লাইফ স্টাইলস্বাস্থ্য

বডি ফিট রাখতে করণীয়

আমাদের শরীরকে ফিট রাখতে দৈনন্দিন ব্যায়াম এবং শারীরিক কার্যকলাপ অপরিহার্য। এতে করে আমাদের শরীরের মাংশ পেশি যেমন সতেজ থাকে তেমনি আমাদের হাড় মজবুত হয় ও বেড়ে উঠে। বডি কে ফিট রাখাই যেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। কেননা এতে করে আপনি হয়ে উঠেন স্মার্ট ও আকর্ষণীয়। শুধু তাই নয় এতে করে যে আপনার কেবল শারীরিক উন্নতি-ই হয় না বরং এর-ই পাশাপাশি আপনার মানসিক উন্নতিও হয়।  

অপরদিকে, বডি ফেট বা শরীরে ভুড়ি জমা অথবা মোটা শরীর আমাদের কে নানান শারীরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখে। এছাড়াও যাদের অতিরিক্ত বডি ফেট থাকে তাদের প্রায়ই হাটা-চলাও করতে দেখা দেয় নানান সমস্যা। তাই আমাদের শরীরকে ফিট রাখাটা হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। 

আজকের এই আরটিকেলে আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে শরীরকে স্মার্ট ও ফিট করে তোলার জন্য করণীয় কাজ গুলো সম্পর্কে আপনি ধারণা পেতে চলেছেন। অবশ্য নিম্ন করণীয়গুলো নিয়মিত মেনে চলবেন যাতে করে আপনি আপনার শরীর কে করে তুলতে পারবেন স্মার্ট এবং আকর্ষণীয়। 

ফিট বডি

শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানো টা যে কতটা কষ্টের তা কেবল একজন স্বাস্থ্যবান ব্যাক্তিই ভালো বলতে পারবেন। অতিরিক্ত ওজনের জন্য যে কেবল আপনার শারীরিক গঠনের বৃকিতি হয় তা নয়, এতে করে আপনার হ্রৃদ রোগ এবং এর পাশাপাশি অন্যান্য শারিরীক সমস্যাও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি। তাই যেকোনো ক্ষেত্রেই আমাদের উচিত নিজ বডি কে সবসময়ই ফিট রাখা।

 আপনার বডি কে ফিট রাখতে করণীয়ঃ

সঠিক ডায়েট অবলম্বন করা

শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে দেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত চর্বিই হয়ে পরে আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন। তাই নির্দিষ্ট ডায়েট মেনে খাদ্য গ্রহণ করা অপরিহার্য। নিম্নে একটি আদর্শ মানের ডায়েট এর তালিকাঃ

  •  দৈনন্দিন খাবারে সালাড ও চর্বিহীন খাদ্য খাবেন।(সাধারণ ডায়েট)
  •  বিভিন্ন মিশ্র সালাড খাওয়া, প্রতিদিন সকালে কাচা ছোলা খাওয়া (সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর), ফলের জুস যেমন; পেপে, কমলা, আনারস ইত্যাদি। (স্ট্যান্ডার্ড ডায়েট) 
  • কম তেলযুক্ত খাবার এবং কেবল সবুজ শাক-সব্জি খাওয়া, মাসে ১-২ বার অথবা প্রতি সপ্তাহে ১ বার মাছ মাংস খাওয়া, এবং বাহিরের সকল জাংক ফুড খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখা (এডভান্সড ডায়েট)

শরীর চর্চার সময় কার্বোহাইড্রেট খাবার খাওয়াই যেনো অনেক বড়ো একটা ভুল। কার্বোহাইড্রেট খাবার গুলো আমাদের শরীরের ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই কার্বোহাইড্রেট খাবার কম খাওয়া। শরীর চর্চায় অবশ্য বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এছাড়াও স্বাস্থ্যকর খাবার যথা বাদামজাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা আবশ্যক। 

খেলাধুলা/ ব্যায়াম 

শারীরিক কার্যকলাপ আমাদের শরীরকে ফিট রাখে। ছোট বেলা থেকেই যে নিয়মিত খেলাধুলা করে আসছে তার শরীরে কখনোই অতিরিক্ত ফেট বা মেদ হয় না। এছাড়াও যারা নিয়মিত জিমে যায় অথবা বাসায় রুটিন মাফিক ব্যায়াম করেন তাদের শরীর সবসময়ই ফিট থাকে। তাই শরীর ফিট রাখতে দৈনন্দিন খেলাধুলা এবং এর পাশাপাশি ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অনেকেই একদিন ব্যায়াম করে আবার পরেরদিন করে না, এতে করে তাদের শরীরে অতিরিক্ত চর্বি তোহ কমেই না বরং আরও শারিরীক অক্ষমতা দেখা দেয়। তাই নিয়মানুসারে দৈনন্দিন ব্যায়াম কররে হবে।

নিয়মিত খেলাধুলা করা

প্রতিদিন খেলাধুলার অভ্যাস আমাদের সকলেরই কম বেশি থাকা দরকার। অনেকেই এমন আছেন যারা একদম-ই খেলাধুলা করতে পছন্দ করেন না। এমনটা কিন্তু মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। কেননা খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ ঘটে। প্রতিদিন বিকেলে অথবা সকালে খেলাধুলা যেমনঃ ক্রিকেট, ফুটবল, র‍্যাকেট ইত্যাদি খেলা উচিত। অনেকেরই দৈনন্দিন সময় হয় না, তাই প্রতি সপ্তাহে একবার করেও হলে খেলাধুলার আয়োজন করা উচিত। খেলাধুলা আমাদের মানসিক অস্থিরতা দূর করে এবং আমাদের শরীরকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখে। 

