লাইফ স্টাইল

চা কথন

চা(Tea).সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়।ছোটবড় বয়সভেদে এ পানীয় বেশীরভাগ মানুষ ই পছন্দ করে।সাধারনত চা পাতা থেকে চা তৈরী হয়।চা পাতা শুকিয়ে তা বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে এই চা বাজারজাত করা হয়।তারপর গরম জল ফুটিয়ে তাতে চা পাতা দিয়ে চা তৈরী হয়।অব‌শ্য অনেক ধরনের চা হয়।বাংলাদেশে সিলেট অঞ্চলে প্রচুর চা বাগান আছে।বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় পানীয় এই চা।

 

বাংলাদেশের কোথায় চা বাগান আছে এবং মোট চা বাগানের সংখ্যা:

বাংলাদেশে মোট 166 টি চা বাগান আছে।এরমধ্য সবচেয়ে বেশী আছে মৌলভীবাজার 91,হবিগঞ্জে 23,চট্রগ্রামে 22,রাঙামাটিতে 1,সিলেটে 20,পঞ্চগড়ে 5,ব্রাক্ষনবাড়িয়া 1,ঠাকুরগায়ে 1 টি।মূলত বাংলাদেশের বানিজ্যিক চা বাগান তৈরী করা হয় মালনীছড়াই।

চা কোথায় ভালো জন্মে:

চা পাতা মূলত মৌসুমি জলবায়ু,প্রচুর বৃষ্টিপাতজনিত এলাকা,এবং পাহাড়ের ঢালু জমিতে উৎপাদিত হয়।বৃষ্টির দিনে চা গাছ ভালো জন্মায়।কিন্তু চা গাছের গোড়ায় বৃষ্টির পানি জমলে তা চা গাছের জন্য ক্ষতিকর হয়।তাই পাহাড়ে ঢালু ভুমি চায়ের জন্য উৎকৃষ্ট।অবশ্য সমতল ভুমিও চা চাষের উপযোগী করে তুললে চা চাষাবাদ করা সম্ভব।

 

চা পাতা তোলার নিয়ম:

চা গাছ যদি ছাটা না হয় তবে তা 20 ফুটের ও বেশী লম্বা হতে পারে।তবে চা বাগানের গাছকে এত বড় হতে দেয়া হয় না।সর্বোচ্ছ 4 ইঞ্চিতেই রাখা হয় এর উচ্চতা। দুটি পাতা একটি কুঁড়ি ছিঁড়তে হয় চা শ্রমিকদের। চা পাতা ছেঁড়ার নিয়ম হলো দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি একইসঙ্গে তোলা। এটি ঠিকভাবে করতে না পারলে চায়ের মান নষ্ট হয়ে যায়। কাজটি খুবই শ্রম ও ধৈর্য্য সাপেক্ষ এবং দক্ষতার ব্যাপার। একইসঙ্গে এই তিনটি জিনিস মহিলারাই ভাল দেখাতে পারেন। ফলে বাগান কর্তৃপক্ষ এ কাজে সবসময় মহিলাদেরই নিয়োগ দিয়ে থাকে।

 

চায়ের পাতাকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়:

চায়ের পাতাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়- Broken, Fannings এবং Dust। এগুলো যথাক্রমে বড় থেকে ছোট আকারের পাতাকে নির্দেশ করে। সবথেকে ছোট আকারের পাতা মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত।

সমগ্র বিশ্বে চা উৎপাদনে বাংলাদেশ নবম।বাংলাদেশ প্রচুর পরিমানে চা উৎপাদিত হয়।বাংলাদেশের সব শ্রেনীর মানুষ ই চা পছন্দ করে।বাংলাদেশে চা উন্নয়ন বোর্ড রয়েছে- যা কিনা চায়ের আমদানি এবং রপ্তানিসহ নানাদিক নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। চা নানা ধরনের উপকারিতা আছে।আবার কিছু অপকারী দিক ও রয়েছে।অনেক সময় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে চা খেতে দেয়া হয় না।বাংলাদেশে সবর্ত্র ই চা খেতে দেখা যায়।অলিতে-গলিতে,রাস্তার মোড়ে,ফুটপাতে সব জায়গাই এই চা পাওয়া যায়। বেশিরভাগ পরিবারেই সকালের শুরু হয় চা দিয়ে।সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ গরম চা আর পত্রিকা প্রত্যেক বাঙালির দৈনন্দিন রুটিন।এই চা কিন্তু শুধু একটি পানীয় না এতে আছে হাজারো উপকারিতা।

