বিউটি টিপসস্বাস্থ্য

থানকুনি পাতার যত গুন

থানকুনি পাতা। যার ইংরেজি নাম Indian pennyworth এবং বৈজ্ঞানিক নাম Centella asiatica।এটি একটি বিরুৎ ভেষজ জাতীয় উদ্ভিদ।এটি খুব সহজলভ্য একটি ওষুধিও বলা যেতে পারে। থানকুনি পাতার অঞ্চলভেদে বিভিন্ন নাম আছে।যেমন:আদামানি,ধুলাবেগুন,টেয়া,মানকি,ঢোলামানি,মানামানি,তিতুরা,আদাগুনগুনি সহ আরো অনেক নাম আছে এই থানকুনি পাতার।তবে বেশীর ভাগ অঞ্চলে একে থানকুনি পাতাই বলা হয়।

থানকুনি পাতা কোথায় পাওয়া যায়

বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই থানকুনি পাতা পাওয়া যায়।ঘরের পাশের ঝোপঝাড়ে,জঙ্গলেও এবং পুকুর,খাল বিলের আশেপাশেও এই পাতা পাওয়া যায়।আবার যে কোনো সবজি বাজারেও এই থানকুনি পাতা পাওয়া যায়।এটি খুব ই সহজলভ্য এবং ঔষধী পাতাই বটে।

থানকুনি পাতায় কি কি উপাদান আছে

গবেষনায় দেখা গেছে,থানকুনি পাতায় যেসব প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে তা অনেক দামী দামী ওষুধের থেকেও বেশী মানসমপন্ন।মাত্র 100 গ্রাম থানকুনি পাতায় আপনি পাবেন- ক্যালসিয়াম 171 মিলিগ্রাম আয়রন 5.6 মিলিগ্রাম পটাশিয়াম 391 মিলিগ্রাম ভিটামিন এ 442 মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন সি 48.5 মিলিগ্রাম এ্যামাইনো এসিড বিটা ক্যারোটিন ফাইটোক্যামিক্যাল সহ নানান প্রয়োজনীয় উপাদান। চিকিৎসকরা বলেন,নিয়মিত থানকুনি পাতা খেলে পেটের অসুখ হয় না বল্লেই চলে।

খানকুনি পাতার উপকারিতা

ত্বকের যত্নে থানকুনি:

ত্বকে ভালো রাখতে থানকুনি পাতার জুড়ি মেলা ভার।থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে ত্বকে ফাইটোকেমিক্যাল পুষ্টি বাড়ায় এবং ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

চুলের যত্নে থানকুনি:

চুল ভালো রাখতে থানকুনি পাতা খাবার পাশাপাশি থানকুনি পাতা,তুলসি পাতা এবং আমলকি একসাথে পেস্ট করে 12-14 মিনিট আপনার মাথার স্কাল্পে লাগিয়ে রাখুন।সপ্তাহে 2-3 বার এটি প্রয়োগে আপনার চুল হবে সিল্কি,ঘন,লম্বা।এবং চুল হবে ভিতর থেকে উজ্জ্বল।

পেটের যত্নে থানকুনি:

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে থানকুনি পাতার জুড়ি মেলা ভার।প্রতিদিন খালি পেটে 15-20 টা থানকুনি পাতার রস একটু মধু সহকারে খান।আপনার পেটের পীড়া দূর হবেই।

জ্বর কমাতে থানকুনি:

জ্বর হলে এক চামচ থানকুনি পাতার রসের সাথে শিউলি পাতা এবং একটু কাচা হলুদ পাতার রস খান।অনেক উপকার মিলবে।

ক্ষতের চিকিৎসায় থানকুনি:

কোথাও কেটে গেলে তৎক্ষনাৎ থানকুনি পাতা লাগান।রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে।থানকুনি পাতা রক্তে অনুচক্রিকা বৃদ্ধি করে।যার ফলে রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে।ফলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।

কাশি কমাতে থানকুনি:

কাশি কমাতে থানকুনি পাতা অব্যর্থ মহাঔষধ। এক চামচ থানকুনি পাতার রস,আধা চামচ আদার রস,আধা চামচ মধু দিয়ে একটি মিশ্রন তৈরী করুন। এরপর খালি পেটে এটিকে খান।5-7 দিন নিয়মিত এটি খেলে আপনার কাশি কমে যাবে।

হজম বাড়াতে থানকুনি:

থানকুনি পাতা হজম বাড়াতে খুব ই কার্যকরী। বিশেষজ্ঞদের মতে, থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে ঠিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে থানকুনি পাতা।

ডায়বেটিকস প্রতিরোধে থানকুনি:

ডায়াবেটিকস রোগের মহাঔষধ বলা হয় এই থানকুনি পাতাকে।প্রতিদিন থানকুনি পাতা খেলে ডায়াবেটিকস কন্ট্রোল করা সম্ভব।ডায়াবেটিক রোগীর শরীরে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশী থাকে।থানকুনি পাতা এই গ্লুকোজের মাত্রায় সামন্জস্যতা আনে।শরীরের অতিরিক্ত গ্লুকোজ কমাতে সাহায্য করে।তাই ডায়বেটিস রোগীর জন্য এটি খুব ই কার্যকরী। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনেও থানকুনি পাতা বেশ কার্যকরী।

থানকুনি পাতার নানা পদ:

থানকুনি পাতা একটু তিক্ত স্বাদযুক্ত।এজন্য অনেকেই এটিকে খেতে চায় না।তাই থানকুনি পাতাকে বিভিন্নভাবে রান্না করেও খাওয়া যায়। থানকুনি ভর্তা কালোজিরা এবং রসুন সহযোগে থানকুনি পাতা বেটে সরিষার তেল মিশিয়ে এটি ভর্তা করে খাওয়া হয়।কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় আর রসুন শরীরে ভারসাম্যতা বজায় রাখে।তাই এই ভর্তাটি খেতে যেমন উপাদেয় হয় তেমনি শরীরের জন্য খুব ই ভালো। থানকুনি পাতার ঝোল। কড়াই তে সামন্য তেলে কালোজিরা ফোড়ন দিন।এরপর থানকুনি পাতা দিয়ে একটু হলুদ,কাচামরিচ আর লবন দিয়ে ঢেকে রাখুন।আপনার ইচ্ছামতো আলু,চিংড়ি,সিদ্ধ মাংস এতে যোগ করতে পারেন।এরপর কষিয়ে বেশ সিদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে পরিবেশন করতে পারেন থানকুনির ঝোল থানকুনি ভাজি থানকুনি পাতা কুচিয়ে নিন।আলু এবং পিয়াজ কুচিয়ে নিন।এরপর কড়াইতে সামান্য তেলে রসুন ফোড়ন দিয়ে পিয়াজ আর আলুটা ভেজে তাতে কুচানো থানকুনি পাতাগুলো আর পরিমান মতো লবন দিন।এরপর ঢেকে কিছুক্ষন অপেক্ষা করুন।তারপর কাচামরিচ দিয়ে পরিবেশন করুন

লিখেছেন   : Sristy Saha  

ছবি :  ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button