অনলাইন আয়

ছাত্রদের জন্য অনলাইনে আয়

বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। ইন্টারনেটের বিস্তার বিশ্বব্যাপী। দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে ইন্টারনেটের ব্যাবহার ও উপকারীতা। বিশ্বায়নের এই যুগে সব কিছু হয়ে গেছে সহজ ও সুন্দর। বলতে গেলে এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে সব কিছু যেন হাতের মুঠোয় চলে এসেছে।

ইন্টারনেটের সাহায্যে অনলাইনে যেমন ছাত্ররা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বই পড়তে পারছে, বিভিন্ন ভাষা শিখতে পারছে, পারছে স্কিল ডেভলপমেন্ট করতে। সেই সাথে অনলাইনে আয়ও করছে ছাত্ররা। অনলাইনে আয় করার মাধ্যমে ছাত্ররা পড়া-লেখার ফাঁকে যেমন উপার্জন করতে পারছে সেই সাথে হচ্ছে সাবলম্বি। ছাত্র জীবন থেকে সাবলম্বি হওয়া অনেক দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই দেয়। তাছাড়া ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্ব বহন করে এই দক্ষতা। 

এই আর্টিকেলে ছাত্রদের অনলাইনে আয় করার বিভিন্ন উপায় ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

অনলাইনে আয় করার মাধ্যম

দৈনন্দিন জীবনে দিনের অধিকাংশ সময়ই কাটে আমাদের অনলাইনে। বিশেষ করে ছাত্ররা অনলাইনে পড়ালেখা, ফেসবুকিং, চ্যাটিং সহ বিভিন্ন ভাবে সময় অতিবাহিত করে। কিন্তু এই সময়কে কাজে লাগানো যায় অনলাইনে আয় এর মাধ্যমে। অনলাইনে আয় এর কিছু উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হলো ডাটা এন্ট্রি, কন্টেন্ট রাইটিং, অনলাইন সার্ভে, ব্লগিং, বুক রিভিউ, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ইউটিউবিং, রিং আইডি সহ বিভিন্ন উপায় রয়েছে অনলাইনের মাধ্যমে ছাত্রদের আয় করার এবং সেটা ঘরে বসেই। এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানতে পরুন সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি।

ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে আয়

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন তথ্য কম্পিউটার কম্পোজ কিংবা স্প্রেড শিটে লিপিবদ্ধ করতে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করেন সবাই। এতে করে তথ্য হারানোর ঝুঁকিও কম থাকে এবং কম সময়ে খুঁজে পাওয়াও যায়। কোনো তথ্য বা লেখাকে কম্পিউটার কম্পোজ কিংবা সফটওয়্যার এর মাধ্যমে স্প্রেড শিটের সাহায্যে প্রতিলিপি করার প্রক্রিয়াকেই মূলত ডাটা এন্ট্রি বলা হয়।

ডাটা এন্ট্রি হলো অনলাইনে আয় করার সহজ একটি মাধ্যম যা ছাত্ররা সহজেই রপ্ত করতে পারে। বিশেষ করে কলেজ ও অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে আয় করা সহজ। নির্দিষ্ট কোনো দক্ষতা ছাড়াই ডাটা এন্ট্রির কাজ করা যায়। টাইপিং স্পিড ভার্রো থাকলে ডাটা এন্ট্রি করে আয় করতে সময় কম অপচয় হবে এবং দ্রুত আয় করা যাবে। মোটামুটি মানের ইংরেজি লিখতে ও বুঝতে পারলে ডাটা এন্ট্রি যে কেউ করতে পারে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মতো ডিভাইস থাকলে। অনেক সময় মোবাইল ফোন দিয়েও ডাটা এন্ট্রি করা যায় কিন্তু তা বেশ সময় সাপেক্ষ। 

ডাটা এন্ট্রির কাজের জন্য অনলাইনে অসংখ্য ওয়েব সাইট রঢেছে। কিন্তু অধিকাংশ ওয়েব সাইটে কাজ পেতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডলার / টাকা পেমেন্ট করে প্রবেশ করতে হয়। তবে প্রথম দিকে এসব সাইট এড়িয়ে চলাই ভালো।

