গেমস

জনপ্রিয় ২টি অনলাইন গেমস পাবজি ও ফ্রি-ফাইয়ার জেনে নিন অঅবিশ্বাস্য কিছু তথ্য

আমরা অনেকেই পাবজি অথবা ফ্রি ফায়ার এই দুটি এ্যাকশন ব্যাটেল রয়েলব্যাটল গ্রাউন্ড অনলাইন গেম সম্পর্কে অবহিত। কেননা এই দুটি গেমস এর জনপ্রিয়তা এতোটাই যে অনায়াসেই বলা যেতে পারে যে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন পাব্জি অথবা ফ্রিফায়ার দুটির মধ্যে একটি গেম জীবনে একবার হলেও খেলেছে।

গুগল প্লেয়স্টোরে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান টি ধরে রেখেছে এই ২ টি গেম। এছাড়াও যারা এই দুটি অনলাইন গেমস এর নেশায় আশক্ত তারা যেনো নিজেদের মাঝেই গড়ে তুলেছে ২টি স্বাধিন দল। একদল শুধু ফ্রিফায়ার খেলে ও আরেকদল পাব্জি। এদের মাঝে সংঘর্ষ মানেই হলো টিক্টক ও অনলাইনে মিমস শেয়ার। কে প্রথম আর কে দ্বিতীয় এই নিয়েই মুলত এদের লড়াই। তবে মুলত এই দুটি গেমস এর এমন কিছু অজানা বিষয় রয়েছে যা আমরা অনেকেই জানি না। 

তাই চলুন  আমরা জেনে নিই পাব্জি ও ফ্রিফায়ার এর কিছু জানা অজানা তথ্য। 

 

পাবজি মোবাইল

এই গেমটির অরিজিন কান্ট্রি/ জন্মস্থান হচ্ছে সাউথ করিয়া। এই গেমটই মুলত ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই এ প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ২০১৮ মার্চ ১৯ এ এই গেমটিকে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল গুলোর জন্যে ব্যবহারযোগ্য করা হয় । তখন থেকেই শুরু হয় এই গেমটির প্রচলন। যদিও এই গেমস টি ছিলো মুলত ফ্রিফায়ার এর কপি ভার্সন। হ্যা! অনেকেই এই বিষয়টি মানতে নারাজ যে পাব্জি মুলত গারিণা ফ্রিফায়ার অনলাইন গেমস এর নকল। যদিও উভয় গেমস এর খেলার ধরন ও গ্রাহকদের নিজের প্রতি আকর্ষণ করার যেই প্রক্রিয়া তা একে অপর থেকে অনেক টাই ভিন্ন। যাই হোক! চলুন এই গেমটির কিছু জানা অজানা তথ্য জেনে নিইঃ

১। আপনি কি পাবজি মোবাইল এই গেমটির সম্পুর্ন অর্থ জানেন?

  উঃ পাবজি মোবাইল এই গেমটির সম্পুর্ন অর্থ হচ্ছে ❝ প্লেয়ার আননোওন ব্যাটল গ্রাউন্ড❞ এই সম্পুর্ন নামটিকে শর্ট করে এই গেমটির নাম রাখা হয় পাবজি, যা পরবর্তীতে সারা পৃথিবী জুড়ে নিজের জন্যে খ্যাতিনামা অর্জন করেছে।

২। পাবজি গেমটি কে বা কারাই বানিয়েছে?  কিছু কি জানেন?

উঃ পাবজি গেমটিকে ডিজাইন করেছেন ব্র‍্যান্ডেন গ্রেনে এবং এই গেমটিকে পাবজি কর্পোরেশন, মাইক্রোসফট স্টুডিওস এবং টেন্সেন্ট গেমস এই তিনটি কর্পোরেট কোম্পানি পাব্লিশ করেছেন।

৩। এই গেমটির আয়ের উৎস সম্পর্কে কি জানেন?

