onlineonline-business

বাংলাদেশে কীভাবে বিটকয়েন Buy/Sell করা সম্ভব?

বিটকয়েন এর পপুলারিটি সব দেশেই পৌছেছে, শুধু আমরাই বিটকয়েন নিয়ে এতো ‘Obsessive’ তেমন কিন্তু নয়। যদিও এতো অবসেসিভ হওয়ার কোনো মানেই হয় না! কারণ আমাদের দেশে ডিজিটাল কারেন্সি/ ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পুর্নভাবেই অবৈধ। এতে করে আমাদের দেশে ফ্রীল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং এর সাথে যারা যুক্ত রয়েছে তাদের অনেক অসুবিধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বিটকয়েন কীভাবে আমাদের দেশে অনলাইন ক্যারিয়ার এর উপর প্রভাব ফেলছে তা জানতে হলে আগে আমাদের জানতে হবে যে বাহিরের রাষ্ট্রগুলো যারা বিটকয়েনসহ অন্যান্য ক্রিপ্টীকারেন্সি ট্রেডিং ও মাইনিং কে বৈধ করে দিয়েছে সেখানে বিটকয়েন কতটা প্রভাব তৈরি করতে পেরেছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মতন দেশগুলোতে বিটকয়েন-কে অনলাইন পেয়মেন্ট-এর আরেকটি বিপ্লবী মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইলন মাস্ক-এর টেস্লা থেকে শুরু করে আরও কিছু নামি-দামি কোম্পানি এবং ব্র‍্যান্ড গুলো বর্তমান সময়ে বিটকয়েন পেয়মেন্ট এক্সেপ্ট করা শুরু করে দিয়েছে। যদিও কিছু অযুহাত দেখিয়ে এলন মাস্ক তার টেসলা কোম্পানি থেকে বিটকয়েন দ্বারা পেয়মেন্ট এর সুবিধা বন্ধ করে দেন।

তবে এতে এটা স্পষ্ট যে ক্রিপ্টো কারেন্সি অন্যান্য দেশগুলোতে ভালো প্রভাব সৃষ্টি করছে। 

সাতোশী নাকামোতো নামক ইউজার থেকে ক্রিপ্টো কারেন্সি-এর যাত্রা শুরু হলেও এখন বিশ্বব্যাপী ভাবে এর যাত্রা নতুন নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে বিটকয়েন বাদেও রয়েছে একাধিক ক্রিপ্টো-কারেন্সি।

এসকল বিষয়গুলোই আমাদের দেশের ফ্রীল্যানসারদের জন্য হয়ে দারিয়েছে পথের কাটা।

আমাদের দেশে বর্তমান সময়ে অনেকেই ফ্রীল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং কে নিজের কর্ম জীবনের সাথে যুক্ত করা শুরু করেছেন। তবে ইন্টারন্যাশনাল পেয়মেন্ট প্রোটোকলবিষয়ক ইস্যু থাকায় এবং এসকল ফিল্ডে দেশীয় মার্কেটপ্লেস প্রায় না থাকার মতন হওয়ায়, আমাদের দেশের সদ্য অনলাইন ওয়ার্কারদের জন্য বাহ্যিক মাধ্যমে পেয়মেন্ট রিসিভ করে তা দেশীয় টাকায় রুপান্তর করাটা প্রায় অসম্ভব এর মতন।

দুঃখের বিষয় হলো যে, এই সমস্যাটা অনেকটাই কমে যেতো যদি দেশে পেয়পাল এর প্রচলন শুরু হতো। তবে আমাদের দেশে পেয়পাল আসবে বলে এখনো স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে দেশীয় ফ্রীল্যান্সার এবং আউটসোর্সারদের।

তবে কিছু থার্ড-পার্টি সুবিধা ব্যবহার করে আমাদের অনলাইন প্রব্লেম গুলো-কে অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। আর এরই মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে বিটকয়েন Buy/Sell-এর সুবিধা। 

অনেকেই বাইন্যান্স এর নাম শুনেছেন। এটি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেখানে আপনি বাংলাদেশ থেকে বিটকয়েন অথবা অন্য কোনো ক্রিপ্টো-কারেন্সি Buy অথবা Sell করতে পারবেন।

