঠান থেকে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। সিনিয়র পর্যায়ের পদে চাকরি পাওয়ার জন্য আপনার অন্তত ২-৩ বছরের প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং চাকরি মূলত স্থায়ী বেতনের চাকরি হয়ে থাকে, যা কিনা প্রধানত নিয়োগদাতা ঐ বিশেষ কোম্পানিটির উপর নির্ভর করে কম বা বেশি হতে পারে।

মেডিক্যাল প্রফেশনাল

ডাক্তার / সার্জন / ডেনটিস্ট

কাজের তৃপ্তির দিক থেকে হোক কিংবা আর্থিক প্রতিদানের দিক, উভয় দিক থেকেই মেডিক্যাল সেক্টর এবং এতে ক্যারিয়ার গড়াটা সত্যিই বেশ ফলপ্রসু ও আনন্দের। বিশেষ করে বাংলাদেশে, বিশেষজ্ঞতার পর্যায় অনুসারে এবং কত ঘন্টা আপনি সজাগ থেকে কাজ করতে পারছেন, তার উপর নির্ভর করে একজন মেডিক্যাল প্রফেশনাল মাসে প্রায় ১ লক্ষ টাকার উপরে উপার্জন করতে পারেন। বেশির ভাগ সিনিয়ররা তাদের সুনামের ভিত্তিতে এই পরিমাণ টাকা মাত্র এক সপ্তাহে, এমনকি কেউ কেউ এক দিনেও উপার্জন করতে পারেন।

এছাড়াও আরো বিভিন্ন মেডিক্যাল প্রফেশনালের চাকরি রয়েছে, যেগুলোতে দেশে ও দেশের বাইরে সব যায়গাতেই বেশ ভালো মানের বেতন সুবিধা রয়েছে। ফিজিশিয়ান, অনুশীলনকারী নার্স, মেডিক্যাল এসিসট্যান্ট, কেমিস্ট, ডেনটিস্ট ইত্যাদি প্রফেশনালরা সবাই বাংলাদেশে কোম্পানির চাকরির পাশাপাশি প্রাইভেট চর্চা, কনসালটেন্সি, লেকচার, রেফেরাল ইত্যাদি মাধ্যমে বেশ ভালো রকম বেতন উপার্জন করতে পারেন।

একদিকে ফিজিশিয়ানরা হাসপাতাল, জরুরী যত্ন ও সুবিধা ইত্যাদি জায়গাগুলোয় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করতে সক্ষম। অন্যদিকে ডাক্তাররাও রোগ নির্ণয় ও ঔষধ প্রেসক্রাইব করা সহ সার্জিকাল পদ্ধতি পারফর্ম করা, স্পেশালিস্টদের কাছে রেফার করা ইত্যাদি কাজ করেন। নার্সরা ছোট খাটো আঘাতের চিকিৎসা, জটিল ও গুরুতর কেসে ফিজিশিয়ানদের সাথে আলোচনা করা ও রোগী রেফার করে থাকেন। কেমিস্ট কিংবা ফার্মাসিস্টরা ল্যাবরেটরিতে রক্ত চর্চা, পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রবল সেনসিটিভ কেমিক্যাল প্রোডাকশনের কাজ করেন।

নিয়োগ পাওয়ার জন্য করণীয়:

বড় সড় উপার্জন শুরু করার আগে আপনাকে অবশ্যই একটি এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করতে হবে এবং যেকোন একটি হাসপাতালে ট্রেনিং শুরু করে দিয়ে ধীরে ধীরে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়াতে হবে। যেখানে বিশ্বব্যাপী একটি যথাযথ মেডিক্যাল প্রফেশনাল অনুক্রম রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ সঠিক অবকাঠামোর দিক থেকে আজও পিছিয়ে রয়েছে। অনেক প্রফেশনালরাই ব্যক্তিগত বা দলীয়ভাবে চিকিৎসা চর্চা করা শুরু করেন তাদের উপার্জনের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

অনলাইন মার্কেটিং প্রফেশনাল

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার/ ব্লগার / এসইও কনসালটেন্ট

বাংলাদেশে এই যুগের অন্যতম সেরা এবং জনপ্রিয় চাকরির ক্ষেত্র গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। দেশে দ্রুত ডিজিটাইজেশন এবং ওয়েব ও সোশ্যাল মিডিয়ার উপস্থিতি বিগত দশক জুড়ে এই শিল্পকে ত্বরান্বিত করে আসছে এবং এটি দিন দিন আরো বেড়েই চলেছে।

অনলাইন মার্কেট সেক্টর, ঠিক এর নামের মতই একটি মার্কেটিং ক্ষেত্র। অতএব এখানে যেকোন ব্যক্তি বা সংস্থা নিজেদেরকে যতটা বেশি মার্কেটিং করতে পারবেন, তত বেশি তারা উপার্জনও করতে পারবেন। এখানে সুযোগ ও সম্ভাবনা ব্যাপক এবং সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট ম্যানেজার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন স্পেশালিস্ট, কনটেন্ট মার্কেটার, পিপিসি এক্সপার্ট, এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবেও এই সম্ভাবনা দিন কে দিন বেড়েই চলেছে।

একজন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও এক্সপার্ট, অনলাইন মার্কেটিং ম্যানেজার, কনটেন্ট ম্যানেজার, সোশ্যাল মিডিয়া এক্সপার্ট, কিংবা গুগুল/ ফেসবুকের বিজ্ঞাপন সুবিধার স্পেশালিস্ট ইত্যাদি পদের লোকদের উপার্জনের সম্ভাবনা ব্যাপক, এমনকি একজন কনসালটেন্ট হিসেবেও এই সম্ভাবনা অনেক বড়।

