বিউটি টিপসস্বাস্থ্য

এই খাবারগুলি ফিরিয়ে আনবে আপনার হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য!

নিজের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলা অথবা হারিয়ে যাওয়া লাবন্যতা ফিরে পেতে কেই বা না চায়।  আমাদের সকলেই  একটু হলেও ইচ্ছে হয় আবার নিজের যেই হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য ফিরিতে আনার। চেহারায় উজ্জ্বলতা  ও  লাবন্যতা ভাব সকলেই চায়। কিন্তু সারাদিনের ব্যাস্ততা ও কাজের চাপে অরা অনেকেই সঠিক যত্নটা না নেওয়ার ভুলেই ফিরে পায় না নিজের আভিজাত্য। নিজ হারিয়ে যাওয়া রূপ-সৌন্দর্য ফিরে পেতে  আমাদের সকলেরই দরকার সঠিক ও যত্নশীল পরিবেশ, কিন্তু শুধু পরিবেশেই যে আমাদের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনবে তা নয়।  আপনার হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে দরকার সঠিক ও সুষম খাবার যা আপনাকে শুধু হেলদি রাখবে তা নয়। এই খাবার গুলো আপনাকে হেলদির পাশাপাশি আপনার হারিয়ে যাওয়া আভিজাত্য ফিরিয়ে পেতে অনেকটাই সাহায্য করবে। তাই ঘরে বসে নিজের অতীতের কথা না ভেবে বরং নিজের মাঝে এখনো থাকা সেই আভিজাত্য কে ফিরিয়ে পাওয়ার প্রচেষ্টায় লেগে পরুন।

 কেননা আজকের এই ব্লগে আপনারা জানতে পারবেন এমন কিছু খাবারের তালিকাসমুহ যা আপনার মাঝের সৌন্দর্য কে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করবে। আভিজাত্যই হোক আপনার সম্পদ।

সৌন্দর্য  বৃদ্ধিতে খাবারের গুরুত্ব 

আমাদের শরীরে এমন কিছু পুষ্টি ও ভিটামিন এর প্রয়োজন হয়ে থাকে যা আমরা আমাদের দৈনন্দিন খাবার থেকে পাই না। এর কারণ হলো সঠিক তালিকার খাবার না খাওয়া। তালিকাভুক্ত খাবার না খাওয়ায় আমরা আমাদের শরীর কে দিতে পারি না একটি সুষম বুস্ট । এতে করে আমাদের শরীরের সঠিক গ্রউথ ও হরমোন গত গ্রউথ হ্রাস পায়। আমাদের দৈনন্দিন খাবার থেকে আমরা যথেষ্ট শক্তি পেলেও মুলত তা আমাদের শরীরের সঠিক দরকার টা কিন্তু আর পুরণ করতে পারছে না। তাই এতে করে আমাদের অনেকেরই হারাতে হচ্ছে নিজেদের সৌন্দর্য ও চেহারার উজ্জ্বলতা। তাই সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে সুষম খাবারের নেই কোনো বিকল্প। 

যেসব উপাদান আমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে 

ভিটামিন-সি

ভিটামিন-এ 

ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স

ভিটামিন-ই 

ক্যালসিয়াম প্যান্টোথিনেট

জিংক

সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনবে যেই খাবারগুলোঃ

যেহেতু আভিজাত্য ধরে রাখতে সঠিক খাবারের কোনো বিকল্প নেই, সেহেতু আজ আমরা এমন কিছু খাবারের তালিকা সম্বন্ধে অবগত হবো যা আমাদের ডেইলি রুটিনে থাকা আবশ্যক। কেননা এই খাবারগুলো নিয়মিত গ্রহণের মাধ্যমেই আমরা আমাদের সৌন্দর্র্যের সঠিক পরিচর্যা করতে সক্ষম হবো।

দৈনন্দিন সুষম খাবারের তালিকাঃ

টক দই: এতে আছে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন-ডি, ভিটামিন – বি ২ ও বি- ১২ এবং মিনারেলস যা আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে অনেকটাই সাহায্য করে।  আমরা অনেকেই টক দই খেতে পারি না। কিন্তু। এটা ঠিক নয়, কেননা সঠিক খাবার গ্রহন করার মাধ্যমেই আমরা সঠিক জীবন ধারায় চলতে পারবো।

সালাদ: এতে ভিটামিন্স, মিনারেলস ও এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে  যা তারুণ্যতা বজিয়ে রাখে। টমেটো ও শশারসালাদ ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও অন্যান্য উচ্চ মানের সালাদ-ও আমাদের সৌন্দর্য বাড়াতে অনেকটাই সাহায্য করে।

শাক-সবজি: সবধরনের শাক-সবজিতে-ই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেলস থাকে। বিশেষ করে রঙিন শাক-সবজিতে বেটা ক্যারোটিন নামক এন্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় যেমন – গাজর, লাল শাক, মিষ্টি কুমড়া এছাড়াও সবুজ শাক-সবজিতে ক্লোরোফিল নামক এন্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় যেমন- বরবটি, শিম, ব্রোকলি ইত্যাদি। এগুলো ত্বকের লাবণ্যতা বাড়িয়ে দেয় এবং উজ্জ্বলতা বজায় রাখে।

