আজও কেউ শিবের কৈলাস পর্বতে উঠতে পারেননি কেন?

মাউন্ট এভারেস্ট উচ্চতা ৮৮৪৮ মিটার আর আজ পর্যন্ত মাউন্ট এভারেস্টের শিঙ্গ বা চূড়ায় ৪৫০০ জন মানুষ পদার্পণ করেছেন কিন্তু অন্যদিকে মাউন্ট কৈলাশ বা কৈলাস পর্বতে -র উচ্চতা ৬৬৩৮ মিটার কিন্তু আজ পর্যন্ত কৈলাস পর্বতকে কেউ জয় করতে পারেনি । এখন স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মধ্যে একটা প্রশ্ন ওঠতে পারে যে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা ৮৮৪৮ মিটার কিন্তু কৈলাস পর্বতের উচ্চতা ৬৬৩৮ মিটার কিন্তু এর  সত্ত্বেও কেন কৈলাস পর্বতকে জয় করা সম্ভব হয়নি ।

এমন নয় যে এই পর্বতে ওঠার প্রচেষ্টা কেউ করেনি চেষ্টা তো বহু লোকে করেছেন কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ সফল হতে পারেনি । কৈলাস পর্বত তিব্বতের কৈলাস রেঞ্জ নামক পর্বতমালায় অবস্থিত । কৈলাস পর্বতের কাছে আর সমুদ্রতল থেকে ১৫০৬০ ফুট উঁচুতে ৩২০ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত মানস সরোবর আর ২৫০ কিলোমিটার জায়গা বিস্তৃত রাক্ষস তাল কৈলাস পর্বতের সবথেকে কাছের দুটি সরোবর ।

কৈলাস হিন্দু,বৌদ্ধ, জৈন এবং তিব্বতের ছোট্ট একটা সম্প্রদায় বন এই চার ধর্মের মানুষ কৈলাস পর্বতকে নিজেদের ধর্মস্থান মনে করেন । কৈলাস পর্বতকে ভগবান শিবের ধাম মনে করা হয় । কৈলাস সম্পর্কে সবথেকে চমকে দেয়ার মত তথ্য বিশ শতকের শুরুতে রাশিয়ার একটি বৈজ্ঞানিক টিম দিয়েছিলেন । এই বৈজ্ঞানিক টিম রিসার্চ করার পর দাবী করেন যে কৈলাস পর্বত বাস্তবে আসলে একটি পর্বতই নয় বরং এটি একটি পিরামিড ।

রাশিয়ার বৈজ্ঞানিক টিমের একজন scientist Dr Ernst Muldashev কৈলাস সম্পর্কে রিচার্জ করার পর লিখেন যে রাতের বেলা যখন চারিদিক নিঝুম হয়ে যায় তখন কারোর গলার আওয়াজ এখানে শোনা যায় । একবার তো আমি এমনও একটি শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম যে কেউ পাথর ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে যেটা নিশ্চিতই পর্বতের ভিতর থেকে আসছিল । Dr Ernst Muldashev-তো পর্বতের ভিতর কারোর উপস্থিতি অনুমানও করে ফেলেছেন আর এমনই বিভিন্ন রকমের ছোট-বড় কারণের জন্য কৈলাস আজ একটি রহস্যে পরিণত হয়েছে ।

এই সব কথা বাদ দিয়ে যদি আমি বাস্তবিকতা বলি তাহলে এই পর্বতের ঢাল অন্য পর্বতের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা অন্যদিকে কৈলাসের শিঙ্গ বা চূড়ার আকার একদমই সোজা Strait এবং ধারালো আর যার কারণে কৈলাস পর্বতকে জয় করা মোটেও সহজ নয় । আজ পর্যন্ত যত প্রচেষ্টা কৈলাস পর্বতকে জয় করার জন্য হয়েছে তারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন কারণের জন্য নিষ্ফল হয়েছেন ।

কৈলাসকে অজেয় তৈরি করার পেছনে আরো একটি কারণ আছে । কৈলাস হিন্দু বৌদ্ধ জৈন আর বন সম্প্রদায়ের জন্য পবিত্র একটি তীর্থস্থান । যেমনভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘাতে পার্দাপন করা নিষিদ্ধ ঠিক তেমনভাবে আজ কৈলাস পর্বতেও পার্দাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।

চীন সরকার ২০০১ সালে যখন স্প্যানিশ পর্বতারোহীদের অনুমতি দিয়েছিলেন কৈলাস পর্বতে আরোহনের জন্য তখন তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে বিরোধ হয়েছিল । আর তখন থেকেই চীন কৈলাস পর্বতে আরোহন করা নিষিদ্ধ করে দিয়েছে । এজন্যই ২০০১ সালের পরে কৈলাস পর্বতের উপর আরোহন করা আইনত অপরাধ ।

আজ হিন্দু বৌদ্ধ জৈন আর বন সম্প্রদায়ের লোক কৈলাসের পাদদেশে গিয়ে কৈলাসকে প্রদক্ষিণ করে কিন্তু প্রায় ৫২ কিলোমিটারের এই প্রদক্ষিণ করতে পুরো চার সপ্তাহ সময় লেগে যায় । কৈলাস তীর্থ যাত্রায় যাওয়া লোকেদের মতানুসারে কৈলাস-মানস সরোবরের যাত্রা খুবই রোমাঞ্চকর শান্ত আর সুখের অনুভব করায় ।

Leave a Comment