ডাটা এন্ট্রির কাজের জন্য কিছু ফ্রী ওয়েব সাইট রয়েছে যেখানে প্রচুর কাজ পাওয়া যায়।

জনপ্রিয় কিছু সাইট হলোঃ

১) WWW.GetAFreelancer.com

২) www.upwork.com

৩) WWW.GetACoder.com

৪) WWW.ScriptLance.com ইত্যাদি।

এসব সাইটে অবসর সময়ে ছাত্ররা কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারবে। 

ডাটা এন্ট্রিতে প্রয়োজন

  • কম্পিউটার,ল্যাপটপ, মোবাইল অথবা ট্যাব
  • ভালো টাইপিং স্পিড
  • ভালো মানের ইন্টারনেট কানেকশন
  • মোটামুটি মানের ইংরেজি বুঝতে পারা ও লিখতে পারা

কন্টেন্ট রাইটিং এর মাধ্যমে আয়

কন্টেন্ট রাইটিং বর্তমানে একটি বহুল জনপ্রিয় অনলাইন আয় এর মাধ্যম। বিশেষ করে ছাত্রদের জন্য কন্টেন্ট রাইটিং এর মাধ্যমে আয় করা খুব সহজ। বিভিন্ন ওয়েব সাইটের জন্য, নিউজ পেপারের জন্য বিভিন্ন ধরণের কন্টেন্ট চাওয়া হয় অন্যান্যদেশে ইংলিশের পাশাপাশি দেশীয় ভাষার মান সম্মত কন্টেন্ট ও কনাটেন্ট রাইটার আছে কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য বাংলাদেশে ইংলিশ কন্টেন্ট রাইটার থাকলেও ভালো মানের কন্টেন্ট রাইটার নেই। এই সুযোগটা নিয়ে টাকা আয়ের পাশাপাশি কন্টেন্ট রাইটিং এ নিজের একটা অবস্থান তৈরী করা সহজ। কন্টেন্ট রাইটিং এর ফলে ছাত্রদের বেশ কিছু উপকার হবে। বিশেষত ইংলিশ কনটেন্ট লিখলে ভোকাবুলারি স্কিল বাড়বে যা কিনা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্ববহ। অন্যদিকে অবসর সময়ে টাকা উপার্জন ও হবে।

কন্টেন্ট রাইটিং এর মাধ্যমে টাকা উপার্জন করতে প্রথমত দরকার মোবাইল বা কম্পিউটার, ইংলিশ কন্টেন্ট লিখতে দরকার ভালো মানের ইংরেজি জানা এবং ভোকাবুলারি জানা। বাংলা কন্টেন্টের জন্য প্রয়োজন ভাষার দক্ষতা। কোনো ছাত্র যদি লিখতে পছন্দ করে এব সেই সাথে লেখার মাধ্যমে টাকা উপার্জন করতে চায় তার জন্য কন্টেন্ট রাইটিং সহজ মাধ্যম। কন্টেন্ট রাইটিং এর ধরণের মধ্যে আছে গল্প, কবিতা, নিউজ কন্টেন্ট, টেকনোলজি কন্টেন্ট, স্বাস্থ্য কন্টেন্ট সহ বিভিন্ন ধরণের কন্টেন্ট রয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির অফিসিয়াল সাইট, ফেসবুক গ্রুপ, লিংকডিন থেকে কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজ পাওয়া যায়।

কন্টেন্ট রাইটিং এ প্রয়োজন

  • মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ এর যেকোনো একটি
  • ভালো বাংলা ও ইংলিশ জানা
  • বাক্য গঠনে নতুনত্ব থাকা