নিয়োগ পাওয়ার জন্য করণীয়:

এই ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য আপনাকে কোন সুনির্দিষ্ট ডিগ্রী বা শিক্ষাগত যোগ্যতা রাখতে হবে না। কিন্তু অনলাইন মার্কেটের ক্ষেত্রের উপর কঠিন দক্ষতা এবং ইংরেজি ভাষায় সাবলীল  ভাবে কথোপকথন করার যোগ্যতা থাকা আবশ্যক। কারো যদি কোডিং, প্রোগ্রামিং কিংবা ওয়েব ডেভেলপমেন্টে কোন রকম অভিজ্ঞতা বা ইতিহাস থাকলে এই ক্ষেত্রে সফল হওয়া আরো সহজ হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে এখনো এসইও সংক্রান্ত চাকরিগুলো পুরোপুরি ভাবে টেকনিক্যাল নয়, সেখানে এগুলো উচ্চ মাত্রায় টেকনিক্যাল হওয়ার পথে নিশ্চিত ভাবে বেড়ে উঠছে।

বাংলাদেশে আরো অধিক পরিমাণে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি করার উপর মনোনিবেশ করার প্রয়োজনীয়তা

যেমনটা আমরা আগেই কিছুটা উল্লেখ করেছি, বিগত দশক জুড়ে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে এবং ক্রমশ ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে চলেছে। যেখানে  আমরা স্পষ্টতই দেখতে পাই যে চাকরির ক্ষেত্রগুলো পারফর্মেন্সের দিক থেকে তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে রয়েছে, সেখানে এটাও সত্যি যে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা ঊর্ধ্বগামী!

যেহেতু এ দেশে ডিজিটাল কিংবা আইটি সেক্টরে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানোর মত ক্ষমতা রয়েছে, সেহেতু দ্রুত বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত সরকার এবং প্রাইভেট সেক্টরের সাথে পার্টনারশিপ হওয়া প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, সুযোগ সম্ভাবনা ও বৃদ্ধির সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে সকল ইন্ডাস্ট্রিতে ডিজিটাইজেশন করানোর জন্য আমাদের যথাযথ পলিসি গ্রহণ করতে হবে।

আরো কিছু বলতে গেলে ব্যাপারটা শুধুমাত্র এককভাবে একটি জাতি হিসেবে বেড়ে ওঠা সম্পর্কিত নয়, বরং শুধুমাত্র সংখ্যায় বেড়ে ওঠার চেয়ে কার্যকারীতার পথে বিবর্তন হওয়াটাও এখানে মুখ্য। বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি অংশ হয়ে ওঠার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ বেশ কিছু দ্রুততর পরিবর্তনের মুখ দেখতে পাচ্ছে, যেগুলো সরকারি কিংবা বেসরকারি উভয় সকল ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা আবশ্যক।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চ বেতনের চাকরির সহজলভ্যতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন অনেক গুলো ফ্যাক্টর রয়েছে। প্রযুক্তির ক্রম উন্নয়নের কারণে কিছু পজিশন তৈরি হওয়ার সাথে সাথে নির্দিষ্ট কিছু চাকরি ভবিষ্যতে বিলীন হয়ে যাবে। বাংলাদেশের জন্য এমনটা ঘটা হয়ত সুদূর ভবিষ্যতের ব্যাপার, তবে এটি বেশ ভালো হারেই এদেশের দিকে এগিয়ে আসছে।

ইতিকথা

আশা করি আজ আপনারা বাংলাদেশের সেরা উচ্চ বেতনের চাকরিগুলো সম্পর্কে একটি ভালো ধারণা পেয়েছেন, যা কিনা বৈশ্বিক চাকরিক্ষেত্র গুলোর থেকেও তেমন একটা ভিন্ন বা আলাদা নয়। এই উচ্চ বেতনের চাকরিগুলোর মধ্যে যেকোন একটিতে জড়ানোর মত যোগ্যতা যদি আপনার থাকে, কিংবা আকাঙ্ক্ষা থেকে থাকে, তাহলে শুধুমাত্র আকর্ষণীয় বেতনই উপভোগ করতে পারবেন তা নয়, একই সাথে নিজেকে একজন বৈশ্বিক মানের প্রার্থী হিসেবেও গড়ে তুলতে পারবেন।

এই চাকরিগুলো ভালো বেতনের, ট্রেন্ডী এবং একই সাথে চির পরিবর্তনশীল আইটি প্রভাবিত সেক্টরগুলোর মধ্যে পড়ে। অতএব ভালো বেতন দেয়, অথচ বাংলাদেশে ভালো রকম চাহিদা নেই বা বিশেষত্বহীন চাকরির তুলনায় একটি বিশেষত্ব ও চাহিদাসম্পন্ন চাকরি পাওয়ার পেছনে দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করাটা একটি স্মার্ট সিদ্ধান্ত।

সর্বোপরি, আমরা আজ উল্লেখ করি নি এমন আরো অনেক চাকরি বাজারে রয়েছে, যেগুলোর বেতন প্রায় একই রকম কিংবা হয়ত কিছুটা বেশিই।

আপনি যেই চাকরির জন্যই আবেদন করুন না কেন, ইন্টারভিউ পদ্ধতির জন্য নিজেকে ভালো ভাবে প্রস্তুত করে নিতে ভুলবেন না যেন।

সর্বদা নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখুন। ভাগ্য আপনার সহায় হোক!

Have any Question or Comment?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।