টেকনোলজি

ন্যানো টেকনোলজি কি? কিভাবে এটি আমাদের ভবিষ্যতে কাজে লাগবে?

আমরা অনেকেই “ন্যানো টেকনোলজি” এই নামটি শুনেছি অথবা এই টেকনোলজি সম্পর্কে অবগত। কেননা আমরা জারা টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা অথবা ঘাটাঘাটি করি তাদের কাছে এসকল বিষয়গুলো অজানা থাকে নাহ। এছাড়াও এই টেকনোলজি বিষয় নিয়ে অনেকেই ফেসবুক অথবা ব্লগে নানান আর্টিকেল লিখে থাকেন।

আসলে এই ন্যানোটেকনোলজি বিষয়টি এতটাই দ্রুত আমাদের প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে যে এর প্রশংসা না করলেই নয়। এছাড়াও আমাদের চারপাশে অথবা আমাদের নিজ ব্যবহৃত প্রযুক্তিতেও এর ছোয়া অনেকটাই থাকায় আমরা এই প্রযুক্তির সম্পর্কে নানান উদাহরণ দিতে পারি।

 

আর আজকে আমি প্রযুক্তির মধ্যে ন্যানোটেক অথবা ন্যানোটেকনোলজি এই বিষয়টির সম্পর্কে কিছু জানা অজানা বিষয় গুলো আমার আলোচনায় তুলে ধরবো। আজ আপনারা এই আলোচনায় জানতে পারবেন ন্যানোটেকনোলজি আসলে কি এবং কিভাবে এটি আমাদের ভবিষ্যৎ কে বদলাতে পারে।

 ন্যানোটেকনোলজি কী?

আমরা অনেকেই জানিনা যে ন্যানো প্রযুক্তিতে “ন্যানো” শব্দটির মানে অথবা এই শব্দটি কোথা থেকে এসেছে।

ন্যানো শব্দটি আসলে প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে এসেছে, তখন কার সময়ে তারা এই শব্দটি ছোট বা ক্ষুদ্র কোনো অস্তিত্বের জন্য ব্যবহার করা হতো। সেখান থেকেই এই শব্দটি নিয়ে এই প্রযুক্তির নামকরণ করা হয় ন্যানো টেকনোলজি। 

 

অত্যাধুনিক এই ন্যানোপ্রযুক্তির জনক রিচার্ড ফাইনম্যানকে বলা হয়। তিনি ১৯৫৯ সালের ২৯ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজিতে অনুষ্ঠিত আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির এক সভায় There’s Plenty of Room at the Bottom শীর্ষক এক বক্তৃতা দেন। তিনি তার বক্তৃতার মধেই সর্বপ্রথম ন্যানোপ্রযুক্তির ধারণা আমাদেরকে দেন।

 

এই প্রযুক্তিটি হলো বহুমাত্রিক, এর সীমানা প্রচলিত অর্ধপরিবাহী পদার্থবিজ্ঞান থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক আণবিক স্বয়ং-সংশ্লেষণ প্রযুক্তি পর্যন্ত, কিংবা আণবিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ থেকে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ন্যানোপদার্থের উদ্ভাবন পর্যন্ত বিস্তৃত। শিল্পের উদ্দেশ্যে পারমাণবিক, আণবিক এবং সুপ্রোমোলিকুলার স্কেলে পদার্থের ব্যবহাকে ন্যানোটেকনোলজি অথবা ন্যানোটেক বলা হয়ে থাকে। আরো সহজভাবে যদি বলা যায় তাহলেঃ এই প্রযুক্তিটি হলো পারমাপারমাণবিক বা আণবিক স্কেলে অতি ক্ষুদ্র ডিভাইস তৈরি করার জন্য যে বিজ্ঞান/ প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয় তাকে ন্যানো টেকনোলজি বলে।

 