ডিম: এতে পাওয়া যায় বায়োটিন, ভিটামিন এ, ডি ও ই। ত্বকের কোমলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চুলের বৃদ্ধি ঘটায় এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। 

অলিভ ওয়েল: এতে আছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন ই। অলিভ অয়েল সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ত্বক সুন্দর থাকে এবং চুলপড়া বন্ধ হয়।

ফল-মূল: সাধারণত সকল প্রকার ফল-মূল ত্বকের জন্য ভালো। মালটা, পাঁকা পেঁপে, কলা, আমলকী ইত্যাদি টক জাতীয় ফলে থাকে ভিটামিন-সি যা ত্বকের কাল দাগ, ব্রোন ও বলি রেখা দূর করে।

জবা ফুলের চা: জবা ফুলে এমনিতেই অনেক ওষধি গুণ থাকে। আর জবা ফুল থেকে তৈরি চা বর্তমানে খুবই জনপ্রিয়। অনেক গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আধারে, নিয়মিত জবার চা খেলে শরীরে শর্করা এবং স্টার্চের শোষণ হ্রাস পায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন হ্রাস পেতে শুরু করে। এছাড়াও বেশ কয়েকজন গবেষক জবার প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে আরেকটি তথ্য খুজে পায়, তাদের মতে জবা ফুলের চায়ে এমন কিছু উপাদান বৃদ্বমান, যা শরীরে অ্যামিলেস নামক একটি উপাদানের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এতে করে স্বাভাবিকভাবেই দেহের ওজন কমার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

জিংক: কেবল ত্বকের সৌন্দর্যই যে সৌন্দর্য তা কিন্তু নয়। আভিজাত্যের আরেক নাম হলো চুল। চুল না থাকলে আমাদের সৌন্দর্যই বৃথা। তাই চুল পড়া প্রতিরোধ করতে সহায়ক হবেন জিংক জাতীয় খাবার। ত্বকের কোষগুলোর জন্যও জিংক প্রয়োজন। গম, যব অথবা বিভিন্ন শস্যকণা সহ কাঁকড়া, চিংড়ি ও ঝিনুকে জিংক থাকে। ৫০ গ্রাম ঝিনুকে ৮.৫ মিলিগ্রাম জিংক থাকে। এছাড়াও মুরগির মাংস থেকেও জিংক পাওয়া যায়।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াবে যেসকল খাবারঃ

পানি: ত্বক-কে ভালো রাখতে বেশি বেশি করে পানি পান করার নেই কোনো বিকল্প। দৈনন্দিন অন্তত দেড় থেকে দুই লিটার পানি বা পানিয় খাদ্য খাওয়া আমাদের সকলেরই জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পানি ত্বকের ভাঁজ দূর করার পাশাপাশি শরীরে কোনো রকম চিনি জমতে দেয় না। এছাড়াও শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান ও রোগ-জীবাণু ঘামের মাধ্যমে বের করে দেয়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বকের কোষে সঠিক ভাবে পানি পৌঁছায় এবং ত্বককে সজীব রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও পরিমিত পানি পান করার মাধ্যমে ব্রণের উপদ্রবও কমে যায়। 

বাদাম: এতে পাওয়া যায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড এবং ভিটামিন-ই এর একটি অন্যতম উৎস। দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় বাদাম রাখলে এর মাঝে থাকা পুষ্টি উপাদানগুলো আ২মাদের ত্বককে আরও সজীব ও মোহনীয় করে তুলবে। তাই আমাদের সকলেরই দৈনন্দিন খাবার তালীকায় বাদাম সমুন্নত খাবার রাখা আবশ্যক। 

কুমড়া অথবা মিষ্টি কুমড়া: আপনার ত্বকের যত্নে সবজি হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন মিষ্টি কুমড়া কেননা এটা অনেক উপকারী খাদ্যের মাঝে অন্যতম। মিষ্টি কুমড়ায় থাকা বিটা ক্যারোটিন শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে। এছাড়াও ত্বককে উজ্জ্বল, নরম ও সতেজ রাখতে সহায়তা করে মিষ্টি কুমড়া। তাই খাবারের তালিকায় মিষ্টি কুমড়া অবশ্যই রাখবেন।

ব্রোকলী: পুষ্টিগুনের জন্য দেশ বিদেশে অনেক প্রচলিত একটি খাবার। এতে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে  ভিটামিন-সি, এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা ত্বকে গভীর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়। এছাড়াও ভিটামিন-ই সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মির ক্ষতি থেকে আমাদের ত্বককে রক্ষা করে।

কফি: কফিতে বৃদ্বমান ক্যাফেইন  যা পান করলেও ত্বকের ক্ষেত্রে নানান উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে কফি পানের পরিমাণ যদি মাত্রাতিরিক্ত হয় তাহলে এতে ত্বকে নানান সাইডইফেক্ট ও দেখা দিবে তাই সেই দিক খেয়াল রাখতে হবে।

 

শেষ কথা

উপরিউক্ত খাবারের তালিকা থেকে আপনিও ফিরে পেতে পারেন আপনার হারিয়ে যাওয়া আভিজাত্য। তাই আপনার দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় উপরিউক্ত খাবার গুলো বৃদ্বমান কি না তা অবশ্য খেয়াল করে দেখবেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button