চলুন জেনে আসি চা এর উপকারী দিক-

চা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। চায়ে আছে পলিফেনলস,ফ্ল্যাভোনয়েডস এবং ক্যাচেটিন।চায়ে উপস্থিত পলিফেনলসের পরিমান 25% এর বেশী যা দেহের অভ্যন্তরের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে। চা হার্টের জন্য উপকারী।কিডনীর জন্য ও।যেখানে সেখানে কেটে গেলে সবুজ চা পাতা বেটে লাগালে রক্ত পড়া বন্ধ হয় এবং ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। চা রক্তের কোলেস্টরেল কমায়।ডায়বেটিকসের জন্য চা খুব ই উপকারী। ঠান্ডা লাগলে চা বেশ উপকারী বটে।গরম চা খেলে গলায় বেশ আরামদায়কতা অনুভব হয়।এবং গলাও সেরে যায়।কাশিতেও গরম আদা লাল চা খুব কার্যকরী। চা নিয়ে ভ্রান্ত ধারনা রয়েছে।চা খেলে নাকি গায়ের রং কালো হয় এসব নিয়া কুসংস্কার আছে।চা খেলে গায়ের রং এর কোনো পরিবর্তন বিজ্ঞানীরা আজ অবধি বের করতে পারে নি।সুতরাং,গায়ের রং চায়ের কারনে খারাপ হয় না। চা খেলে শরীর সতেজ হয়।শরীরের সতেজতা বৃদ্ধি পায় এই চা খেলে।অনেক সময় কাজের অনীহা দূর করতেও সাহায্য করে এই চা। ঘুমঘুমভাব রোধ করে এই চা।চা খেলে ঘুম ঘুম ভাব কেটে যায়।এবং কাজের প্রতি আগ্রহ ফিরে আছে।শিক্ষার্থীদের অলসতা কাটাতে চা অনেক উপকারী।শিক্ষার্থীদের রাত জেগে পড়াশোনা করতে চা খুব কার্যকরী। ডায়েটের জন্য গ্রিন টি খুব ই উপকারী।আগে গ্রিন টিকে ওষুধ বলা হতো।এখন গ্রিন টি চা হিসেবে সর্বত্র ই জনপ্রিয়।প্রতিদিন গ্রিন টি খাবার অভ্যাস করলে শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমতে পারে না এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।গ্রিন টি শরীরে অতিরিক্ত মেদ কমাতে বেশ কার্যকরী। চায়ের লিকার চুলের জন্য ও বেশ কার্যকরী।শ্যাম্পুর পরে চায়ের লিকার দিয়ে চুল ধুলে চুল সিল্কি হয় এবং চুল পড়া কম হয়।চায়ের লিকার চুলে কন্ডিশনিং এর কাজ করে। অনেকে চায়ে অনেক পরিমান চিনি খায়।এটা ঠিক না। চা খাওয়া উচিত চিনি ছাড়া।খুব অসুবিধা হলে খুব অল্প পরিমান চিনি দিয়ে।চিনিতে রয়েছে অধিক পরিমান গ্লুকোজ যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। চা পাতার আরেকটি উপকারী দিক হলো চা তৈরী করার পর এর পাতা একটা কার্যকরী সার ও বটে।যেকোনো ফুল গাছের কিংবা শাক সবজির গোড়ায় এই চা পাতা দিলে গাছের গতি বৃদ্ধি পায়।এবং ফলন ও অধিক হয়।

 

চা এর প্রকারভেদ:

চা যে কত প্রকারের হয় তা গুনে শেষ করা যায় না। লাল চা,দুধ চা,মশলা চা,এলাচ চা,লেবু চা,আদা চা,মালাই চা,মাল্টা চা,মিক্স চা,পুদিনা চা,কমলা চা,তেতুল চা,চকলেট চা সহ আরো অনেক আছে। তবে এদের মধ্যে রং লাল চা,এলাচ চা,পুদিনা চা,আদা চা ,তুলসি চা এইসব বেশী ভালো।দুধ চা স্বাস্থ্যের জন্য তেমন উপকারী না বরং অনেকাংশে ক্ষতিও করে।দুধ চায়ে অতিরিক্ত পরিমানে চা পাতার দরকার হয়।যার ফলে চায়ে উপস্থিত ক্যাফেইনের মাত্রা অধিকাংশে বেড়ে যায়।তাই চিকিৎসকরা দুধ খেতে অনেকাংশে নিষেধ ও করে। চায়ের সাথে আদা মিশিয়ে তৈরী হয় আদা চা। চায়ের সাথে লেবু মিশিয়ে তৈরী হয় লেবু চা।পুদিনা পাতা,তুলসি সহ নানান জিনিসের মাধ্যমে তৈরী করা হয় চা।

 

শেষ কথা:

চা খুব সুস্বাদু সুগন্ধযুক্ত এক জনপ্রিয় পানীয়।এর উপকারিতা থাকলেও অপকারিতাও আছে।অধিক পরিমান চা খেলে নিদ্রাহীনতা দেখা যায়।চা তে আছে ক্যাফেইন।যা ঘুম ব্যাহত করে।তাই চা অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত আমাদের।অতিরিক্ত চা খেলে আবার চায়ের প্রতি আসক্তি ও দেখা দেয়।তাই এটি অভ্যাস করা কখনোই উচিত নয়।

অতিরিক্ত চা অনেক সময় হজমেও সমস্যা করে।অতএব,ভালো খান,,ভালো থাকুন।

 

লিখেছেন   : Sristy Saha  

ছবি :  ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button