ঘুমের উপকারিতা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য করণীয়


আমাদের প্রত্যেকের পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ ঘুমের মাধ্যমে আমাদের দেহ বিশ্রাম নেয়। আমরা সারাদিন যত কাজ করি তার ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে ঘুমের বিকল্প কোন মাধ্যম নেই। ঘুম শুধুমাত্র আমাদের দৈহিক ক্লান্তি দূর করে না ঘুমের কারণে আমাদের মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়। তবে অনেকেরই ঘুম না হওয়ার সমস্যা হয়ে থাকে। আমরা আজ ঘুম না হওয়ার কারন এবং এর সমাধান বিষয়ে জানব।মূলত ঘুম না হওয়ার কারণে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে।যেমন শারীরিক অথবা মানসিক কারণ।এর বাইরে থাকতে পারে পারিপার্শ্বিক কারণ।আপনি যদি ঘুম এর উপযুক্ত জায়গায় বসে ঘুমানোর চেষ্টা না করেন তাহলে কোনভাবেই আপনি একটি পরিপূর্ণ ঘুম দিতে পারবেন না। কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কখনোই ঘুমানো সম্ভব নয় কারণ আশেপাশের পরিবেশ আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাবে।আমাদের দৈনিক ৮ ঘন্টার মত সময় ঘুমানো উচিত।

আসুন আমরা ঘুমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম হলে আমাদের শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এর কার্যকলাপ সঠিক থাকে। কারণ ঘুমের মাধ্যমে আমাদের শরীর নতুন শক্তি সঞ্চার করে। এবং কাজ করার নতুন উদ্যম সৃষ্টি হয়। আমাদের স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি পায়। আমাদের মস্তিষ্ক সবসময় কোন না কোন বিষয় নিয়ে কাজ করতে থাকে। এর ফলে আমাদের মস্তিষ্কের চিন্তা দক্ষতা হ্রাস পায়। এবং মস্তিষ্কের কাজ সঠিকভাবে করতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু মস্তিষ্কের এই অনবরত কোন বিষয় নিয়ে কাজ করার ফলে যে ক্লান্তি আসে তা ঘুমের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমালে মাথা ঠান্ডা থাকে এবং কোন বিষয়ে খুব সহজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয় এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতাও কমে আসে। কারণ আমরা ঘুমালে আমাদের ব্রেইন বিশ্রাম পায় এবং তার কাজ গুলো নতুন ভাবে শৃংখলাবদ্ধ করে নেয়।

এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমালে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া। এবং রাগ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। রাস্তায় চলাচল করতে গেলে অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমালে চোখে ঘুম ঘুম আসে এর থেকে ঘটে যেতে পারে মারাত্মক কোনো দুর্ঘটনা। এবং যারা ড্রাইভ করেন তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে ডিপ্রেশন, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, হূদরোগ,অ্যালজাইমারস,ক্যান্সার, দুশ্চিন্তা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা পর্যন্ত হতে পারে।

যে সকল বিষয় খেয়াল রাখলে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো সম্ভব তা হল, ঘুমের জন্য চাই সঠিক এবং অনুকূল পরিবেশ কারণ প্রতিকূল পরিবেশে কখনোই একটি ভালো ঘুম পড়া সম্ভব নয়। প্রতিকূল পরিবেশ বলতে বোঝানো হয়েছে কোলাহল পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর, অপরিপাটি এবং পর্যাপ্ত শীতল বাতাসের অভাব থাকা স্থানে।

Bangla love

ঘুম যাওয়ার আগে আমাদের ঘুমের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যেমন বিছানা ঠিকঠাক করে নিতে হবে, কোলাহল যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে। আপনি চাইলে খুব আস্তে করে কোমল একটি গান চালিয়ে ধীরেসুস্থে ঘুমের প্রস্তুতি নিতে পারেন। এছাড়াও ঘুমের ক্ষেত্রে শারীরিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন তা একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। আপনি কাজ করে বা বাইরে থেকে এসে ঘুম পড়ার চেষ্টা করলে ঘুম আসতে সমস্যা হবে। কারণ কাজ করার ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের ধুলা-ময়লা ইত্যাদি থাকতে পারে তাই এমতাবস্থায় কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করে নেওয়া উত্তম।

ঘুমানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন।প্রতিদিন ঠিক একই সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন কারণ প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলে এবং ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করলে আমাদের দেহ সেটা অ্যাডজাস্ট করে নেয়। এবং প্রতিদিন এই নিয়ম গুলো ফলো করলে ঠিক একই টাইমে ঘুমানোর আপনি অভ্যস্ত হয়ে যাবেন এবং পরবর্তীতে আপনার এ বিষয়ে মনে না থাকলেও আপনার শরীর আপনাকে বলে দেবে ঘুমানোর কথা।

Bdtip and proshnoki

ঘুমের সময় মনকে শান্ত রাখার একান্তই জরুরী। কারণ বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তা করলে বা ভাবতে থাকলে কখনোই ঘুম আসা সম্ভব নয়। তাই ঘুমানোর জন্য মনকে শান্ত রাখতে হবে এবং স্বাভাবিক ভাবে থাকতে হবে তাহলে আপনার আপনি ঘুম চলে আসবে। এর বাইরে ও নিয়মিত ব্যায়াম করা হাঁটা এবং শারীরিক পরিশ্রম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারণ এগুলো পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

এছাড়া কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে যেমন ক্যাফেইন জাতীয় খাবার কম খেতে হবে এছাড়া ধূমপান এবং অ্যালকোহল জাতীয় দ্রব্য পান থেকে বিরত থাকতে হবে। এবং খালি পেটে ক্ষুদা পেটে ঘুমানো কখনোই উচিত না এতে কখনোই পরিপূর্ণ ঘুম আসবে না। একদিকে যেমন খালি পেটে ঘুমানো উচিত না তেমনি ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে পরিমিত পরিমাণে আহার গ্রহণ করতে হবে।

টিভি মোবাইল ট্যাব ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না ঘুমানোর আগে। কারণ মোবাইল বা ট্যাব এর ডিসপ্লে থেকে বের হওয়া আলো আমাদের মেলাটোনিকের নিঃসরণে পাশাপাশি আমাদের মনকে বিক্ষিপ্ত করে তোলে এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

Have any Question or Comment?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।