গ্রাফিক ডিজাইন 

গ্রাফিক ডিজাইন হলো অনলাইনে আয় করার জনপ্রিয় মাধ্যম। বিশ্বে অগণিত তরুণ গ্রাফিক ডিজাইনের মাধ্যমে নিজেদের সাবলম্বি করে তুলছে । দৈনন্দিন কাজে প্রতিটি ক্ষেত্রেই গ্রাফিক ডিজাইনের প্রয়োজন হয়। আর প্রয়োজনীয়তার কারণেই দিন দিন গ্রাফিক ডিজাইনের দিকে ঝোঁক বাড়ছে মানুষের। বাংলাদেশেও তরুণ সমাজ ঝুঁকছে গ্রাফিক ডিজাইনের দিকে। বেকারত্ব দূর করতে গ্রাফিক ডিজাইন যেন আশার আলো। তরুণরা গ্রাফিক ডিজাইনের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছে। ছাত্রদের অনলাইনে আয় এর জন্য গ্রাফিক ডিজাইন একটি ভালো মাধ্যম। গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ জানা থাকলে টাকা উপার্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে জন্য উপকারী হয়ে থাকবে।

গ্রাফিক ডিজাইনের অনেক গুলো ধরণ রয়েছে। যেমনঃ প্রিন্ট মাধ্যমের জন্য রয়েছে বিজনেস কার্ড, ফ্লাইয়ার, ব্রশিউর, বুক কাভার, পোস্টার, ব্যানার, প্যাকেট ডিজাইন, বিলবোর্ড, পেপার অ্যাড, ফটো এডিটিং ( প্রিন্ট ওয়েব দুই জায়গাতেই প্রয়োজন হয়), ইনভয়েস, লেটারহেড আরো অনেক কিছু। আবার ওয়েব মাধ্যমে রয়েছে লোগো ডিজাইন (এটি ও প্রিন্ট ওয়েব দুই জায়গাতেই প্রয়োজন হয়), ওয়েব ব্যানার, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব এর কাভার ফটো ডিজাইন,ওয়েব টেমপ্লেট,UI ডিজাইন, এপ্স ডিজাইন সহ আরো অনেক ধরণের। এগুলোর কয়েকটি মাধ্যমে দক্ষ হয়ে উঠলে গ্রাফিক ডিজাইনের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব।

গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে ৩-৪ মাস সময় লাগে। নিয়মিত চর্চা করলে খুব তাড়াতাড়ি দক্ষ হয়ে ওঠা যায় এবং উপার্জন করা সম্ভব হয়। বিভিন্ন অনলাইন কোর্স, অফলাইন কোর্সের মাধ্যমে অল্প টাকায় গ্রাফিক ডিজাইন শেখা যায়। তাছাড়া লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভলপমেন্ট প্রোজেক্ট (LEDP)  এ অনলাইনে ফ্রিতেও সেখানো হয় গ্রাফিক ডিজাইন। গ্রাফিক ডিজাইনে দক্ষ হলে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে ছাত্ররা অনলাইনের মাধ্যমে আয় করতে পারবে। Fiverr, Upwork, Freelancer.com এর মতো মার্কেটপ্লেস গুলোয় দেশ-বিদেশের বায়ারদের কাজ করে দিয়ে আয় করা যায়। তাছাড়া বিভিন্ন কোম্পানি, নিউজ পেপার অফিস সহ অনেক প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ পাওয়া যায়।

গ্রাফিক ডিজাইনে প্রয়োজন

  • ভালো মানের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ
  • ইচ্ছা শক্তি

ওয়েব ডিজাইন ও ওয়েব ডেভলপমেন্ট

বিশ্বায়নের এই যুগে ওয়েব সাইটের প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা আকাশচুম্বি। বর্তমানে ওয়েব সাইটের মাধ্যমেই সব ধরণের কাজ হচ্ছে। পড়াশুনা, কেনাকাটা, বিভিন্ন তথ্য জানা সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ওয়েব সাইট। তাই বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নব্য ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন পেশাধারীরা ওয়েবসাইট তৈরীর জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন। সেই সাথে যাদের ওয়েব সাইট রয়েছে তারা তাদের ওয়েব সাইটকে প্রতিনিয়ত আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করছেন।