ম্যাক্রোস্কেল পণ্য তৈরির জন্য পরমাণু এবং অণুগুলিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর প্রযুক্তিগত লক্ষ্যই হলো ন্যানোটেকনোলজির প্রাথমিক উদ্দেশ্য। ন্যানো টেকনোলজির সাধারণ বর্ণনা ন্যাশনাল ন্যানো টেকনোলজি ইনিশিয়েটিভ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ন্যানো টেকনোলজিকে 1 থেকে 100 ন্যানোমিটার আকারের কমপক্ষে একটি মাত্রা দিয়ে পদার্থের হেরফের হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে। ন্যানোটেকনোলজির সংজ্ঞা এই সত্যকে প্রতিফলিত করে যে কোয়ান্টাম-রিয়েল স্কেলে কোয়ান্টাম যান্ত্রিক এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ, এবং তাই সংজ্ঞাটি একটি নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত লক্ষ্য থেকে একটি গবেষণা শ্রেণীতে স্থানান্তরিত হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে সব ধরনের গবেষণামুলক ইনফরমেশন এবং প্রযুক্তি যা নির্দিষ্ট আকারের সীমার নিচে ঘটে এমন বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সাথে কাজ করে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে জৈব বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, ইলেক্ট্রনিক্স প্রভৃতিতে নানান পরিবর্তন ও আধুনিকতা আনা যেতে পারে, এছাড়াও কোনও স্থপতিকে ওজনে কম, শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য বানানো যায়। গাড়ির ইঞ্জিনে এই প্রযুক্তির সাহায্যে ঘর্ষণ তৈরি করা যায়, যাতে করে মেশিনের জীবন বৃদ্ধি পায় এবং জ্বালানি খরচ কম থাকে।

 

ন্যানোটেকনোলজি এর ব্যবহার ও আমাদের ভবিষ্যৎ! 

ন্যানোটেকনোলজি দ্বারা অনেক ক্ষুদ্র বা ছোট যন্ত্র অথবা মেশিন বানানো সম্ভব যা মানব দেহের ভিতর খুবি সহিজে প্রবেশ করে যে কোনো নির্দিষ্ট কোশের রোগ নিরাময় করতে সক্ষম হবে। এতে করে মানব দেহের জন্য কেন্সার প্রতিকারক ঔষধ ও বানানো সম্ভব। বিজ্ঞানিদের মতে ন্যানোটেকনোলজি দ্বারা আমরা আমদের জীবনে প্রযুক্তির যে একটা সাইড ইফেক্ট আছে তা অনেকটা কমিয়ে আনতে পারবো এবং আরো এমন অসম্ভব কাজ সম্পন্ন করতে পারবো যা মানব ইতিহাসের পরিবর্তনের কারণ ও হতে পারে।

 

আমাদের দ্বারা ব্যবহৃত কম্পিউটার এবং অন্যান্য সকল ইলেকট্রনিক ডিভাইস দীর্ঘ সময়ের জন্য ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, উদাহরণস্বরূপ, কম্পিউটারের সার্কিট এবং প্রসেসরগুলি তৈরি করার জন্য সিলিকন ব্যবহার করা হয়, যা একটি সেমিকন্ডাক্টর। এছাড়াও বিভিন্ন দেশ বিদেশে কৃষি উৎপাদন পদ্ধতির উন্নয়নকরণ করার জন্য ন্যানো টেকনোলজির ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষের খাওয়ার উপযোগী খাবার এর উৎপাদন কিভাবে বাড়ানো যায়, কীভাবে তাদের প্যাক করা যায়, এছাড়াও খাবারের বিভিন্ন দিকগুলিতে ন্যানো প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। নানান ন্যানোটেকনোলজি নিয়ে কর্মরত কোম্পানিগুলো ন্যানো প্রযুক্তি তৈরি করছে যা খাদ্যের স্বাদ, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সুবিধাগুলি যত্ন নেয়।

 