উঃ পাবজি এই গেমটি মুলত “ইন আ্যাপ পার্চেজ” অর্থাৎ গেম চলাকালীন নানা অফার সেল করে, স্পন্সরশিপ এর দ্বারা, এছাড়াও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে, স্ট্রিমিং করে এবং স্ট্রিমারদের থেকে নানান চার্জ ইত্যাদির মাধ্যমে আয় করে থাকে।

৪। এই গেমটির জনপ্রিয়তার জন্যে কি বিজ্ঞাপন করা হয়েছিল? 

উঃ এই গেমটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্লু হোস্ট গেমটির জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য ১ কোনো রকম বিজ্ঞাপন-ই দেন নাই। অর্থাৎ গেমটির জনপ্রিয়তার পিছনে কোনো রকম বিজ্ঞাপন এর প্রয়োজন হয় নি।

৫। পাবজি গেমটি নিয়ে কিছু অদ্ভুত তথ্য 

উঃ এই গেমটির কেরে নিয়েছে অনেক কীশোর ও কিশোরীর প্রাণ। যেহেতু পাবজির খেলার জন্যে অনলাইন হওয়া আবশ্যক এবং অনলাইন হবার জন্যে অবশ্য ডাটা কানেকশন প্রয়োজন হয়। এমন অনেক ঘটনার অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে যেখানে দেখা গিয়েছে যে কেবল মাত্র ডাটা কেনার টাকা না পাওয়ার ক্ষোভে আত্যহত্যা করেছে কিশোর। আবার এমন-ও রেকর্ড পাওয়া গেছে যেখানে কিশোর ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এবং রিয়াল ওয়ার্ল্ড এর তফাৎ ভুলে বাস্তব জীবনে পাবজি গেমের মতন ১০ তলা বিল্ডিং থেকে লাফ দিয়ে আত্যহত্যা করেছে, সত্যি অনেক আজব!

পাবজিতে ব্যান্ড করার নিয়ম টা আসলেই অনেক কড়া। এই গেমটির ব্যান্ড করার নিয়ম টা এতটাই অবিশ্বাস্য যে আপনি বিশ্যাস-ই করতে পারবেন না। পাবজি গেম তার ইউজার কে ১০০ বছরের জন্যেও ব্যান্ড করতে পারে। আর এরকম নিয়ম কেবল মাত্র পাবজিতেই দেখা যায়। 

পাবজি-তে থাকা আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য বিক্রি করার সম্পুর্ন অধিকার-ই পাবজি গেম রাখে। 

 

গারিনা ফ্রি-ফায়ার 

ফ্রি-ফায়ার, গুগল প্লেয়স্টোরে সবথেকে বেশি ডাওনলোড হওয়া ফ্রি অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেমের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করে রেখেছে এই গেম। ২০১৭ সনের ৩০শে সেপ্টেম্বর এহ প্রকাশিত হয় এই অনলাইন গেমটি। ঠিক তখন থেকেই বিশ্বজুরে খ্যাতিনামা অর্জন করা শুরু করে এই গেম। কিন্তু এই গেমটি সবথেকে বেশি ডাওনলোড করা হয় যখন পাবজি গেমটি মার্কেটে নাম করে নেয়। তখন মানুষ পাবজি গেমের অল্টারনেটিভ গেম হিসেবে এই গেমটিকে বেছে নেয়। ঠিক তখন থেকেই সারা পৃথিবী জুড়ে পাবজি এবং ফ্রি-ফায়ার। সাধারণ ভাবেই পাবজি থেকে ডাওনলোড সংখ্যায় অনেক টা এগিয়ে ফ্রি-ফায়ার। এছাড়াও পাবজি গেমের ন্যায় ফ্রি-ফায়ার ও একি ক্যাটাগরির ও একি ফিল্ড এর অনলাইন গেম। উভয় গেম একি রকম হলেও নানান বিষয়ের কারণে ফ্রি-ফায়ার গেম ও পাবজি গেমের মধ্যে অনেকটাই ভিন্নতা রয়েছে। এছাড়াও ফ্রি-ফায়ার এর ভিন্নরকম গেমপ্লেয় এই গেমটিকে করে তোলে অন্যরকম। 

তবে চলুন জেনে নেওওয়া যাক ফ্র-ফায়ার এর কিছু জানা অজানা তথ্যঃ

১। ফ্রি ফায়ার গেম টি কোন দেশের ও এই গেমটিকে ডিজাইন করেছে কে?