তবে এর সম্পর্কে আমাদের দেশের ফ্রীল্যান্সার-রা তত বেশি একটা রিলেট করতে পারছেন না। এর ভালো একটি কারণ-ও রয়েছে। প্রথমতই বিন্যান্স থেকে কীভাবে ক্রিপ্টো-কারেন্সি Buy/ Sell করতে হবে তা দেশীয় আউটসোর্সারদের তুলনায় ফ্রীল্যান্সারদের আইডিয়া কম। তাছাড়া দেশিয়ভাবে ক্রিপ্টো-কারেন্সি অবৈধ হওয়ায় কেও রিস্ক নিতে চান না।

প্রথমত, বাইন্যান্স Binance.com একটি ট্রাস্টেড প্ল্যাটফর্ম। এখানে আপনার সাথে যদি স্ক্যাম হয়ে থাকে তাহলে তার দেখাশোনার জন্য আপনি একটি আলাদা হেল্প টিম সার্ভিস পেয়ে থাকেন যারা ২৪ ঘন্টাই আপনাকে সার্ভিস দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন।

কেন বাইন্যান্স থেকে বিটকয়েন Buy ও Sell করবেন?

প্রথমত বাংলাদেশে যারা ফ্রীল্যান্সার, আউটসোর্সার এবং সাধারণ ইনভেস্টার আছেন তারা যদি বিটকয়েন-এ ইনভেস্ট করতে চান তাহলে বাইন্যান্স থেকে ট্রাস্টেড প্ল্যাটফর্ম আর একটি পাবেন না। বাইন্যান্স-ই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে আপনি বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা ব্যাংক-এর মাধ্যমে ক্রিপ্টো-কারেন্সি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন। ক্রিপ্টো কারেন্সি বাদেও আপনি ডলারসহ অন্যান্য কারেন্সি-ও ক্রয়-বিক্রয় করার সুবিধা পাবেন। বাংলাদেশে কোনো ট্রাস্টেড প্ল্যাটফর্ম না থাকায় নির্দিষ্ট কোনো ওয়েবসাইটে বিশ্বাস করাটা একটু কঠিন হয়ে উঠে। তাছাড়া বিটকয়েন এর প্রতি মানুষের কৌতুহলতার কারণে অনেকে লোভ করে এমন কোনো সাইট থেকে বিটকয়েন ক্রয় অথবা বিক্রয় করতে যান যেখানে টাকার দিক দিয়ে অনলাইন নিরাপত্তার কোনো গ্যারান্টি থাকে না।

বিটকয়েনে কেনো ইনভেস্ট করবেন? 

বর্তমান সময়ে বিটকয়েন অনেক পপুলার একটি ডিজিটাল কারেন্সি। যুক্তরাষ্ট্র সহ আরও কিছু দেশ বিটকয়েনে প্রচুর ইনভেস্ট করা শুরু করে দিয়েছে। তাছাড়া, বছর কয়েক আগে যারা বিটকয়েন ক্রয় করেছিলেন তারা এখন কোটিপতি। বিটকয়েন কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল কারেন্সির নির্দিষ্ট কোনো মান নির্ধারণ করা থাকে না। আজ আকাশ ছোয়া দাম হলে কাল পানির দামেও নেমে জেতে পারে। এতে করে অনেকের কাছেই বিটকয়েন লাভজনক প্রমাণ হয়েছে।

যারা ডিজিটাল কারেন্সি সম্পর্কে জানেন, তারা এটা অবশ্য জানেন যে এখানে কোনো দেশের সরকারের অথবা থার্ড-পার্টির কোনো দখলিস্বত্ব নেই। অর্থাৎ, এখানে ২ টি সত্তা আপনি এবং যাকে সেন্ড করবেন অথবা যার কাছ থেকে কিনবেন, এই দুই সত্তার মাঝে সম্পুর্ন সীমাবদ্ধ।

ফিজিক্যাল কারেন্সি যেসকল সুবিধা দিতে পারে না, সে সকল সুবিধা ডিজিটাল কারেন্সি দিয়ে থাকে। আরও ভালোভাবে বোঝার অর্থে, বিটকয়েন হচ্ছে ডিজিটাল স্বর্নের মতো। তাই এর মধ্যে ভালোভাবে ইনভেস্ট করতে পারলে আপনি আর্থিকভাবে সফল হবেন।

কীভাবে বাইন্যান্স-এ এ্যাকাউন্ট তৈরি করবো?