ন্যানোটেকনোলজি দ্বারা আমরা আমাদের জীবনের নানান রহস্য উন্মোচন করতে পারি। শুধু তাই নয়, যেমন্টা আমরা যানি যে প্রতিটি অস্তিত্ব-ই অসংখ্যক অনু দ্বারা গঠিত। এই অণুগুলির গঠন ও পেটার্ন তার থেকে হওয়া অস্তিত্বের আকার ও আকৃতি নির্ধারণ করে। এবং এই অণুর গঠনকে ইচ্ছেমত তৈরি করে ও নানান পেটার্ন এহ সাজিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব। শুধু মাত্র অণুর কাঠামোগত পার্থক্য হবার কারণেই কয়লা এত সস্তায় আর হীরা এত দামে পাওয়া যায়। অথচ দুটি জিনিসের মূল উপাদান হল কার্বণ। শুধু মাত্র অণুর গঠনের পার্থক্যের কারণে হীরা হলো পৃথিবীতে এখনো পর্যন্ত পাওয়া সবথেকে শক্ত দ্রব্য আর কয়লা কিংবা পেন্সিলের শীষ এতো নরম।

বর্তমানে ন্যানোটেকনোলজি এর দশা!

এই প্রযুক্তি নিয়ে বিজ্ঞানিদের আছে নানান মত ও করে চলেছেন নানান গবেষণা। প্রকৃতপক্ষে এই প্রযুক্তিটি হলো একটি সার্বজনীন ও বিকাশগত প্রযুক্তি। যার উন্নয়ন কর্ম এখনোব্দি হয়ে আসছে। কেননা আমরা প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও এতটা আগায়নি যাতে করে ১০০ বছরের মহাকাশ যাত্রা কে ৫০ বছরে সারতে পারবো। এতে করে আমরা বুঝতেই পারি যে প্রযুক্তিগত যেই টাইম-গেপ ও লেস-ইউজ-অব-নওলেজ টা আমাদের টেকনোলজি তে রয়েছে তার ফলশ্রুতি আমরা এখনো ততটস উন্নতির দিক অগ্রসর হতে পারি নি যতটা হবার কথা।

এতে করে ন্যানোটেকনোলজির সঠিক ব্যবহার টা আমরা এখনো অব্দি করতে পারি না। কিন্তু এতে করে এটাও বলা যায় না যে ভবিষ্যতে এর সুষ্ট ব্যবহার ও এর সঠিক ইনফরমেশন আমাদের হাতে আসবে না। কেননা এখনো পর্যন্ত আমরা এই প্রযুক্তির সম্পর্কে যতটা জেনেছি ও অবগত হয়েছি তাতে করে আমরা এই প্রযুক্তির অনেকটা ব্যবহার ও শুরু করে দিয়েছি। আর এর ফলেই প্রতিনিয়ত আমরা ন্যানোটেকনোলজি সম্পর্কে আরো জ্ঞান অর্জন করে চলেছি।

সুতরাং আমরা বুঝতেই পারছি যে, বর্তমানে যা যা হতে পারে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে তা অথবা তার থেকে আরও বেশি কিছু আশা করা যায়।

 

ন্যানোটেকনোলজি থেকে কি আশা করা যায়? 

 তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে তার ব্যবহার, আবার ব্যবহার থেকে শুরু করে তথ্য যোগাড়। এভাবেই গরে উঠেছে মানব ইতিহাসে বিপ্লবের কখনো শেষ হয় না এমন এক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় একটি প্রক্রিয়া অন্য আরেকটির প্রক্রিয়ার উপর স্বনির্ভরশীল, ঠিক যেভাবে এক মানব আরেক মানব এর উপর নির্ভরশীল হয়। ন্যানোটেকনোলজি এই প্রযুক্তির নানান তথ্য ও ব্যবহারযোগ্য সুযোগ বর্তমানে ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এর চুড়ান্ত ব্যবহার এর তথ্য যোগাড় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর উপর গবেষণা ও এর থেকে মেলা তথ্য দ্বারা আমাদের জীবন সহজতর ও উন্নত করা যাবে এমন প্রযুক্তি, চিকিৎসা, জীব ইতিহাস, উদ্ভিদ এর উৎপাদন বৃদ্বি ইত্যাদির উপর বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। যদিও এখনো পর্যন্ত ন্যানোটেকনোলজি দ্বারা এমন কোনো বিপ্লবী প্রযুক্তির উদ্ভাবন করা হয় নি। কিন্তু ভবিষ্যতে সাফল্য হবে বলে ধরা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button