কফি লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

কফির আছে নানা গুণ। তবে সম্প্রতি এই কফির আরেকটি গুণের কথা প্রকাশ পেয়েছে। গবেষকদের সম্প্রতি পাওয়া এক তথ্যানুসারে কফি মানুষের লিভার ক্যান্সার (যকৃতের ক্যান্সার) প্রতিরোধ করে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে প্রতিদিন অন্তত এক কাপ কফি পানকারীরা অন্যদের চাইতে কম লিভার ক্যান্সারে ভুগে থাকেন।

৯ এপ্রিল ২০১৪ তে আমেরিকার স্যান ডিয়াগোতে হয়ে যাওয়া অ্যামেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যান্সার রিসার্চের বার্ষিক অনুষ্ঠানে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ১৯৯০ সালে এই গবেষণাটি শুরু হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতি, স্থান এবং ধরনের প্রায় ১৮০,০০০ হাজার মানুষের কাছে তাদের দৈনন্দিন অভ্যাস এবং কফি পান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে।

আইস কফি হাতে হাঁটছেন হলিউড অভিনেত্রী মিলা কুনিস (মিলেনা মার্কোভনা মিলা কুনিস; জন্ম ইউক্রেন, ১৯৮৩)

আইস কফি হাতে হাঁটছেন হলিউড অভিনেত্রী মিলা কুনিস (মিলেনা মার্কোভনা মিলা কুনিস; জন্ম ইউক্রেন, ১৯৮৩)

 

এরপর বক্তাদের ওপর প্রায় ১৮ বছর লক্ষ্য রেখে এবং মোট ৪৯৮ জনকে পরীক্ষা করে এই ফলাফলে এসে পৌঁছেছেন গবেষক দল। হেপাটোসেলুলার কারসিনোমা (hepatocellular carcinoma) নামের সবচাইতে কমন লিভার ক্যান্সারের কথা মাথায় রেখেই এই পরীক্ষাগুলি করা হয়েছে।

এতে দেখা গেছে প্রতিদিন যারা অন্ততপক্ষে এক থেকে তিন কাপ কফি পান করেন তাদের লিভার ক্যান্সার হবার আশঙ্কা সপ্তাহে ৬ কাপ বা তার চেয়ে কম কফি পানকারীদের চাইতে ২৯ শতাংশ কম। এবং আরো বলা হয়, প্রতিদিন যারা ৪ কাপ কফি পান করেন তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমে যায়।

গবেষকরা বলেন, আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি অনুসারে প্রতি ৮১ জনে একজন পুরুষ এবং প্রতি ১৯৬ জন মহিলায় একজন মহিলা জীবদ্দশায় ক্যান্সার আক্রমণের শিকার হন। কফি পানের মাধ্যমে যেটার সংখ্যা ২৯ ভাগ কমিয়ে কমিয়ে পুরুষের ক্ষেত্রে ১০৪ জনে একজন এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ২৫৩-তে একজনে আনা যেতে পারে। বয়স, ওজন, ধুমপান, মদ্যপান, যৌনতা এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও কফি একজন মানুষের ক্যান্সার হবার ঝুঁকি সবসময়ই কমিয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, গবেষণা কাজটি কেবল অ্যাসোসিয়েশনকে দেখানোর জন্যই করা হয়েছিল। এর পেছনে কোন কার্য-কারণ ছিল না। এটাও হতে পারে যে কফি পানকারীদের মধ্যে কফি পান ছাড়াও আরো কোন মিল আছে যেটা তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তারপরেও এটি কফির এমন গুণ সম্পর্কে বলা প্রথম কোন কথা নয়।

গত বছর ক্লিনিকাল গ্যাস্ট্রোনট্রোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি নামক এক জার্নালেও বলা হয়েছিল কফির এমন উপকারিতার কথা। ৩২০০ জন মানুষের ওপর করা জার্নালটিতে মোট ১৬টি গবেষণা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিদিন তিন কাপ কফি পানকারীরা ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অন্যদের চাইতে ৫০ শতাংশ কম ঝুঁকিতে থাকেন।

অ্যামেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির ভাইস প্রসিডেন্ট সুশান গ্যাপ্টসুর বলেন, এটা সত্যিই একটা ভাল গবেষণা। এটা কফির ক্যান্সার নিরাময়ের ক্ষমতা সম্পর্কে সবাইকে আরো বেশি জানতে সাহায্য করছে।

লিভার ক্যান্সারের সাথে সাথে কফি পান মাথা, ঘাড়, মূত্রনালী ও মূত্রাশয়, পেট, কণ্ঠনালী এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

তবে গবেষকরা এখনো কফি কীভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে সেটা বের করতে পারেন নি। গবেষণা কাজের লেখক ড. ভেরোনিকা ওয়েন্ডি সেটিয়াওয়ান বলেন, এটাই সবাই জানতে চায়।

ড. ভেরোনিকা ওয়েন্ডি সেটিয়াওয়ান

ড. ভেরোনিকা ওয়েন্ডি সেটিয়াওয়ান

সেটিয়াওয়ানের মতে কফিতে যকৃতকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা সম্পন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পলিফেনলস এবং ক্যাফেইনের মতন ১০০টি উপাদান থাকে।

আমার মনে হয না এখনো কারো ধারণা আছে যে কোন উপাদানটি ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে। বলেন তিনি।

আর্টিকেল সোর্স: V. Wendy Setiawan, Ph.D., assistant professor, department of preventive medicine, USC Norris Comprehensive Cancer Center, Los Angeles; Susan Gapstur, Ph.D., vice president, epidemiology, American Cancer Society, Atlanta; April 9, 2014, presentation, American Association for Cancer Research annual meeting, San Diego

Leave a Comment