উঃ অনেকেই জানেন যে ফ্রি ফায়ার একটি চাইনা গেম তবে যদি আমি বলি যে এই ধারণা টা ভুল তাহলে?  ফ্রি ফায়ার গেমটি বাজারে এনেছে গারেনা কর্পোরেট কোম্পানি যা বর্তমানে সিংগাপোরিয়ান কোম্পানি। এর ফাউন্ডার হলেন ফরেস্ট লি. যার জন্মস্থান হচ্ছে চাইনা এবং সেখানেই তিনি বড়ো হন।

২। ফ্রি ফায়ার এর মাইলস্টোন সম্পর্কে কি জানেন?

উঃ ফ্রি ফায়ার ২০১৯ সনের সব থেকে বেশি ডাওনলোড হওয়া গেমের তালিকায় শীর্ষ স্থানে। এছাড়াও ❝বেস্ট পপুলার ভোট গেম❞ পুরুষ্কার জয়ি এই গেমটি।

৩। আপনি কি জানেন ফ্রি ফায়ার কে গারিণা ফ্রি ফায়ার কেনো বলা হয়?

উঃ ২০১৭ সনের ৩০শে সেপ্টেম্বর যখন এই গেমটি প্রথমবারের মতন প্রকাশিত হয় তখন এই গেমটি মোট ডাউনলোড সাইয ছিলো মাত্র ৫৬ এম.বি। তখন ১১১ডটস. এই গেমটির ডেভলপমেন্ট আরও উন্নয়ন করার জন্যে সিংগাপোরিয়ান কোম্পানি ‘গারিণা’  এর সাথে কলাবরেট করেন। তখন থেকেই এই গেমটির শুরুতে গারিণা নামটি যুক্ত হয়ে এর নাম হয় গারিণা ফ্রি ফায়ার। 

৪। আপনি কি জানেন, গারিনা ফ্রি ফায়ার গেমটি খেলায় শীর্ষে আছে কোন দেশগুলো?

উঃ ইন্ডিয়া, চাইনা, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এর মতন দেশগুলো থেকে ফ্রি ফায়ার গেমটিকে সবথেকে বেশি খেলা হয়। মুলত বলা যায় এশিয়ান এই গেমটিকে অনলাইন মোবাইল  গেমের লিস্টে প্রথম স্থান দিয়েছেন এশিয়ান ইউজার্স-রাই।

৫। গারিনা ফ্রি ফায়ার গেমটি নিয়ে কিছু অদ্ভুত তথ্য 

উঃ কেবল পাবজি ইউজার-রাই যে আত্যহত্যার শিকার তা কিন্তু নয়। ফ্রি ফায়ার ইউজারদের তালিকায়-ও রয়েছে কিশোরদের আত্যহত্যার ঘটনা। ছোট ১০ বছরের ছেলে মার কাছে ৫০ টাকার আবদার, কি করবে? ডাটা প্যাক কিনে মোবাইলে অনলাইনে ফ্রি ফায়ার খেলবে। কিন্তু মা তার ছেলের আবদার পূর্ণ না করায় আত্যহত্যা করলো ১০ বছরের বালক। হ্যা! এমন্টাই ঘটেছে বাংলাদেশে, মাত্র কয়েক মাস আগের-ই ঘটনা। 

পাবজির মতন ফ্রি ফায়ার-ও আপনার তথ্য কে প্রাইভেট রাখে না। ফ্রি ফায়ার আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য কে সেল করার সম্পুর্ন অধিকার নিজের কাছে রাখে।  এসব গেম  মনস্তাত্বিক প্রভাব ফেলছে এবং তরুণদের আগ্রাসী করে তুলছে বলে মত দিয়েছেন মন বিজ্ঞানীরা।

 

শেষ কথা

এই ছিলো ফ্রি ফায়ার এবং পাবজির কিছু জানা অজানা তথ্য যা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আসা করি এই তথ্য গুলো আপনাদের কোনো না কোনোভাবে প্রয়োজনে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button