প্রচুর চাহিদা সম্পন্ন এই কাজটি ছাত্ররা শিখে অনলাইনের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। ওয়েব ডিজাইন পুরোপুরি শিখতে ৪-৬ মাস লাগে। নিয়মিত চর্চার ফলে কাজ সেখার সময়েই কাজ পাওয়া যায়। ওয়েব ডিজাইন ও ওয়েব ডেভলপমেন্ট শিখতে প্রয়োজন ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ, উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট কানেকশন, ইংরেজি জানা।

ওয়েব ডিজাইন ও ওয়েব ডেভলপমেন্ট শিখে অনলাইনে আয় করার জনপ্রিয় কিছু মার্কেটপ্লেস রয়েছে। যেমনঃ Fiverr, Upwork, Freelancee এর মতো মার্কেট প্লেসে কাজ করে ছাত্ররা সাবলম্বি হতে পারবে খুব সহজে। তাছাড়া বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজের অফার দেখে কাজ পাওয়া যায় সহজেই।

ওয়েব ডিজাইন ও ডেভলপমেন্টের মাধ্যমে ছাত্ররা লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবে। 

ওয়েব ডিজাইন ও ওয়েব ডেভলপমেন্টে প্রয়োজন

  • ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ
  • উচ্চ গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট কানেকশন
  • মোটামুটি  ইংরেজি লিখতে ও বুঝতে পারা

ডিজাটাল মার্কেটিং 

আধুনিকায়নের এই যুগে ডিজিটাল মার্কেটিং অনন্য এক নাম। Digital Marketing বলতে বোঝায় মূলত ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে ব্যবহার করে ইন্টারনেট দুনিয়ায় পণ্য,প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডের প্রচারনা বা বিজ্ঞাপন দেয়া। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার হার বেশি। 

ডিজিটাল মার্কেটিং একটা বিস্তর প্যাকেজ। অনেক ধরণের ভাগ রয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর। যেমনঃ 

  • Search Engine Optimization (SEO)
  • Search Engine Marketing  (SEM) 
  • Content Marketing
  • Social Media Marketing(SMM) 
  • Digital Display Marketing
  • Mobile Marketing 
  • Email Marketing 
  • Affiliate Marketing

এসব গুলোই জনপ্রিয়। এসবের যেকোনো দুই বা তিন বিষয়ে কাজ পারলেই অনলাইনে প্রচুর আয় করা সম্ভব। ছাত্রদের অনলাইনে আয় করার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং সহজ ও জনপ্রিয় মাধ্যম।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর কয়েকটা বিষয়ে কাজ শিখতে ২-৩ মাস সময় দরকার। ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্যও প্রয়োজন কম্পিউটার বা ল্যাপটপ, ইংরেজি লিখতে ও বুঝতে পারা এবং ইন্টারনেট কানেকশন। 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিভিন্ন কাজ পেতেও ব্যবহৃত হয় Fiverr, Freelancer, Upwork এর মতো মার্কেটপ্লেস গুলো। 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য প্রয়োজন

  • ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ
  • উচ্চ গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট কানেকশন
  • মোটামুটি  ইংরেজি লিখতে ও বুঝতে পারা

অনলাইন সার্ভে

ছাত্রদের অনলাইনে আয় করার সহজ ও জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলো অনলাইন সার্ভে। দৈনিক ৩-৪ ঘন্টা সময় ব্যায় করলে অনলাইন সার্ভের মাধ্যমে টাকা ভালো পরিমাণে ইনকাম করা যায়। 

সার্ভের বাংলা অর্থ জরিপ। অনলাইন সার্ভে বলতে মূলত অনলাইনের মাধ্যমে জরিপ করাকে বোঝায়। 