নিয়মিত ব্যায়াম করা

শরীরকে ফিট রাখতে ব্যায়াম এর বিকল্প নেই। নিয়মিত ব্যায়াম করলে আমাদের শরীরের মাংস পেশি সতেজ ও টাইট থাকে এবং হাড় মজবুত হয়।

 প্রতিদিন ব্যায়াম করলে যেই সুবিধাগুলো পাওয়া যাবেঃ

⇨শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, কর্মে উদ্দীপনা বাড়ে এবং কর্মবিমুখীতা হ্রাস পায়।

⇨শরীরে জমা অতিরিক্ত চর্বিদানা ধংস হবে ফলে অতিরিক্ত চর্বি কেটে শরীর স্বাভাবিক আকার ধারণ করবে। অতিরিক্ত চর্বি হ্রাস পাওয়ায় আপনার শরীরের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।

⇨ রক্তগাত্রে চর্বি জমতে পারবে না এতে করে আপনার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। এছাড়াও, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি হতে মুক্ত থাকতে পারবেন।

⇨ ব্যায়াম করার ফলে শরীরের মাংসপেশী ফুলে ওঠে যা আপনাকে আরো বেশি শারীরিক শক্তি প্রদান করে।

⇨ব্যায়ামের করলে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টের ব্যথা যেমন – কোমরের ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা, পায়ের ব্যথা ইত্যাদি দূর হয়।

⇨ব্যায়াম করার সময় যে ঘাম বের হয় তার সাথে কিন্তু শরীরের অনেক টক্সিন বের হয়ে যায়।

 

শরীর ফিট রাখতে যেসকল ব্যায়াম নিয়মিত করা আবশ্যকঃ

১ দরি লাফ

দড়ি লাফ আমাদের সকলেরই কাছে অনেক পরিচিত একটি ব্যায়াম। ছোট বেলায় অনেকেই এই খেলাটা খেলেছি। তবে আপনি কি জানেন যে দরিলাফ ব্যায়াম আমাদের শরীর থেকে অনেক অল্প সময়েই ঘাম বের করে দেয় যার সাথে ত্বকের মধ্য থাকা টক্সিনও বের হয়ে যায়। এতে করে মুখের ওপর টানটান ভাব আসে এবং উজ্জ্বল আসে।

২ পুশ আপ

শরীরচর্চা বিশারদদের মমতানুযায়ী, পুশ আপ আমাদের শরীরের শক্তি বাড়ে, ক্যালরি ঝরে, মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়, এবং নিজের উপর আত্মবিশ্বাস বাড়ে। নিয়মিত পুশ আপ করলে গলা হতে পা পর্যন্ত প্রতিটি মাংসপেশি শক্তিশালী ও সতেজ হয়ে ওঠে।

৩ যোগ ব্যায়াম 

যোগ যে শুধু ব্যায়াম তা নয়, যোগ শব্দের মুল অর্থ-ই হলো চেতনা। নিয়মিত যোগ ব্যায়াম আমাদের অসুস্থ শরীরকে রোগমুক্ত করতে সহায়তা করে এবং সুস্থ শরীরকে আরও তেজ ও সতেজ করতে সহায়তা করে। 

৪ শাতার কাটা

যারা শাতার যানে তাদের কাছে শাতার কাটা অনেক আনন্দের একটি ব্যায়াম। শাতার কাটা আমাদের শরীরের মাংস পেশি গুলো অনেক শক্তিশালী করে তোলে বিশেষ করে আমাদের ফুসফুস কে শক্তিশালী করে। এছাড়াও যারা নিয়মিত শাতার কাটেন তারা কখনো শ্বাসকষ্ট বা হাপানি অথবা ফুসফুসের সমস্যার শিকার হয় না।

৫ জগিং

শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে নিয়মিত জগিং করাটা অনেক উপকারী। প্রতি সকালে অথবা সন্ধায় জগিং করলে আমাদের পায়ের মাংস পেশি গুলো শক্তিশালি হয় এবং পায়ের হাড় মজবুত হয়। এছাড়াও এতে করে আমাদের শারীরিক স্টেমিনা বৃদ্ধি পায়। ফুসফুস শক্তি বাড়ে এবং নানান রোগের বিরুদ্ধে আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ অক্ষমতা হ্রাস পায়।

প্রতিদিনের ব্যায়াম আপনার শরীরকে সতেজ করে তোলে। ফলে কোনো কাজ করতে গেলে হঠাৎ হাতে কিংবা পায়ে টান খাওয়া কিংবা মচকে যাওয়া এরকম কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় না। এছাড়াও প্রতিদিন ব্যায়াম করলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শেষ কথা 

আমাদের শরীর কে ফিট ও সতেজ রাখতে ভালো মানের ডায়েট, খেলাধুলা এবং ব্যায়াম এর বিকল্প হিসেবে অন্য কিছু ধারণা করা যায় না। তাই শরীর চর্চায় উক্ত বিষয় গুলো মেনে শরীরকে ফিট করে তোলা প্রয়োজনীয়।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button