স্বাস্থ্য কমাতে কম পরিশ্রমের ১০টি ডায়েট

শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমানোর জন্য ডায়েট অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ডায়েটের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, যা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই অনেকেই শুরু করেও পরে ইচ্ছা ও উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। কিছু সহজ কাজের মাধ্যমে খুব সহজে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমিয়ে সুস্থ থাকা যায়।

১. বাস্তববাদী হওয়া

নিজেকে সবসময় অন্যের সৌন্দর্যের সাথে তুলনা করা উচিৎ না। আপনি যদি নিজের পছন্দ মত একটি পথ খুঁজে পান যার মাধ্যমে সঠিক খাদ্যগ্রহণ ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে নিজেকে খুশি রাখতে পারেন তাহলে সেটাই করুন।

২. নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ

কোনভাবেই অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাবেন না। মেয়োনিজ, পনির, সস, তেল, মাখন এসব আপনার পেটে চর্বি জমতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

৩. হালকা খেলাধুলা করা


প্রতিদিন কিছু হালকা খেলাধুলা করুন। বিকেলে বাড়ির আঙিনায় হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। এবং ধীরে ধীরে হাঁটার মাত্রা বাড়ান। এতে দেহের ক্যালরি ক্ষয় হবে এবং আপনাকে ফিট দেখাবে।

৪. পরিমিত নিদ্রা

সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবার জন্য ঘুমের অবদান অনস্বীকার্য। এজন্য ডাক্তাররা নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে খেয়াল রাখবেন, পরিমিত ঘুমের কথাই কিন্তু বলা হয়েছে। স্বল্পনিদ্রা যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, ঠিক তেমনি অধিক নিদ্রাও শরীরের জন্য উপকার করে না, বরং অপকারটাই করে।

অধিক নিদ্রার ফলে আপনার অলসতা বৃদ্ধি পাবে, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ম্যাজম্যাজ করবে এবং শারীরিক দুর্বলতা বৃদ্ধি পাবে। এমনকি আপনার যদি নিয়মিত অধিক নিদ্রা হয়, তবে সেটি আপনার কোন শারীরিক সমস্যর লক্ষণ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তাই অধিক ঘুম হলে সেটিও আপনার জন্য চিন্তার কারণই বটে!

৫. পরিমিত আহার

দিনে তিন বেলা ভারি খাবার খাওয়ার চেয়ে ৫ বেলা কম করে খান। একেবারে না খেয়ে থাকা ঠিক নয়। আবার একবারে বেশি করে খেলে সেটা থেকে শরীরে মেধ জমতে পারে। ভাত খাবার চেয়ে ফল বা সবজি বেশি করে খান। তাহলে পেট ভরবে কিন্তু মেধ জমবে না।

৬. ধীরে খাদ্য গ্রহণ

সময় নিয়ে ধীরে ধীরে খাদ্য গ্রহন করুন। দ্রুত খাবার গ্রহণ দেহের জন্য ক্ষতিকর। কেননা দ্রুত খাবার গ্রহণের ফলে অনেক সময় পাকস্থলী সঠিক প্রক্রিয়ায় খাদ্য পরিপাক করতে পারে না। ধীরে ধীরে সময় নিয়ে খাদ্য গ্রহণের ফলে পাকস্থলী সঠিক প্রক্রিয়ায় খাদ্য পরিপাক করে।

৭. মানসিক প্রস্তুতি

ডায়েট এর একটি অংশ হচ্ছে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ। যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে আপনাকে ভাবতে হবে আপনি কী চান। আপনি যদি শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে চান তাহলে আপনাকে মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। যাতে প্রয়োজনে আপনার সবচেয়ে প্রিয় খাদ্যটি আপনার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে পারেন।

৮. নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করুন

প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটুন। যে দূরত্বে হেঁটে যেতে পারবেন সেখানে রিকশা বা গাড়ি করে যাবেন না। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটুন। প্রথম কিছুদিন ক্লান্ত লাগলেও কয়েক দিন পর এটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে। ভুঁড়ি হবার অন্যতম কারণ খাবার ঠিকভাবে হজম না হওয়া। ঘুমাবার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খান এবং খেয়ে কিছুক্ষণ হাঁটুন। এতে খাবার ভালোভাবে হজম হবে। পেট বাড়বে না।

৯. পোষা প্রাণীকে সময় দিন

আপনার বাড়ির পোষা প্রাণীকে সময় দিন। আপনার যদি বাড়িতে বিড়াল থাকে তার সাথে বাড়ির ভিতর ছুটাছুটি করতে পারেন। একটি কুকুর থাকলে তাকে নিয়ে সকালে হাঁটতে যেতে পারেন। এতে আপনারও সকালের হাঁটার কাজ হল এবং আপনার পোষা প্রাণীরও হাঁটা হল।

১০. ভাবুন এবং মস্তিষ্ককে কাজে লাগান

শরীরের ক্যালরি কমানোর জন্য মস্তিষ্ককে ব্যাস্ত রাখুন। কোন শৈল্পিক চিন্তার ভিতরে রাখুন বা দাবা খেলতে পারেন। যার ফলে আপনার মস্তিষ্ক কাজ করবে। মস্তিষ্ক কর্মব্যাস্ত থাকলে প্রচুর ক্যালরি ক্ষয় হয়।

শেষ কথা

শরীরে মেধ যেকোনো বয়সের নারী বা পুরুষ উভয়ের জন্যেই ক্ষতিকর। তাই যারা ব্যায়াম করতে ইচ্ছুক না বা করতে পারেন না তারা এই ১০টি উপায় অনুসরন করে দেখুন। আশা করি আপনাদের উপকারে আসবে।

Leave a Comment