সহজ এই কাজটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে কম সময়েই। অনলাইন সার্ভের জন্য বিশেষ কোনো দক্ষতার প্রয়োজন নেই। কম্পিউটার বা মোবাইল দুটোর সাহায্যেই সার্ভে করা যায় তবে মোবাইলের তুলনায় কম্পিউটার, ল্যাপটপে কাজ দ্রুত হয়। সার্ভের জন্যও দরকার ভালো মানের ইন্টারনেট কানেকশন ও ইংরেজি বুঝতে ও লিখতে পারার দক্ষতা।

জনপ্রিয় কিছু অনলাইন সার্ভে সাইট হলোঃ

www.viewpointpanel.com

www.toluna.com

www.branded.com

www.isay.com

ছাড়াও আরো অনেক সার্ভে সাইট রয়েছে। 

অনলাইন সার্ভেতে এক নাগাড়ে সময় দিতে হয় না জন্য ছাত্রদের জন্য সুবিধা জনক। ছাত্ররা তাদের সুবিধা মতো সময়ে কাজ করে উপার্জন করতে পারবে।

অনলাইন সার্ভেতে প্রয়োজন

  •  ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ
  • উচ্চ গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট কানেকশন
  • মোটামুটি  ইংরেজি লিখতে ও বুঝতে পারা

রিং আইডি

বর্তমানে অনলাইনে আয় করার জন্য রিং আইডি  অনলাইনে আয় করার বড় একটি মাধ্যম। বিশেষ করে ছাত্রদের জন্য রিং আইডির মাধ্যমে আয় করা খুব সহজ এবং ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। 

রিং আইডি হলো মূলত এক ধরণের সোশ্যাল মিডিয়া। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অফার দেয়ায় কম সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে রিং আইডি। রিং আইডি তাদের শুরুর থেকেই রেফারের মাধ্যমে ইনাকামের সুযোগ দিয়েছিলো এবং এখনো তা চলমান আছে। কমিউনিটি আর্নিং নামে নতুন একটি আয়ের মাধ্যম যুক্ত করেছে তারা। 

রিং আইডিতে কাজ করতে ঝামেলা নেই বললেই চলে। শুধুমাত্র মোবাইল ফোন দিয়েই রিং আইডি সয়ক্রান্ত সকল কাজ করা যায় যা ছাত্রদের জন্য খুবই উপকারী। মোবাইল ফোন এবং ইন্টেরনেট কানেকশন থাকলেই রিং আইডির মাধ্যমে আয় বরা সম্ভব। 

কমিউনিটি আর্নিং এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করে টাকা আয় করা যাবে। এর আগেও অনেক বিনিয়োগের মাধ্যমে আয় করার এপ কিংবা সাইট এসেছিলো কিন্তু মেগুলো তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি তবে রিং আইডি কম সময়ের মধ্যেই সেই জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। 

রেফার, ইনভেস্ট ছাড়াও এজেন্ট হয়েও আয় এর সুযোগ থাকছে রিং আইডিতে। কম সময় ও সহজে করা যায় জন্য ছাত্রদের জন্য অনলাইনে আয় করার ভালো একটি মাধ্যম এটি।

রিং আইডির মাধ্যমমে আয় করহে প্রয়োজন

  • ভালো কনফিগারেশনের মোবাইল ফোন 
  • উচ্চ গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট কানেকশন

ব্লগিং

ছাত্রদের জন্য অনলাইনে উপার্জন করার জন্য ব্লগিং একটি উত্তম মাধ্যম। ব্লগিং বলতে বোঝায় মূলত নিজের লেখা ও মতামত প্রকাশ করাকে যা অনলাইনের ভাষায় ব্লগিং নামে পরিচিত। 

বিশ্বে ব্লগিং একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। একেকজন ব্লগার একেক রকম বিষয় নির্ধারণ করে তার ব্লগিং চালিয়ে থাকে। মূলত ব্লগ লেখাভিত্তিক একটি মাধ্যম তবে ছবি ও দেওয়া যায়। 

ছাত্রদের জন্য ব্লগিং একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। তারা একে নিজেদের মতামত, লেখনির প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ পাচ্ছে ব্লগিং করে সেই সাথে অনলাইনে আয় করতেও সক্ষম হচ্ছে।