বাইন্যান্স-এ এ্যাকাউন্ট তৈরি করার জিন্য অবশ্য প্রথমে বাইন্যান্স সাইটে প্রবেশ করে রেজিস্টার নাও/ সাইন-আপ অপশনে যেতে হবে। এরপর, বাংলাদেশ সিলেক্ট করে নিয়ে কন্টিনিউ করতে হবে।

ইমেইল, পাসওয়ার্ড অথবা মোবাইল নাম্বার দিয়েও কন্টিনিউ করতে পারবেন।  রেফার কোড থাকলে তাও ব্যবহার করে নিতে পারবেন। এরপর, ক্রিয়েট এ্যাকাউন্ট অপশনে ক্লিক করে আবার কন্টিনিউ করতে হবে। অবশ্য আপনি যদি ইমেইল ব্যবহার করেন তাহলে আপনার ইমেইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড যাবে। কোডটি ব্যবহার করে আপনার এ্যাকাউন্ট তৈরি সম্পন্ন হবে।

এ্যাকাউন্ট তৈরি করার পরে আপনাকে প্রথমত আপনার এ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করে নিতে হবে। এ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করার জ৯ন্য আপনার যা দরকার হবেঃ

১। Personal information.

২। Government-issued ID.

৩। Facial recognition.

ভেরিফাই করিয়ে নিলে আপনাকে এক্সট্রা সুবিধা দেওয়া হয় যা আপনার জন্য আবশ্যক। 

কীভাবে বাইন্যান্স থেকে বিটকয়েন ক্রয় করবেন? 

বাইন্যান্স থেকে বিটকয়েন ক্রয় করতে হলে প্রথমে আপনাকে ট্রেড অপশনে ক্লিক করে P2P অপশনে যেতে হবে। 

P2P অংশে পৌছানোর পর, আপনি যদি ডিজিটাল কারেন্সি ক্রয় করতে চান তাহলে Buy আর যদি বিক্রি করতে চান তাহলে Sell অংশে ক্লিক করতে হবে। বাইন্যান্স থেকে বিটকয়েন ক্রয় করার জন্য আপনাকে প্রথমত BUSD ক্রয় করতে হবে। BUSDবূশড হলো বাইন্যান্স ডলার যা আপনি বিকাশ/ নগদ/ রকেট অথবা ব্যাংকা-এর মাধ্যমে ক্রয় করতে পারবেন। পরবর্তীতে, বাইন্যান্স ডলার দিয়ে আপনি বিটকয়েন ক্রয় করতে সক্ষম হবে।

বাইন্যান্স থেকে বিটকয়েন ক্রয়/ বিক্রয় কীভাবে করবেন তা আরও ভালো করে জানতে হলে আপনি ইউটিউব-এ এই টপিকের উপর ডেডিকেটেড অনেক ভিডিও পেয়ে যাবেন।

অনেকগুলো ভুয়া প্ল্যাটফর্ম আছে যেখানে বিটকয়েন Buy/Sell করতে গিয়ে অনেক সময় অনেকের সাথে স্ক্যাম হয়ে যায়। তাই স্ক্যামারদের হাত থেকে বাচার জন্য অবশ্য ট্রাস্টেড প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করুন। এতে আপনার টাকার নিরাপত্তার গ্যারান্টি থাকে।

পরিশেষেঃ

বাংলাদেশে ডিজিটাল কারেন্সি ততটা খোলামেলা নয় যতটা বাহিরের রাষ্ট্রে। তাই প্ল্যাটফর্ম-ও সীমিত, বাংলাদেশের ছোট এবং মধ্যম ইনভেস্টারদের জন্য বিটকয়েনে ইনভেস্ট করাটা একটু সমস্যার বিষয় হলেও এরপর-ও অনেকেই বিটকয়েনে ইনভেস্ট করছেন।

বাইন্যান্স হোক কীংবা অন্য কোনো থার্ড-পার্টি, আমাদের দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ইনভেটারসহ ফ্রীল্যান্সার এবং আউটসোর্সারদের মাঝেও এখন ক্রিপ্টো কারেন্সির প্রতি কৌতুহলতাত সৃষ্টি হয়েছে।  আর এজন্যই দেশের ফ্রীল্যান্সার এবং আউটসোর্সারদের জন্য বাইন্যান্স এর মতো প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নাহলে উন্নয়নের আরেকটি ধাপ থেকেও পিছিয়ে যাবে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতেরা।

তবে বাইন্যান্স এর মতো প্ল্যাটফর্ম থাকায় দেশের মানুষদের জন্য বর্তমানে ক্রিপ্টোকারেন্সি-তে বিনিয়োগ করাটা অনেক অংশেই সহজ হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button