প্লুটো গ্রহ নয় কেন?

প্লুটো একটি এমন গ্রহ যাকে আমেরিকান Astronomer Clyde Tombaugh ১৯৩০ সালে আবিষ্কার করেন । প্লুটো সৌরজগতের সবথেকে দূরের এবং সবথেকে ঠান্ডা গ্রহ আর ১৯৩০-এর সেইদিন থেকেই প্লুটো সৌরমণ্ডলের নবম গ্রহ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে । কিন্তু ২০০৬ সালে প্লুটোকে সৌরমণ্ডলের নবমগ্রহের স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় । কিন্তু কেন ? কী কারণ ছিল প্লুটোকে সৌরমণ্ডলের নবমগ্রহের স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়ার । আসলে প্লুটোকে নবগ্রহের স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়ার কাহিনী ছিল খুবই হাস্যকর ।

প্লুটো

২০০৬ সালে IAU মানে International Astronomical Union;Czech republic -এর রাজধানী প্রাগে একটি মিটিং করেন । যেখানে বৈজ্ঞানিকদের দ্বারা অফিসিয়ালভাবে প্লুটোকে  সৌরমণ্ডলের নবগ্রহের স্থান থেকে সরিয়ে দেয়া হয় বামন গ্রহের পরিচিতি দেওয়া হয় । কিন্তু বহু বিজ্ঞানী International Astronomical Union -এর এই সিদ্ধান্তের বিরোধ করেন । বৈজ্ঞানিকদের বিরোধের একটি অন্যতম কারণ ছিল International Astronomical Union -এ সমগ্র পৃথিবীর প্রায় দশ হাজার বৈজ্ঞানিক যুক্ত ছিল । কিন্তু চেক রিপাবলিকে যখন প্লুটোকে গ্রহের স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তখন এই দশ হাজার বৈজ্ঞানিকদের মধ্যে কেবলমাত্র ৪% বৈজ্ঞানিক এই মিটিংয়ে Attend ছিলেন । মানে দশ হাজারের মধ্যে মাত্র চারশো বৈজ্ঞানিকই এই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ।

আর বৈজ্ঞানিকদের এই ছোট প্যানেল এই ধরনের বড়ো সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় । ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক এবং বিভিন্ন সংগঠন এই সিদ্ধান্তকে আজও মেনে নেয়নি । এছাড়াও বৈজ্ঞানিকদের বিরোধের প্রধান তিনটি কারণ ছিল । প্রথমত গ্রহকে নির্ধারণ করা ব্যাখ্যার জন্য । বৈজ্ঞানিকদের মতানুসারে সৌরমণ্ডলের গ্রহ তাকেই বলা যেতে পারে যে নিজের Orbit কে Clear রাখতে পারে । তার কাছে এতটা Gravity থাকা প্রয়োজন যে আশপাশ দিয়ে যাওয়া যে কোনো অবজেক্টকে নিজের গ্র্যাভিটি’র মাধ্যমে নিজের দিকে আকর্ষণ করতে পারে আর নিজের গ্র্যাভিটির মধ্যেই রাখতে পারে ।

কিন্তু প্লুটোর দ্বারা এমন না হওয়ার জন্য প্লুটোকে গ্রহের স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় । কিন্তু বিরোধ করা বৈজ্ঞানিকেরা বলেন সৌরমণ্ডলের পরিক্রমার যে স্থানে প্লুটো অবস্থান করছে ওই মহাজাগতিক স্থানে কোনরকম ছোট-বড় অব্জেক্টের অস্তিত্ব নেই । কোন ছোট-বড় পাথর,উল্কা,উল্কাপিণ্ড অথবা অন্য কোনো অব্জেক্টের উপস্তিতি নেই । এবার আপনার কি মনে হয় এই অবস্থাতে প্লুটোতো দূরের কথা । আমাদের পৃথিবীও যদি ঐ স্থানে থাকতো তাহলে  এই ব্যাখ্যা অনুসারে পৃথিবীও কোন মহাজাগতিক অবজেক্টকে নিজের দিকে আকর্ষণ করতে পারত না । দ্বিতীয়ত গ্রহকে গ্রহ হিসাবে প্রমাণ করার আরও একটি ব্যাখ্যা যেটা শুনলেও আপনার মনে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে পারে । এই ব্যাখ্যা অনুসারে কোন মহাজাগতিক পিন্ডকে গোলাকার হতে হবে আর সূর্যকে প্রদক্ষিন করতে হবে । তাহলেই ঐ মহাজাগতিক পিন্ডকে গ্রহ হিসেবে মনে করা যেতে পারে ।

সৌরজগৎ

এবার আপনার মনে প্রশ্ন উঠতে পারে যে এই বাখ্যা অনুসারে আমাদের চন্দ্রমাওতো গোলাকার আর পৃথিবীর সাথেই চন্দ্রমাও সূর্যকে প্রদক্ষিন করছে । শুধু এতটাই নয় চাঁদ থেকে বউ গুন বড় বৃহস্পতির উপগ্রহ গ্যানিমিড-ও গোল আর সূর্যকে পরিক্রমণ করছে । শুধু এখানেই শেষ নয় aries -ও দূরে অবস্থিত একটি গোল মহাজাগতিক পিণ্ড যাকে বামন গ্রহ  হিসাবে ধরা হয় সে ও নিজেই কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে । তাহলে এই হিসাব অনুসারে এইসব মহাজাগতিক পিণ্ডকেও গ্রহ হিসাবে স্থান পাওয়ার কথা ।

আর তৃতীয়ত একটি গ্রহকে এতটাই ম্যাসিভ বা শক্তিশালী হতে হবে যে তার ভেতর এতটা মাস বা ভর থাকা প্রয়োজন যেন সে নিজের পাওয়ারফুল gravity এর সাহায্যে নিজের আকারকে গোল রাখতে পারে । এজন্য বিভিন্ন বিজ্ঞানীর এই ব্যাখ্যা অসম্পূর্ণ বলে মনে হয় । আর এইসব কারণে প্লুটোকে গ্রহের স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা দিনের পর দিন আরো জটিল হয়ে চলেছে এবং আবার একবার প্লুটোকে গ্রহের লিস্টে স্থান দেওয়ার পক্ষে অধিক সংখ্যক বৈজ্ঞানিক সামিল হয়েছে ।

Leave a Comment