ব্লগিং এর জন্য দরকার একটি সুন্দর ডোমেইন নাম, যা মানুষকে আকর্ষণ করবে। ব্লগ সাইটকে জনপ্রিয় করতে দরকার ব্লগ সাইটটির সুন্দর ডিজাইন এবং ভালো মানের লেখা।

ব্লগিং শুরু করতে দরকার মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার, এবং লেখার ক্ষমতা। ছাত্রদের জন্য ব্লগিং করে আয় করা সহজ। কেননা এতে করে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করার পাশাপাশি টাকা উপার্জন করতে পারছে।

ব্লগিং এর মাধ্যমে আয় হয় মূলত এড আসার মাধ্যমে। ভিউ বাড়লে এড আসতে শুরু করে এং এরপর থেকেই আয় হয়। ব্লগের বিভিন্ন ধরণ আছে যেমনঃ ফুড ব্লগ, টেকনোলজি ব্লগ, ট্রাভেল ব্লগ, ধর্মীয় ব্লগ ইত্যাদি। সব ধরণের ব্লগ থেকে আয় করার উপায়ই হলো এড। Google Adsense বিজ্ঞাপনের জন্য বহুল জনপ্রিয় মাধ্যম। এখানে একাউন্ট করার পর আয় শুরু হবে। তাছাড়া BidVertiser, Infolinks এর মতো বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সাইট রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে ব্লগিং করে টাকা উপার্জন করা যায়।

ব্লগিং করতে প্রয়োজন

  • মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার
  • বিভন্ন ধরণের ঘটনা নিয়ে লেখার দক্ষতা

ইউটিউবিং

বর্তমান সময়ে ইউটিউব বিনোদনের জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। সবার নিত্যদিনের সঙ্গী ইউটিউব। সেই সাথে আয়ের বগ একটি অংশ জুড়ে আছে ইউটিউব। ইউটিউব থেকে আয় করা আজকাল বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদের ইউটিউবিং করে অনলাইনে আয় করার বিষয়টি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

ইউটিউবিং করা ছাত্রদের জন্য খুব সহজ। বিভিন্ন ধরণের কন্টেন্ট তৈরী করে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে ভিউ এর উপর ভিত্তি করে গুগোল এডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম করতে পারে। তাছাড়া ভিডিওতে স্পন্সরের নাম বলে, কোনো পণ্যের প্রচারণা চালিয়ে, বিনোদন মূলক কনটেন্ট তৈনী করে কিয়বা শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে কনটেন্ট তৈরী করে ছাত্ররা আয় করতে পারবে। বর্তমানে অনেকেই আউটিউবের মাধ্যমে ইয় করছে এবং জনপ্রিয়তা পেয়ে যাচ্ছে। 

  ইউটিউবিং করতে প্রয়োজন

  • ভালো মানের ক্যামেরা ফোন / ক্যামেরা
  • উপস্থাপনার দক্ষতা
  • বিভন্ন কন্টেন্ট তৈনীর সৃজনশীলতা

পরিশেষে

ছাত্রদের অনলাইনে আয় করা বর্তমান সময়ে জনপ্রিয়। বেকারত্ব রোধ করতে এবং নিজে স্বাবলম্বি হতে ছাত্রদের আয় করা প্রয়োজন। আর এই হাতে খড়ি যদি অনলাইন থেকে হয় তবে সময় বাঁচার পাশাপাশি আয় করাও সম্ভব হবে। এই আর্টিকেলে ঘরে বসে আয় করার সব থেকে জনপ্রিয় মাধ্যম গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এসব বিষয়ের কোনো একটি মাধ্যমে লেহে পড়লে ছাত্ররা অনলাইনে আয় করতে সক্ষম হবে যারা অনলাইনে কিভাবে আয় করতে হয় জানতো না তারা জোনো যাবে। আশা করি আমাদের এই আর্টিকেল আপনাদের উপকৃত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button